বিরোধীদের প্রচণ্ড হট্টগোলের মধ্যে লোকসভায় পেশ ‘প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল’! শিক্ষার্থীদের ওপর প্যালেট গানের ব্যবহারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি চাইল কংগ্রেস

source : সংবাদ প্রতিদিন
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল দেশের রাজনীতি। গত সপ্তাহে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের ক্ষোভ সোমবার সরাসরি আছড়ে পড়ল লোকসভার কক্ষে। একদিকে সরকার কঠোর আইন এনে প্রশ্নফাঁস রুখতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টিকে ‘আইওয়াশ’ বা আইনি নাটক আখ্যা দিয়ে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।
রিজিজুর বার্তা উ উড়িয়ে লোকসভায় বিরোধীদের শোরগোল
অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীদের উদ্দেশে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন—
“দেশের কোটি কোটি পরীক্ষার্থী ও ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই আমরা এই বিল আনছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত চক্রকে গুঁড়িয়ে দিতে বিলটি পাস করা আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এই মুহূর্তে অন্য কোনো রাজনীতি না করে বিরোধী দলগুলির গঠনমূলক সহযোগিতা আশা করছি।”
তবে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিলটি পেশ করার সাথেই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। বিরোধীদের স্লোগানবাজিতে স্পিকার বাধ্য হয়ে দুপুর ২টো পর্যন্ত লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম স্থগিত রাখেন।
“অপরাধী ছাড় পায়, শিক্ষামন্ত্রী সফল থাকেন!”— কংগ্রেসের তোপ
বিল পাসের কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ গৌরব গগৈ।
সরকারের দ্বিমুখী নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন—
“দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আর এই সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে স্রেফ লোক দেখাতে এই প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল এনেছে। ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি নিট কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত কীভাবে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে গেল! অভিযুক্তদের বাঁচাতে সিদ্ধহস্ত যে সরকার, তাদের ফাস্ট-ট্র্যাক সংশোধনীর নাটক দিয়ে কী লাভ? এরা নাকি এখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সফল শিক্ষামন্ত্রী মনে করে!”
[প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল বনাম বিরোধীদের মূল দাবি]
* কেন্দ্রীয় প্রস্তাব: প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত ও জামিনঅযোগ্য কঠোর শাস্তির ধারা।
* বিরোধীদের আপত্তি: মূল চক্রীদের আড়াল করা হচ্ছে, বিলটি স্রেফ লোক দেখানো রাজনীতি।
* প্রধান দাবি: ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি তাণ্ডবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি।
“পড়ুয়ারা কি জঙ্গি?”— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা প্রিয়াঙ্কা ও পবন খেরার
সংসদ ভবনের বাইরেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ঝাঁজ বাড়ান কংগ্রেস নেতৃত্ব। ২০শে জুলাই দিল্লির রাজপথে সিজেপি ও পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের কড়া সমালোচনা করা হয়।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তোলেন—
“আন্দোলনকারী ছাত্রীদের সাথে পুলিশি বর্বতা চালানো হয়েছে। সাদা পোশাকে কারা মারল সাধারণ শিক্ষার্থীদের? তারা কি আরএসএসের গুন্ডা? দেশের বুকে নিজের দেশের ছাত্রছাত্রীদের ওপর প্যালেট গান ও জলকামান ব্যবহার করা হচ্ছে! পড়ুয়ারা কি জঙ্গি? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে দাঁড়িয়ে জবাব দিতেই হবে।”
এক নজরে লোকসভায় বিল বিতর্কের চিত্র:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | শাসক শিবিরের অবস্থান | বিরোধী শিবিরের পাল্টা দাবি |
| পাবলিক একজামিনেশন বিল | প্রশ্নফাঁস রুখতে ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে জরুরি। | অপরাধীদের বাঁচিয়ে রেখে লোক দেখানোর আইনি ফাঁদ। |
| শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা | শিক্ষামন্ত্রী নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন। | ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে ইস্তফা দাবি। |
| ২০ জুলাইয়ের ঘটনা | আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ। | পুলিশ ও আরএসএস গুন্ডাদের দিয়ে প্যালেট গান ও হামলা। |
পাবলিক একজামিনেশন সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে মোদি সরকার নিট কাণ্ডের জলঘোলা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, বিরোধী শিবির ছাত্র নিগ্রহের ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রক— উভয়কেই একযোগে চেপে ধরেছে। অমিত শাহের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত সংসদে এই অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে।






