“আমায় ক্ষমা কোরো, একটা ইচ্ছাও পূরণ করতে পারলাম না!” মহারাষ্ট্রে রি-নিটের ফলের পর ১৯ বছরের পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা, উদ্ধার মর্মান্তিক সুইসাইড নোট

source : সংবাদ প্রতিদিন
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন, মা-বাবার প্রত্যাশা এবং নিট (NEET) পরীক্ষা ঘিরে দেশে চলতে থাকা চরম অস্থিরতার বলি হলেন আরও এক তরুণী। সর্বভারতীয় ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নে (Re-NEET) আশানুরূপ ফল না পেয়ে গভীর হতাশায় আত্মহত্যা করলেন মহারাষ্ট্রের ১৯ বছরের পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালে। চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজের আবেগঘন সুইসাইড নোটে মা-বাবার কাছে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়ে গেছেন তিনি।
ফাঁকা বাড়িতে চরম সিদ্ধান্ত, উদ্ধার আবেগঘন সুইসাইড নোট
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের আহিল্যনগর জেলায়। শনিবার পরিবারের সদস্যরা যখন বাড়িতে ছিলেন না, ঠিক তখনই নিজের ঘরের সিলিং ফ্যানে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন ১৯ বছর বয়সি অঙ্কিতা সাঙ্গালে। পরে পুলিশ এসে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে অঙ্কিতা লিখেছেন—
“মা, বাবা তোমরা আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছ। কিন্তু তোমাদের একটাও ইচ্ছা পূরণ করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা কোরো। আমার এই সিদ্ধান্তের জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার চলে যাওয়া নিয়ে মন খারাপ কোরো না। অনেক ত্যাগস্বীকার করেছি, কিন্তু ফল হল না।”
প্রথম পরীক্ষায় ভালো প্রত্যাশা, কিন্তু রি-নিটে মিলল মাত্র ১৬৬
অঙ্কিতার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত প্রথম নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার জন্য চরম পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন অঙ্কিতা। পরীক্ষা দেওয়ার পর তাঁর ভালো ফলের আশাও ছিল। কিন্তু দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর কেন্দ্র সরকার সেই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে ফের পরীক্ষা (Re-NEET) নেওয়া হলে অঙ্কিতা মাত্র ১৬৬ নম্বর পান। প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম নম্বর পাওয়ায় চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি এবং গত কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদের চরম পরিণতিতেই শনিবার প্রাণ দিলেন এই তরুণী।
[অঙ্কিতা সাঙ্গালের আত্মহত্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ]
* নাম: অঙ্কিতা সাঙ্গালে (বয়স: ১৯ বছর)।
* ঘটনাস্থল: আহিল্যনগর, মহারাষ্ট্র।
* কারণ: রি-নিটে (Re-NEET) কম নম্বর (১৬৬) পেয়ে তীব্র মানসিক হতাশা।
* সুইসাইড নোট: উদ্ধার হয়েছে (পরিবারের প্রতি ক্ষমা ও আক্ষেপ প্রকাশ)।
নিট বিতর্কে এ পর্যন্ত ১৪ প্রাণহানি, তোলপাড় দেশ
গত ৩ মে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রশ্নফাঁসের জেরে তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। আন্দোলন, আইনি লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের পর থেকেই একাধিক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে আসতে শুরু করে। সব মিলিয়ে নিট সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার জেরে দেশে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন পড়ুয়া চরম পথ বেছে নিলেন।
শনিবার যখন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন, ঠিক সেই দিনই উদ্ধার হয় অঙ্কিতার নিথর দেহ। প্রশ্নফাঁস রুখতে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে ইতিমধ্যেই সংসদে কড়া বিল পেশ করা হয়েছে, কিন্তু তার আগেই একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে পড়ায় শোকের ছায়া শিক্ষা মহলে।
এক নজরে নিট বিতর্ক ও ট্র্যাজেডি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও সাম্প্রতিক তথ্য |
| ঘটনা | রি-নিটে ফল খারাপ হওয়ায় ১৯ বছরের অঙ্কিতা সাঙ্গালের আত্মহত্যা। |
| মূল কারণ | প্রথম পরীক্ষা বাতিল ও রি-নিটে মাত্র ১৬৬ নম্বর পাওয়া। |
| মোট আত্মহত্যা | নিট বিভ্রাট শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে অন্তত ১৪ জন পড়ুয়ার মৃত্যু। |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও সংসদে প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল পেশ। |
একটি প্রবেশিকা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নফাঁস, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং বারবার নিয়ম পরিবর্তনের কারণে যেভাবে দেশে উঠতি শিক্ষার্থীদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অঙ্কিতা সাঙ্গালের মৃত্যু আরও একবার প্রমাণ করল যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার এই চাপ ও অনিশ্চয়তা তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।






