Argentina vs England Semifinal: জার্সি বদলের ‘মগজাস্ত্র’ খেলল আর্জেন্টিনা! হ্যারি কেনদের চাপ বাড়াতে ফিফার ছাড়পত্র পেলেন মেসিরা

source : সংবাদ প্রতিদিন
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই একাধিক মহলে আলোচনা চলছিল যে, চলতি টুর্নামেন্টে বেশ কিছু বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনা। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেমিফাইনালের আগে এক অদ্ভুত ‘মগজাস্ত্র’ প্রয়োগ করল গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠের লড়াইয়ের আগেই মানসিক যুদ্ধ শুরু করে দিল আর্জেন্টিনা শিবির। সূত্রের খবর, বুধবার রাতের হাইভোল্টেজ ম্যাচে হ্যারি কেনদের বিরুদ্ধে গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরে নামার জন্য ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছিল আর্জেন্টিনা, এবং সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়েছে। ফলে বুধবার গভীর রাতে পরিচিত নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে না মেসিদের (Messis will not be seen in familiar blue-white jersey)।
‘কাবালা’ ও ৪ দশকের পুরনো ইতিহাস
ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই সেখানে টানটান উত্তেজনা এবং ফুটবলীয় যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধের ইতিহাস ঘাঁটলে উঠে আসে কিছু অদ্ভুত কুসংস্কার, যা আর্জেন্টিনায় ‘কাবালা’ (Cabala) নামে পরিচিত। এই কুসংস্কার অনুযায়ী, নকআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদার পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের অ্যাওয়ে কিটে মাঠে নামলে সৌভাগ্য বয়ে আসে লাতিন আমেরিকার দলটিতে।
ইতিহাসও কিন্তু এই কুসংস্কারের পক্ষেই কথা বলছে:
- ১৯৮৬ বিশ্বকাপ: মেক্সিকোর কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’ এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার পরনে ছিল গাঢ় নীল জার্সি। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে শেষ হাসি হেসেছিল মারাদোনারাই।
- ১৯৯৮ বিশ্বকাপ: ফ্রান্সে আয়োজিত বিশ্বকাপে আবারও নকআউটে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবারও গাঢ় নীল জার্সি পরেই টাইব্রেকারে থ্রি-লায়নসদের ছিটকে দিয়েছিল ওর্তেগা-বাতিলতুতাদের আর্জেন্টিনা।
নীল-সাদা জার্সি এবং ২০০২-এর ট্র্যাজেডি
বিপরীত দিকে, ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের চিরপরিচিত আকাশী-সাদা হোম জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। আর সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহ্যামের একমাত্র পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল লিয়োনেল মেসিদের পূর্বসূরিদের।
ইতিহাসের এই সমস্ত খতিয়ান মাথায় রেখেই গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজদের শিবির থেকে এবার ফিফার কাছে এই বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছিল। তাদের মতে, গাঢ় নীল রঙটি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে এবং ইংরেজ ফুটবলারদের ওপর তৈরি করবে বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ।
[ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা: জার্সির ইতিহাস]
* ১৯৮৬ বিশ্বকাপ (কোয়ার্টার ফাইনাল): গাঢ় নীল জার্সি (আর্জেন্টিনা জয়ী ২-১)
* ১৯৯৮ বিশ্বকাপ (নকআউট): গাঢ় নীল জার্সি (আর্জেন্টিনা জয়ী টাইব্রেকারে)
* ২০০২ বিশ্বকাপ (গ্রুপ পর্ব): নীল-সাদা জার্সি (ইংল্যান্ড জয়ী ১-০)
* ২০২৬ বিশ্বকাপ (সেমিফাইনাল): গাঢ় নীল জার্সি (ফলাফল সময়ের অপেক্ষায়...)
চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার অন্য জার্সিতে মেসিরা
এখনও পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলা সবকটি ম্যাচেই নিজেদের চেনা আকাশী-সাদা স্ট্রাইপ জার্সিতে খেলেছে আর্জেন্টিনা। প্রতিটি ম্যাচেই এসেছে দুর্দান্ত জয়। তবে সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এসে নিজেদের অপরাজিত হোম কিট ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন অ্যাওয়ে কিটে মাঠে নামার ঝুঁকি নিল আর্জেন্টিনা। একেই অনেকে আর্জেন্টিনার মাঠের বাইরের ‘মগজাস্ত্র’ বলে অভিহিত করছেন।
এক নজরে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের নকআউট দ্বৈরথ:
| বিশ্বকাপের বছর | আর্জেন্টিনার জার্সি | ম্যাচের ফলাফল | মূল আকর্ষণ |
| ১৯৮৬ | গাঢ় নীল (Away) | আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড | মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল। |
| ১৯৯৮ | গাঢ় নীল (Away) | আর্জেন্টিনা জয়ী (পেনাল্টি) | ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড। |
| ২০০২ | আকাশী-সাদা (Home) | ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা | ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোল। |
| ২০২৬ | গাঢ় নীল (Away) | ? | মেসি বনাম কেনদের সেমিফাইনাল দ্বৈরথ। |
ফুটবল ম্যাচ জেতার জন্য কেবল মাঠের খেলাই শেষ কথা নয়, আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে চাপে রাখাও অন্যতম বড় রণকৌশল। ফিফার এই সবুজ সংকেতের পর ইংল্যান্ড ফুটবল দল যে জার্সি সংক্রান্ত এই ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান নিয়ে কিছুটা হলেও ভাববে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, বুধবার মাঝরাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মাঠের আসল ফুটবলে শেষ হাসি কারা হাসে—আর্জেন্টিনার এই বহুচর্চিত ‘মগজাস্ত্র’ নাকি ইংল্যান্ডের তারুণ্যের গতি।






