Smart Meter Big Announcement: ডোমেস্টিক গ্রাহকদের ওপর জোর করে স্মার্ট মিটার নয়! বামেদের কটাক্ষ করে বিধানসভায় ধামাকা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

source : Pratidin Sangbad
বিগত কয়েক মাস ধরে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে রাজ্য রাজনীতির ময়দান ছিল বেশ উত্তপ্ত। বামপন্থী দলগুলি থেকে শুরু করে একাধিক গণসংগঠন রাজপথে নেমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে এক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট মিটার নেওয়ার বিষয়টি আর বাধ্যতামূলক থাকছে না।
“প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্দেশ, জোর করে স্মার্ট মিটার নয়”— বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার বিদ্যুৎ দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পর বুধবার বিধানসভায় বড় সিদ্ধান্ত শোনান মুখ্যমন্ত্রী।
বাজেটের জবাবি ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন—
“একটা কথা শুনলে বামপন্থীদের হাওয়া বেরিয়ে যাবে! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে ভারত সরকার ডোমেস্টিকের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার লাগানো বাধ্যতামূলক করছে না। পুরোটাই ঐচ্ছিক। জোর করে সাধারণ মানুষের ওপর স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এই সরকার পুরোপুরিভাবে মানুষের জন্য এবং মানুষের দিকে তাকিয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার সাথে সাথেই ভেস্তে গেল বাম ও এসইউসিআই (SUCI)-এর প্রতিবাদের মূল জায়গা। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার মিছিল বন্ধ! সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজনীতি করার সুযোগ আমরা দেব না।”
‘যাদবপুর পার্টি’কে সাবধানী বার্তা ও কড়া হুঁশিয়ারি
আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে তথাকথিত বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও ‘যাদবপুর পার্টি’র ওপর কড়া নজর রাখার কথা বলেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি—
“যাদবপুর পার্টি একটু সাবধান থাকুন! আমি কিন্তু কড়া নজর রাখছি। বেশি বাড়তে দেব না। মনে রাখবেন, এটা কোনো দুর্বল সরকার নয়, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সরকার।”
[বিদ্যুৎ দপ্তরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মেগা প্যাকেজ ও ঘোষণা]
* ডোমেস্টিক স্মার্ট মিটার: সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক (বাধ্যতামূলক নয়)।
* পিএম কুসুম স্কিম (PM Kusum): সেচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ₹২ ভর্তুকি।
* বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: নতুন পাওয়ার ইউনিট তৈরির ছাড়পত্র।
* ডিভিসি ও পাঞ্চেৎ: ১০০০ মেগাওয়াটের মেগা এনার্জি স্টোরেজ প্রজেক্ট।
* ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রকল্প: ৯টি সীমান্ত জেলায় বিদ্যুৎ উন্নয়নে বাড়তি ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
কৃষকদের বিদ্যুতে স্বস্তি ও রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় নতুন জোয়ার
স্মার্ট মিটারের পাশাপাশি রাজ্যের কৃষক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেচের কাজে কৃষকদের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্পের আওতায় সৌর শক্তি ব্যবহারকারী চাষীদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অতিরিক্ত ২ টাকা করে সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়াও, রাজ্যের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি নতুন ইউনিট চালু এবং ডিভিসি ও পাঞ্চেৎ জলাধার মিলে ১,০০০ মেগাওয়াটের সুবিশাল স্টোরেজ পাওয়ার স্টেশন গড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে শুভেন্দু প্রশাসন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের অধীনে সীমান্তবর্তী ৯টি জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের পরিকাঠামো সাজাতে অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে বিদ্যুতে নতুন সরকারি সিদ্ধান্তসমূহ:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মুখ্যমন্ত্রীর মূল সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা |
| ডোমেস্টিক স্মার্ট মিটার | বাধ্যতামূলক নয়, সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। |
| কৃষি সেচে ছাড় | পিএম কুসুম প্রকল্পে সৌর বিদ্যুতে ইউনিট প্রতি ₹২ অতিরিক্ত ভর্তুকি। |
| বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্প্রসারণ | বক্রেশ্বরে নতুন ইউনিট এবং ১০০০ মেগাওয়াট স্টোরেজ প্রজেক্ট। |
| সীমান্তবর্তী বিদ্যুৎ উন্নয়ন | ভাইব্রেন্ট ভিলেজে অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকার বড় বাজেট। |
স্মার্ট মিটার নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের হাওয়া এক ঝটকায় কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি আমজনতার স্বস্তি নিশ্চিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ না ফেলে বিদ্যুতের আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের আর্থিক ছাড় দেওয়ার এই নতুন রোডম্যাপ রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করল।






