মানসিক রোগ সারাতে তন্ত্রমন্ত্র! ১০ দিন খুঁটিতে বেঁধে না খাইয়ে রাখা হলো যুবতীকে, নির্মম মৃত্যুর পর গ্রেপ্তার স্বামী ও তান্ত্রিক

একাদশ শতকেও কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারেনি সমাজ। মানসিক রোগের চিকিৎসার নামে এক যুবতীকে টানা ১০ দিন ধরে খুঁটিতে বেঁধে রাখা এবং খাবার-জল না দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠল এক স্বঘোষিত তান্ত্রিক ও নিহতের স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষমেশ প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি ওই যুবতীর।
চিকিৎসার নামে তন্ত্রমন্ত্র ও অমানবিক নির্যাতন
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম রুবি যাদব (৩৩)। তিনি বেশ কিছু দিন ধরে তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও আশানুরূপ ফল না মেলায় তাঁর স্বামী অঙ্কিত যাদব স্ত্রীকে এক স্বঘোষিত ধর্মগুরু বা তান্ত্রিকের আশ্রমে নিয়ে যান।
অভিযোগ, ওই তান্ত্রিক দাবি করে যে যুবতীর শরীরে কু-বাতাস রয়েছে এবং ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে তা দূর করতে হবে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রুবিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়। টানা ১০ দিন ধরে তাঁকে কোনো খাবার বা পানীয় জল দেওয়া হয়নি।
[ঘটনার বিবরণী ও আইনি পদক্ষেপ]
* নিহতের নাম: রুবি যাদব (৩৩ বছর)।
* ঘটনাস্থল: বারাবাঁকি, উত্তরপ্রদেশ।
* নির্যাতনের ধরণ: ১০ দিন টানা খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় অনাহার।
* ধৃত অভিযুক্তরা: স্বামী অঙ্কিত যাদব, স্বঘোষিত তান্ত্রিক ও তান্ত্রিকের সহকারী।
* বর্তমান আইনি স্থিতি: আদালত কর্তৃক বিচারবিভাগীয় হেফাজত (Judicial Custody)।
বাবার উদ্ধারচেষ্টা ও মর্মান্তিক পরিণতি
মেয়ের ওপর চলা এই নির্মম অত্যাচারের খবর পাওয়ার পর তড়িঘড়ি সেখানে ছুটে যান রুবির বাবা। মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি বিলম্ব না করে বারাবাঁকি স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুবিকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু টানা অনাহার এবং শারীরিক নির্যাতনের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
স্বামী ও তান্ত্রিকসহ গ্রেপ্তার ৩
যুবতীর মৃত্যুর পরেই ঘটনার তদন্তে নেমে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসন। অভিযানের মাধ্যমে নিহতের স্বামী অঙ্কিত যাদব, মূল অভিযুক্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু এবং তাঁর সহকারীকে গ্রেপ্তার করে বারাবাঁকি থানার পুলিশ।
বুধবার ধৃতদের স্থানীয় আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁদের জামিন নাকচ করে সরাসরি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে (Judicial Custody) পাঠানোর নির্দেশ দেন। কুসংস্কার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
এক নজরে বারাবাঁকি কুসংস্কার মামলা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| মৃতার নাম | রুবি যাদব (৩৩) |
| ঘটনা কেন্দ্র | বারাবাঁকি, উত্তরপ্রদেশ |
| মূল অভিযোগ | ঝাড়ফুঁকের নামে ১০ দিন অনাহারে খুঁটিতে বেঁধে রাখা |
| ধৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা | স্বামী অঙ্কিত যাদব, স্বঘোষিত তান্ত্রিক ও সহযোগী |
| আইনি পদক্ষেপ | খুনের অভিযোগ ও বিচার বিভাগীয় হেফাজত |
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মানসিক ব্যাধিকে ভূত-প্রেতের কোপ মনে করে তন্ত্রমন্ত্রের ওপর ভরসা রাখা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কঠোর সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগ না হলে বারবার এমন করুণ পরিণতি দেখতে হবে সাধারণ মানুষকে।





