গত ছয় দশকের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম! দুর্গতদের পাশে ‘বিয়িং হিউম্যান’, রণদীপ হুডার সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে ৫০০ বাড়ি বানিয়ে দিচ্ছেন সলমন খান

টানা অতিভারী বর্ষণ আর নদনদীর জলচ্ছ্বাসে বিগত ছয় দশকের মধ্যে সবথেকে বিভীষিকাময় বন্যার কবলে পড়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসম। রাজ্যের ১৪টি জেলা প্লাবিত, গৃহহীন কোটি কোটি মানুষ এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৫। এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে দুর্গত অসমবাসীর সাহায্যে এগিয়ে এলেন বলিউড মহাতারকা সলমন খান (Salman Khan)। নিজের সামাজিক সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি হাজার হাজার গৃহহীন মানুষকে স্থায়ী মাথার ছাদ দিতে বিশাল উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
আইনি ঝামেলার মাঝেই মানবিক সলমন
সম্প্রতি ৩ কোটি টাকার এক আর্থিক প্রতারণার মামলায় চণ্ডীগড় আদালতের তরফ থেকে সমন পেয়েছেন সলমন খান ও তাঁর সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’। তবে ব্যক্তিগত ও আইনি এই টানাফোড়েনের মাঝেই অসমের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভাইজান।
ইতিমধ্যেই নিজের টিমের মারফতে দুই দফায় বন্যাকবলিত এলাকায় কয়েক টন খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছেন অভিনেতা। তবে শুধুই খাদ্যদ্রব্য বিলি নয়, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
[অসম বন্যা ও সলমন খানের সহায়তা প্রকল্প]
* অসমের বর্তমান অবস্থা: ৬০ বছরের ভয়াবহতম বন্যা, ৯৫ জনের মৃত্যু, প্লাবিত ১৪ জেলা।
* সলমন খানের উদ্যোগ: ৩ দফায় ত্রাণ প্রদান ও ৫০০টি বন্যা-প্রতিরোধী বাড়ি নির্মাণ।
* সহযোগী সংস্থা: 'গ্লোবাল শিখস' (Global Sikhs - প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং) ও রণদীপ হুডা।
* বাড়ি প্রতি আনুমানিক খরচ: ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা (বাঁশ ও টিনের স্থায়ী পরিকাঠামো)।
* ইতোমধ্যে সম্পন্ন কাজ: 'নেপালি খুঁটি' গ্রামে ২২০টি ঘর তৈরি করে তুলে দেওয়া হয়েছে।
রণদীপ হুডার সঙ্গে সলমনের যৌথ লড়াই
অসমের জলমগ্ন এলাকাগুলিতে অভিনেতা রণদীপ হুডাকে সরেজমিনে ত্রাণ বিলি করতে দেখে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন সলমন খান। রণদীপ জানান, তিনি ‘গ্লোবাল শিখস’ (Global Sikhs) সংস্থার হয়ে ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে কাজ করছেন।
কথোপকথনে গ্লোবাল শিখসের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সলমনকে জানান, জল নেমে গেলেও হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়ে তারা পুরোপুরি নিঃস্ব। তাই বাঁশ ও টিনের বিশেষ প্রযুক্তি দিয়ে জল-প্রতিরোধী শক্তপোক্ত ঘর বানিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে বন্যা হলেও সহজেই ক্ষতি না হয়। এই এক-একটি ঘর তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
ঘটনাটি শোনার পরপরই সলমন খান কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে ওই সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৫০০টি বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ‘নেপালি খুঁটি’ গ্রামে ২২০টি নতুন বাড়ি
কেবল মুখের কথায় নয়, কাজের কাজও শুরু করে দিয়েছে সলমনের ‘বিয়িং হিউম্যান’ ট্রাস্ট। অসমের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ছারখার হয়ে যাওয়া গ্রামগুলির অন্যতম ‘নেপালি খুঁটি’। সেখানে প্রথম ধাপেই প্রায় ২২২০টি পরিবারকে বাঁশ-টিনের মজবুত ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, জল কমতে শুরু করায় সাধারণ মানুষকে ত্রাণশিবির থেকে নিজস্ব বাসস্থানে ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং রাজ্য সরকারও তাঁদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের জন্য একটি মাস্টার রোডম্যাপ তৈরি করছে।
এক নজরে অসম বন্যা ও সলমন খানের ত্রাণ প্রকল্প:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| প্রাকৃতিক বিপর্যয় | অসম বন্যা ২০২৬ (৬০ বছরের ভয়াবহতম) |
| প্রাণহানি | ৯৫ জন |
| সাহায্যকারী সংস্থা | বিয়িং হিউম্যান (Being Human) ও গ্লোবাল শিখস |
| প্রতিশ্রুত গৃহ নির্মাণ | ৫০০টি পরিবারকে বন্যা-সহনশীল ঘরদান |
| প্রথম দফায় তৈরি ঘর | ২২২০টি (নেপালি খুঁটি গ্রাম) |
পর্দায় যেমন তিনি একের পর এক বিপদ থেকে নায়কের মতো মানুষকে রক্ষা করেন, বাস্তবেও অসমে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে ফের একবার নিজের মহানুভবতার পরিচয় দিলেন সলমন খান। মহাপ্রলয়ের এই কঠিন সময়ে তাঁর দেওয়া ৫০০টি বাড়ি হাজার হাজার অসহায় পরিবারকে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাবে।






