Messi Cries After Egypt Match: কোয়ার্টারে উঠেও হাউহাউ করে কান্না মেসির! কেন চোখ ফেটে জল এল আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তির? নিজেই জানালেন পেনাল্টি মিসের সেই ট্র্যাজেডি

source : সংবাদ প্রতিদিন
আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচের রেশ যেন কিছুতেই কাটছে না। রেফারিং বিতর্ক, ভিএআর (VAR) বিতর্ক এবং বর্ণবিদ্বেষের মারাত্মক সব অভিযোগের মাঝেই ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অদ্ভুত ও আবেগঘন দৃশ্য। মিশরের মুখ থেকে গ্রাস কেড়ে নিয়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। দল পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। অথচ ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই দেখা গেল, কোটি কোটি ভক্তের নয়নের মণি লিওনেল মেসি (Lionel Messi) মাঠের মধ্যে হাউহাউ করে কাঁদছেন। তাঁর চোখের জল কিছুতেই বাঁধ মানছে না। ম্যাচ জিতেও কেন এই কান্না? কোয়ার্টারে ওঠার পর নিজেই সেই ট্র্যাজিক রহস্য খোলসা করলেন আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তি।
“মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম”— কান্নার কারণ জানালেন মেসি
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে অসাধারণ এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফিরিয়েছিলেন লিওনেল মেসি নিজেই। কিন্তু গোল করা বা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল ম্যাচের প্রথমার্ধের একটি ভুল। ম্যাচের তখন মাত্র ২১ মিনিট, আর্জেন্টিনা যখন গোল করার জন্য মরিয়া, তখনই পেনাল্টি পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ফুটবল জাদুকর।
ম্যাচ শেষে নিজের চোখের জল সামলাতে সামলাতে মেসি বলেন—
“পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম। যদি আমি গোলটা করতাম, তাহলে ম্যাচের গতি তখনই ঘুরে যেতে পারত। আমরা পরে দুটো গোল খেয়েছি ঠিকই, তবে আমরা ভালো খেলছিলাম। ওই একটা মিসের জন্য যদি দল আজ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেত, আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না। সেসব ভেবেই আমার কান্না আটকে রাখতেই পারছিলাম না।”
একই ম্যাচে অনন্য কীর্তি ও লজ্জার বিশ্বরেকর্ড!
মিশর ম্যাচে গোল করার সাথে সাথেই চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৮-এ। গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে নিজেকে আরও মজবুত করলেন তিনি। কিন্তু মুদ্রার ওপিঠের মতো, এই ম্যাচেই তাঁর নামের পাশে জুড়ে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জার ইতিহাস।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি ফসকানোর রেকর্ড এককভাবে লিওনেল মেসির দখলে। ফুটবল মহাবৈশ্বিক এই মঞ্চে এ পর্যন্ত মোট ৪টি পেনাল্টি নষ্ট করেছেন তিনি। যার মধ্যে শুধুমাত্র এই ২০২৬ বিশ্বকাপেই দু-দুটি পেনাল্টি মিস করে বসলেন এলএম১০।
[বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি খতিয়ান]
* মোট পেনাল্টি মিস: ৪টি (বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ও লজ্জার রেকর্ড)।
* ২০২৬ বিশ্বকাপে মিস: ২টি (যার মধ্যে একটি মিশরের বিরুদ্ধে ২১ মিনিটে)।
* চলতি বিশ্বকাপে গোল: ৪ ম্যাচে ৮ গোল (সোনার বুটের দৌড়ে সবার আগে)।
“বিশ্বকাপে কোনো কিছুই সহজে মেলে না”— সতীর্থদের কুর্নিশ অধিনায়কের
ব্যক্তিগত পেনাল্টি মিসের গ্লানি থাকলেও সামগ্রিকভাবে দলের লড়াকু মানসিকতায় ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতায় অত্যন্ত গর্বিত আর্জেন্তিনীয় অধিনায়ক। মিশরের মতো কঠিন রক্ষণ ও শারীরিক ফুটবল খেলা দলের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পর যেভাবে আর্জেন্টিনা কামব্যাক করেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।
মেসি তাঁর দলের শক্তি নিয়ে বলেন, “আমরা জানতাম কামব্যাক করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত সময়ে না গিয়ে ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচটা জিতে ফিরতে পারাটা আমাদের সৌভাগ্য। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর মাথা ঠান্ডা রেখে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। বিশ্বকাপে কোনো কিছুই সহজে মেলে না। এই দলটা কতটা শক্তিশালী ও মানসিকভাবে দৃঢ়, তা আজ আরও একবার প্রমাণিত হলো। এই ছেলেদের সঙ্গে খেলাটা আমার কাছেও বড় সম্মানের।”
এক নজরে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ ও মেসির আবেগ:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ম্যাচের পরিসংখ্যান ও মেসির অনুভূতি |
| ম্যাচের চূড়ান্ত ফল | আর্জেন্টিনা জয়ী (২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর দুর্দান্ত কামব্যাক)। |
| মেসির পেনাল্টি মিস | ম্যাচের ২১ মিনিটে (যা ম্যাচের রূপ বদলে দিতে পারত)। |
| লজ্জার নজির | বিশ্বকাপে ৪টি পেনাল্টি নষ্ট করে ইতিহাসের শীর্ষে মেসি। |
| মেসির বর্তমান গোল | চলতি বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ৮টি গোল। |
| ম্যাচ শেষের অনুভূতি | অপরাধবোধ ও স্বস্তির মিশেলে মাঠের মাঝেই হাউহাউ করে কান্না। |
একজন মানুষের কাঁধে যখন গোটা দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন আর প্রত্যাশার চাপ থাকে, তখন পেনাল্টি মিসের মতো ঘটনা কতটা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে— লিওনেল মেসির এই চোখের জল তারই প্রমাণ। তবে ঈশ্বর হয়তো স্ক্রিপ্টটা অন্যভাবে লিখেছিলেন। নিজের ভুলকে শুধরে নিজেই গোল করে দলকে কোয়ার্টারে তুলেছেন। এই কান্না পরাজয়ের গ্লানির নয়, এই কান্না হলো খাদের কিনারা থেকে দলকে বাঁচানোর এক পরম স্বস্তির।






