ছেঁড়া-ফাটা নোটের দিন শেষ! বাজারে আসছে ১০ ও ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট, বড় ঘোষণা আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার

দৈনন্দিন লেনদেনে ছেঁড়া-ফাটা কিংবা ভিজে যাওয়া পুরনো কাগজের নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে ছোট টাকার নোটগুলি খুব দ্রুত ময়লা ও জীর্ণ হয়ে পড়ে। এই স্থায়ী সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে এবার ভারতে প্লাস্টিকের নোট (Polymer Currency Notes) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। বুধবার দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি পর্যালোচনার সময় এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা।
আগামী অর্থবর্ষেই পরীক্ষা, অনুমোদন মিলেছে ট্রায়ালের
আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বুধবার নিশ্চিত করেন যে, প্লাস্টিক নোট তৈরির জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ পলিমারের গ্লোবাল টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই অর্থাৎ নতুন আর্থিক বছরের প্রথম দিকেই এই নোটগুলি ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য বাজারে উন্মুক্ত করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি পিস ১০ টাকার নোট এবং ১০০ কোটি পিস ২০ টাকার নোট ছাপানোর ছাড়পত্র মিলেছে। এই ট্রায়াল সফল হলে দেশের অন্যান্য মূল্যের নোটেও পলিমার প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো হবে।
[আরবিআই পলিমার নোট প্রকল্পের মূল রূপরেখা]
* মূল উপাদান: উচ্চমানের নমনীয় প্লাস্টিক বা পলিমার ফিল্ম।
* প্রারম্ভিক নোট: ১০ টাকা ও ২০ টাকা (যেগুলি দৈনন্দিন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়)।
* ট্রায়াল পরিমাণ: ১০০ কোটি (১০ টাকা) + ১০০ কোটি (২০ টাকা)।
* স্থায়িত্ব: সাধারণ কাগজের নোটের চেয়ে অন্তত ৪ গুণ বেশি টেকসই।
* পুরানো নোটের স্থিতি: বিদ্যমান কাগজের নোটগুলি যথারীতি বৈধ ও চালু থাকবে।
কেন কাগজের বদলে পলিমার নোট?
পলিমার নোট হলো বিশেষ কৃত্রিম পলিমার সাবস্ট্রেট বা শক্তিশালী ও নমনীয় প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়ে তৈরি এক ধরনের নোট। বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু দেশে বিগত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই প্লাস্টিক নোট সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রিজার্ভ ব্যাংকের মতে, প্লাস্টিকের নোট চালুর পেছনে প্রধান দুটি কারণ রয়েছে—
- দীর্ঘস্থায়িত্ব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা: এটি সহজে ছেঁড়ে না, জলে ভেজে না এবং ময়লা কম আটকায়।
- খরচ হ্রাস: শুরুতে তৈরির খরচ সামান্য বেশি হলেও, ঘন ঘন নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজন না পড়ায় দীর্ঘমেয়াদে আরবিআইয়ের মুদ্রণ খরচ বিপুল পরিমাণে কমে যাবে।
পুরনো কাগজের নোট নিয়ে কী হবে?
হঠাৎ করে নতুন নোট বাজারে এলে পুরনো নোট বাতিল বা রূপান্তর নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ জাগা স্বাভাবিক। তবে আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুন পলিমার নোট চালুর ফলে বিদ্যমান কাগজের নোটগুলিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
পুরনো ১০ ও ২০ টাকার নোট আগের মতোই বাজারে সচল থাকবে এবং স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাংকগুলির মাধ্যমে জীর্ণ নোট তুলে নেওয়া হবে।
এক নজরে আরবিআই-এর প্লাস্টিক নোট পরিকল্পনা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| উদ্যোক্তা সংস্থা | রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) |
| ঘোষণা করেন | আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা |
| নোটের ধরন | পলিমার / প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট নোট |
| পরীক্ষামূলক মান | ১০ টাকা ও ২০ টাকা |
| সম্ভাব্য চালুর সময় | আগামী অর্থবর্ষের সূচনায় (২০২৭-২৮ প্রথম ত্রৈমাসিক) |
বিশ্বের বহু উন্নত দেশের মতো ভারতেও পলিমার নোট চালু হওয়া এক ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের সাধারণ মানুষ যেমন ছেঁড়া-ফাটা নোটের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন, তেমনই সুরক্ষিত থাকবে রাষ্ট্রের অর্থনীতি।





