মেগা সাইবার বিপর্যয়! ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সার্ভার হ্যাক করে ১ টিবি গ্রাহক তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁসের দাবি, প্রশ্নের মুখে কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তা

source : সংবাদ প্রতিদিন
দেশের ব্যাঙ্কিং ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নেমে এল বড় আঘাত। দেশের প্রথম সারির রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ‘ব্যাঙ্ক অফ বরোদা’ (Bank of Baroda)-র মূল সার্ভারে হানা দিয়ে কোটি কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক নথিপত্র ডার্ক ওয়েবে ফাঁস করার অভিযোগ উঠল। প্রায় ১ টেরাবাইট পরিমাণ এই বিশাল ডেটা ফাঁসের ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে গ্রাহকদের আর্থিক সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখ দাঁড়িয়েছে ব্যাঙ্কিং খাত।
১ টিবি ডেটা ফাঁসে প্রকাশ্য আধার ও নেট ব্যাঙ্কিং রেকর্ড
গত ২৫ জুলাই প্রথমবার ডার্ক ওয়েব ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ransomware.live’-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্কের গোপন নথি বিক্রির তথ্য সামনে আসে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ক্যাশলেসকনজিউমার’-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকান্ত লক্ষ্মণ চুরিকৃত ফাইলের নমুনা পরীক্ষা করে বিষয়টিকে দেশের জন্য ‘সাইবার বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ফাঁস হওয়া ১ টিবি ডেটার মধ্যে উদ্ধার হয়েছে—
- সাধারণ ও কর্পোরেট গ্রাহকদের সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্টের রেকর্ড।
- লোন অ্যাপ্রাইজাল, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও ব্রাঞ্চ অডিটের গোপন নথি।
- গ্রাহকদের নাম, ফোন নম্বর, আবেদনের নথিপত্র এবং নথিভুক্ত আধার ডিটেইলস।
- নেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ও এটিএম (ATM) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা।
[ফাঁস হওয়া ডেটার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ]
* আক্রান্ত প্রতিষ্ঠান: ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda)।
* চুরিকৃত ফাইলের পরিমাণ: ১ টেরাবাইট (1 TB)।
* প্রথম শনাক্তের তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৬।
* সন্দেহভাজন হ্যাকার দল: 'TripleX' (পূর্বেও ইন্দোনেশিয়ান ব্যাঙ্কে ২ টিবি ডেটা হ্যাক করেছিল)।
* প্রশাসনিক মন্তব্য: আরবিআই (RBI) বা ব্যাঙ্কের তরফে অফিসিয়াল বক্তব্য মেলেনি।
নেপথ্যে নতুন হ্যাকার দল ‘TripleX’?
যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সাইবার বিশেষজ্ঞ শ্রীকান্তের অনুমান এর পেছনে রয়েছে ‘TripleX’ নামের একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্যাং। সম্প্রতি এই দলটি ইন্দোনেশিয়ার একটি ব্যাংকের প্রায় ২ টিবি ডেটা চুরি করে আন্তর্জাতিক শিরোনামে এসেছিল।
বর্তমানে পুরো ঘটনাটি জাতীয় সাইবার ক্রাইম টিমের নজরে থাকলেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) কিংবা বরোদা ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সমান্তরাল সাইবার হামলা: কুদানকুলাম পরমাণু কেন্দ্রও নিশানায়
ব্যাঙ্ক অফ বরোদার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা পরিকাঠামোয় বড়সড় ফাঁক উন্মোচিত হয়েছে। তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পরমাণু কেন্দ্রের প্রজেক্ট কন্টাক্টর প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স এডিএজি (Reliance ADAG)-র একটি সার্ভার হ্যাক করে প্রায় ১৯,০০০টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফাইল ডার্ক ওয়েবে লিক করেছে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ (World Leaks) নামের অপর একটি হ্যাকিং দল।
ফাঁস হওয়া নথির মধ্যে রয়েছে—
- পরমাণু কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশের পরিকাঠামোগত ও স্থাপনার ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা।
- অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের ডিজাইন ও সাপ্লায়ারদের গোপন তালিকা।
- হাই-সিকিউরিটি জোনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা।
এক নজরে দুই সাইবার হামলার তুলনা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (Bank of Baroda) | কুদানকুলাম পরমাণু কেন্দ্র |
| ফাঁস হওয়া ফাইল | ১ টিবি ব্যাঙ্কিং ও গ্রাহক তথ্য | ১৯,০০০টি পরিকাঠামোগত নথিপত্র |
| আক্রান্ত বিষয়াবলি | অ্যাকাউন্ট, লোন ও গ্রাহকের ব্যক্তিগত নথি | প্ল্যান্ট নকশা, যন্ত্রাংশ ও নিরাপত্তা নথি |
| সন্দেহভাজন দল | TripleX | World Leaks |
ব্যাঙ্ক অফ বরোদা থেকে ১ টিবি গ্রাহক তথ্য চুরি এবং পরমাণু কেন্দ্রের নথি ফাঁসের জোড়া ঘটনা ভারতের সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও একবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। আমজনতার আর্থিক নিরাপত্তা ও দেশের কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় কেন্দ্র সরকার এবং শীর্ষ ব্যাঙ্কগুলো তড়িঘড়ি কী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার।






