Maharashtra Crime News: বোনকে বাঁচানোর মাশুল! ১৫ কিলোমিটার তাড়া করে পরিবারের ওপর রড-লাঠি নিয়ে হামলা, রণক্ষেত্র নাসিকের ইগতপুরী

source : আনন্দবাজার
যৌন হেনস্থার প্রতিবাদ করে হামলার মুখে (Attacked for protesting sexual harassment) পড়তে হলো সপরিবারে বেড়াতে যাওয়া মহারাষ্ট্রের নাসিকের এক পর্যটক পরিবারকে। রবিবার ছুটির দিনে পরিবারের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো ভগবত পরিবারকে, তা ফের একবার রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুরক্ষাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সিনেমার কায়দায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া করে পর্যটকদের গাড়ি আটকে লোহার রড ও লাঠি নিয়ে তাণ্ডব চালাল একদল উন্মত্ত যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে নাসিকের ইগতপুরী এলাকায়।
বাঁধের ধারে পিকনিকের মাঝেই অভব্যতা
পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার নাসিকের বাসিন্দা ভগবত পরিবার কাছাকাছি ভাবলি বাঁধ এবং একটি পাহাড়ি জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছিলেন। বর্ষার মরশুমে জলপ্রপাতের সামনে পিকনিক করে খাওয়াদাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা যখন গল্প করছিলেন, তখনই সেখানে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় যুবক অভব্য আচরণ শুরু করে।
অভিযোগ, যুবকেরা পরিবারের এক মহিলা সদস্যকে লক্ষ্য করে নানা রকম কুরুচিকর মন্তব্য করতে থাকে এবং একপর্যায়ে যৌন হেনস্থারও চেষ্টা করা হয়। নিজের বাড়ির সদস্যকে এভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন পরিবারের অন্যান্য পুরুষ ও মহিলারা। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বচসা শুরু হয়। সেই সময় পরিস্থিতি কোনোমতে শান্ত হলেও, অভিযুক্ত যুবকেরা যাওয়ার আগে ভগবত পরিবারকে চরম শিক্ষা দেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়।
১৫ কিলোমিটার ধাওয়া করে তাণ্ডবলীলা
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভগবত পরিবার দ্রুত জিনিসপত্র গুছিয়ে নিজেদের গাড়ি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু আসল আতঙ্ক তখনও অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য।
অভিযুক্ত যুবকেরা ৮-১০ জন সঙ্গী জোগাড় করে বাইক নিয়ে ওই পরিবারের গাড়ির পিছু নেয়। প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা তাড়া করার পর ইগতপুরীর একটি শুনশান এলাকায় গাড়ির সামনে বাইক আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে পথ আটকে দেয় দুষ্কৃতীরা। এরপরই শুরু হয় উন্মত্ত তাণ্ডব।
গাড়ির ভেতরে থাকা এক মহিলা সদস্য আতঙ্কের মুহূর্ত স্মরণ করে বলেন—
“আমরা যখন গাড়িতে গিয়ে বসি, সেই সময় থেকেই যুবকেরা আমাদের আটকানোর চেষ্টা করছিল। গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলেও ওরা পিছু ছাড়েনি। ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া করার পর আমাদের গাড়ি আটকে রড, লাঠি দিয়ে উইন্ডশিল্ড ও জানলা ভাঙচুর করে। আমার স্বামীকে ও পরিবারের বাকিদের বেধড়ক মারধর করা হয়। আমরা ভেতরে আতঙ্কে চিৎকার করছিলাম।”
[নাসিক হামলার ঘটনার ক্রনোলজি]
* দুপুর: ভাবলি বাঁধে ভগবত পরিবারের পিকনিক ও মহিলাদের উত্যক্তকরণ।
* বিকেল ৪:০০: ঘটনার প্রতিবাদ ও দুষ্কৃতী বনাম পরিবারের বচসা।
* বিকেল ৪:৩০: ১০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতীর বাইকে করে ১৫ কিমি ধাওয়া।
* বিকেল ৫:০০: গাড়ি আটকে রড ও লাঠি দিয়ে ভাঙচুর ও হামলা।
* সোমবার সকাল: পুলিশের তদন্ত শুরু, ৬ জন মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার।
তদন্তে পুলিশ, গ্রেফতার ৬
হামলা চালিয়ে এবং সপরিবারে মারধর করার পর ভগবত পরিবারের চিৎকার শুনে স্থানীয় মানুষ এগিয়ে আসার আগেই ঘটনাস্থল ছেড়ে চম্পট দেয় হামলাকারী যুবকেরা। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারটি স্থানীয় ইগতপুরী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে নাসিক গ্রামীণ পুলিশ দ্রুত তল্লাশি অভিযানে নামে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ানের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে যাওয়া পর্যটক পরিবারের ওপর এই ধরণের সংগঠিত সড়ক হিংসা ও নারী লাঞ্ছনার ঘটনা মহারাষ্ট্রের পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের দাবি, পর্যটনস্থলগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় সমাজবিরোধীরা এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে তাণ্ডব চালানোর সাহস পাচ্ছে। ধৃত ৬ জনের বিরুদ্ধে কড়া ধারায় মামলা রুজু করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে নাসিক পুলিশ প্রশাসন।






