শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন! সরাসরি রাজনীতিতে যোগ নিয়ে মুখ খুললেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রধান অভিজিৎ দীপকে

পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তুলে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party) কি এবার সরাসরি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হতে চলেছে? শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের দাবি আদায় হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে। এই জল্পনার মাঝেই ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শম্ভাজিনগরে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ সিজেপি-র একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব।
সাফল্য দিয়ে সূচনা, এবার বিশ্রাম কাটিয়ে নতুন লক্ষ্য
নিট (NEET) পরীক্ষার জট ছাড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দু’মাস ধরে টানা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অভিজিৎ দীপকে। আন্দোলন সফল হওয়ার পর কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে এবার সংগঠনের পরিধি দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বভারতীয় স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ছক কষছেন তাঁরা।
ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের বৈঠক থেকে অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানান, “পড়ুয়াদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম লড়াইয়ে আমরা জয় পেয়েছি। তবে লড়াই এখানেই থামছে না। দেশের যেকোনো প্রান্তে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়লে ককরোচ জনতা পার্টি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।”
[ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) বর্তমান অবস্থান ও লক্ষ্য]
* প্রাথমিক অর্জন: নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও দাবি পূরণ।
* বর্তমান বৈঠক: ছত্রপতি শম্ভাজিনগর, মহারাষ্ট্র (২ দিনের জাতীয় বৈঠক)।
* আগামী আন্দোলন কেন্দ্র: ঝাড়খণ্ড (JPSC ও JSSC পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম)।
* রাজনৈতিক অবস্থান: এখনই প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক দল নয়, বরং দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের শক্ত 'প্রেসার গ্রুপ'।
নিটের পর ঝাড়খণ্ডের পরীক্ষা দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ার প্রস্তুতি
মেধা তালিকা প্রকাশে অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষা বাতিলের জেরে ইতিমধ্যেই ক্ষুব্ধ ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীরা। সেখানকার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিজেপি।
বৈঠকের প্রথম দিনেই সিজেপি প্রধান বার্তা দেন, ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে যদি তাঁদের সড়কপথে সেখানে যেতে হয়, তবে তাঁরা তাও করতে প্রস্তুত। দিল্লি ও কেন্দ্র সরকারের পর রাজ্য স্তরের পরীক্ষা দুর্নীতি চিহ্নিত করাই এখন তাঁদের মূল এজেন্ডা।
সরাসরি রাজনীতি নয়, থাকবে ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবেই
সবচেয়ে চর্চিত বিষয় ছিল ককরোচ জনতা পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখবে কিনা। মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিয়েছেন অভিজিৎ।
তিনি সাফ জানিয়েছেন, “মিডিয়া আমাদের রাজনীতিতে আসা নিয়ে খুব আগ্রহী হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে আমাদের সেরকম কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা নিজেদেরকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখছি না। আপাতত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির ওপর পড়ুয়াদের অধিকার আদায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রেসার গ্রুপ’ (Pressure Group) হিসেবে কাজ করে যাওয়াই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য।”
এক নজরে ককরোচ জনতা পার্টির বৈঠক ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| সংগঠনের নাম | ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) |
| প্রধান প্রতিষ্ঠাতা | অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke) |
| বৈঠকের স্থান | ছত্রপতি শম্ভাজিনগর, মহারাষ্ট্র |
| পরবর্তী আন্দোলনের ক্ষেত্র | ঝাড়খণ্ড (JPSC ও JSSC পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি) |
| রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত | এখনই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, প্রেশার গ্রুপ হিসেবে অবস্থান বজায় রাখা |
দিল্লির রাজপথ কাঁপিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ না করলেও, দেশের শিক্ষার্থী রাজনীতির এক পরাক্রমশালী শক্তি হয়ে ওঠার পথে। ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে পর্যবেক্ষণদের।






