ধর্মতলায় ছাত্র মিছিলে বহিরাগতদের তাণ্ডব! পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় কড়েয়া-নাদিয়া থেকে গ্রেপ্তার আরও ২, ডোরিনা ক্রসিংয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ

source : Sangbad Pratidin
কলকাতায় নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে গত শুক্রবারের শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের মিছিলে অরাজকতার ঘটনায় অ্যাকশন মুডে কলকাতা পুলিশ। মিছিলের শেষে ডোরিনা ক্রসিংয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-বোতল ছোঁড়া এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বেধড়ক মারধরের নেপথ্যে উঠে এসেছে বহিরাগত অপরাধীদের যোগসূত্র। সেই ঘটনাতেই রবিবার গভীর রাতে তল্লাশি চালিয়ে আরও দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কড়েয়া ও নাদিয়া থেকে নতুন ২ গ্রেপ্তার, ধৃত বেড়ে ১৬
শুক্রবার বিকেলে ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহ এবং পুলিশি কাজে বাধার দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে শুরু করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কড়েয়া থেকে ৩৫ বছর বয়সি ওয়াকার আজম এবং নাদিয়া থেকে ৩২ বছর বয়সি জাভেদ আখতারকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা গেছে, এদের কারও সঙ্গেই পড়াশোনা বা ছাত্র আন্দোলনের দূরতম সম্পর্ক নেই। সোমবার এদের লালবাজার থেকে আদালতে পেশ করা হয়। এ পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করল। ধৃতদের মধ্যে ১৪ জনকে আদালতের নির্দেশে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
[ধর্মতলা তাণ্ডব কাণ্ড: আপডেট এক নজরে]
* মোট ধৃতের সংখ্যা: ১৬ জন।
* পুলিশ হেফাজতে: ১৪ জন।
* নতুন ধৃত: ওয়াকার আজম (কড়েয়া) ও জাভেদ আখতার (নাদিয়া)।
* পুনর্নির্মাণ স্থান: ডোরিনা ক্রসিং, ধর্মতলা।
* মূল অভিযোগ: সাংবাদিক নিগ্রহ, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-জুতো ছোঁড়া, দেশদ্রোহী ক্রিয়াকলাপ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি।
ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধৃতদের নিয়ে ৩ডি ডেমো ও পুনর্নির্মাণ
এদিকে মামলার তদন্ত ত্বরান্বিত করতে সোমবার বেলার দিকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছায়। পুলিশ হেফাজতে থাকা ধৃতদের মধ্যে খালেদ রেজা ও আফরোজকে খালি পায়ে হাঁটিয়ে ঠিক যে জায়গায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।
কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চান—
- শুক্রবার মিছিল শেষে কে বা কারা প্রথম ইট ও জলের বোতল ছুঁড়েছিল?
- সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে কেন ও কীভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছিল?
- বহিরাগতদের মিছিলের সামনে নিয়ে আসার পেছনে কার নির্দেশ ছিল?
ধৃতদের প্রতিটি বয়ান পুলিশ অফিসাররা নোট করে নেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও রেকর্ড করা হয়।
ছাত্রদের ছদ্মবেশে ষড়যন্ত্র! মূল চক্রান্তকারীর সন্ধানে পুলিশ
কলকাতা পুলিশের খাতায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ১৬ জনের বেশিরভাগই পুলিশের খাতায় পুরানো ‘ক্রিমিনাল হিস্ট্রি’ বা অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা সমাজবিরোধী।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করতে এবং শহরে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতেই এই অপরাধীদের মিছিলে ‘এন্ট্রি’ করানো হয়েছিল। তারা কি কেবল মিছিল বানচাল করতেই এসেছিল, নাকি কলকাতার বুকে বড় কোনো নাশকতার ছক ছিল, তা জানতে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হচ্ছে। সাংবাদিক নিগ্রহে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন ফেরার, তাঁদের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এক নজরে কলকাতা পুলিশি অ্যাকশন:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও সর্বশেষ তথ্য |
| নতুন গ্রেপ্তার | ওয়াকার আজম (৩৫) ও জাভেদ আখতার (৩২)। |
| ঘটনাস্থল | ডোরিনা ক্রসিং, ধর্মতলা (শনিবার ও সোমবার পুনর্নির্মাণ)। |
| পুলিশের দাবি | ধৃতরা কেউ ছাত্র নয়, অধিকাংশ চিহ্নিত অপরাধী ও বহিরাগত। |
| তদন্তের গতিপ্রকৃতি | ভিডিও ফুটেজ দেখে মূল চক্রান্তকারীদের খোঁজে তল্লাশি। |
কলকাতার মতো প্রতিবাদী শহরে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক মিছিলের ভিড়ে মিশে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং পুলিশকে আক্রমণ করার ঘটনা নজিরবিহীন। বহিরাগত সমাজবিরোধীদের ছদ্মবেশে এই তাণ্ডবের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা কলকাতা পুলিশের এই তদন্তে স্পষ্ট হবে।






