Water Stunt in Howrah: অদম্য জেদ! রেকর্ড গড়তে কানায় কানায় ভরা জলের অ্যাকোরিয়ামে ৩০ ঘণ্টা কাটানোর চ্যালেঞ্জ হাওড়ার যুবকের

source : এইসময় অনলাইন
হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আজ থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচলতি মানুষ। চোখ ছানাবড়া ভিড়ের। রাস্তার ধারেই রাখা একটি প্রকাণ্ড কাচের বাক্স, যা কানায় কানায় জল দিয়ে ভরা। আর সেই জলের ভেতর আস্ত শরীরটা ডুবিয়ে ঠায় বসে রয়েছেন এক যুবক। কোনো জাদুখেলা বা ম্যাজিক শো নয়, এক অদ্ভুত ও রুদ্ধশ্বাস রেকর্ডের লক্ষ্যে নিজের জীবনকে বাজি রেখে জলের নিচে লড়াই চালাচ্ছেন হাওড়ার জাতীয় স্তরের সাঁতারু মুকেশ গুপ্তা।
মুখে বাঁশের নল, অ্যাকোরিয়ামে ২৪ ঘণ্টা পার মুকেশের
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বা প্রতিযোগী মুকেশ গুপ্তা কোনো সাধারণ যুবক নন, তিনি জাতীয় স্তরের সাঁতারের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। এবার নিজের নামকে কোনো বিশেষ রেকড বুকে তুলতে এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছেন তিনি।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ মুকেশ রামকৃষ্ণপুর ঘাটে বসানো ওই বিশাল কাচের অ্যাকোরিয়ামের ভেতর ঢোকেন। জলের নিচে টানা ৩০ ঘণ্টা থাকার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তিনি। জলের ভেতর যাতে দম আটকে না যায়, তার জন্য একটি দীর্ঘ ফাঁপা বাঁশের নল মুখের ভেতর নিয়ে রেখেছেন তিনি, যার অপর প্রান্তটি জলের উপরে খোলা হাওয়ায় রয়েছে। সেই নল দিয়েই চলছে তাঁর অক্সিজেন নেওয়ার প্রক্রিয়া। আজ, শনিবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই এই অভিযানের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছে।
ছেলের এই রুদ্ধশ্বাস ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে অ্যাকোরিয়ামের পাশেই ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন মুকেশের মা। প্রতি মুহূর্তে ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে তাঁকে ভরসা ও সাহস জুগিয়ে চলেছেন তিনি।
[অভিযানের টাইমলাইন]
৩ জুলাই (শুক্রবার) দুপুর ১২:৫০ - মুখে বাঁশের নল নিয়ে জলভর্তি কাচের বাক্সে ঢুকলেন মুকেশ।
৪ জুলাই (শনিবার) দুপুর ১২:৫০ - সফলভাবে জলের নিচে ২৪ ঘণ্টা সম্পন্ন করলেন সাঁতারু।
৪ জুলাই (শনিবার) সন্ধে - শরীরের চামড়া সাদা হতে শুরু করলেও লড়াই জারি মুকেশের।
লক্ষ্যমাত্রা: টানা ৩০ ঘণ্টা সম্পূর্ণ করে ৪ জুলাই রাত প্রায় ৭টা বা তার পরে জল থেকে বের হওয়া।
সাদা হচ্ছে শরীর, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘক্ষণ, বিশেষ করে টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জলের নিচে একই অবস্থায় ডুবে থাকার কারণে মুকেশের শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া কুঁচকে ও সাদা হতে শুরু করেছে, যা চিকিৎসকদের মতে দীর্ঘক্ষণ জল লাগার স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তবে সময় যত বাড়ছে, তাঁর শারীরিক ক্লান্তি ও ঝুঁকি ততটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মুকেশের এই বিপজ্জনক স্টান্ট দেখতে রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমে গিয়েছে। কৌতূহলী মানুষের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে। তবে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রকাশ্য রাস্তায় বা ঘাটের মতো জায়গায় কোনো চিকিৎসকের দল বা লাইফ সেভিং ইকুইপমেন্ট ছাড়া এই ধরনের জীবন সংশয়কারী ‘স্টান্ট’ করার বিষয়ে পুলিশ বা পুরসভার কোনো লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এক নজরে মুকেশের ওয়াটার স্টান্টের বিবরণ:
| চ্যালেঞ্জারের নাম | স্থান | অক্সিজেনের মাধ্যম | চ্যালেঞ্জের সময়সীমা | বর্তমান শারীরিক অবস্থা |
| মুকেশ গুপ্তা (জাতীয় সাঁতারু) | রামকৃষ্ণপুর ঘাট, হাওড়া | জলের উপরিভাগে থাকা একটি বাঁশের নল। | টানা ৩০ ঘণ্টা (শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু) | ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ায় শরীরের চামড়া সাদা হতে শুরু করেছে। |
মুকেশ গুপ্তার এই অদম্য জেদ এবং শারীরিক সহনশীলতা সত্যিই অবাক করার মতো। তবে স্টান্ট বা রেকর্ড গড়ার উন্মাদনা যেন কখনো জীবনকে বিপন্ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মুকেশ তাঁর ৩০ ঘণ্টার লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে সুস্থ শরীরে কাচের বাক্স থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন কি না এবং এই অভিনব চেষ্টার পর কোনো রেকর্ড বুক তাঁর নাম নথিভুক্ত করে কি না, সেটাই এখন দেখার।






