মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান ধুন্ধুমার! অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালীর বিপদ পেরিয়ে দেশে ফিরল ৬০টি জাহাজ ও ৩,৯৭২ জন ভারতীয় নাবিক, সংসদে খতিয়ান কেন্দ্রের

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। মাঝে কিছুদিন সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও, নতুন করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নজিরবিহীন সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের প্রধান ধমনী বলে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ। এই চরম অস্থিরতার মধ্যেও কীভাবে দেশে তেলের যোগান সচল রাখা হয়েছে এবং বিপন্ন ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার সংসদে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করল কেন্দ্র।
৬০টি জাহাজ পারাপার ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা
অবরুদ্ধ ও অত্যন্ত বিপজ্জনক উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দেশের জ্বালানি ও জরুরি পণ্যের যোগান অক্ষুণ্ণ রাখা ছিল ভারতের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগত দক্ষতা দেখিয়ে ভারতমুখী অন্তত ৬০টি বিশালাকার পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করিয়েছে ভারত সরকার। এর ফলে দেশে অপরিশোধিত তেল বা প্রয়োজনীয় জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হতে পারেনি।
[হরমুজ প্রণালী ও ভারতের সংকট ব্যবস্থাপনা]
* উদ্ধারপ্রাপ্ত নাবিক: ৩,৯৭২ জন ভারতীয়।
* সুরক্ষিত পণ্যবাহী জাহাজ: ৬০টি জাহাজ ভারত অভিমুখে সফলভাবে পারাপার।
* কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ: ১৫,৭৭১টি ফোন কল এবং ৩৬,৪৯৯টি ইমেল প্রক্রিয়াজাত।
* প্রাণহানি: মোট ১৬ জন ভারতীয় (১০ জন নাবিক)।
* অনুদান: 'সিফেয়ারার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড সোসাইটি' থেকে মৃত নাবিকদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা।
৩,৯৭২ জন নাবিককে উদ্ধার ও ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম
কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিবৃতির বরাতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া ভারতীয় নাবিক ও সমুদ্রকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি একটি হাই-টেক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছিল।
উদ্বিগ্ন নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সার্বক্ষণিক সাহায্য চাওয়া ১৫,৭৭১টি টেলিফোন কল এবং ৩৬,৪৯৯টি ইমেলের দ্রুত নিষ্পত্তিকরণ করা হয়। এই উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমেই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে ৩,৯৭২ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদ আশ্রয়ে ও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রাণহানি ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
উদ্ধারকাজ চালানো সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ এই আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৬ জন ভারতীয় নাগরিকের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনই ছিলেন পেশায় নাবিক।
সংসদে মোদি সরকার জানিয়েছে, নিহত ওই ১০ জন নাবিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘সিফেয়ারার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড সোসাইটি’ (Seafarers Welfare Fund Society)-র মাধ্যমে মৃত প্রতিটি নাবিকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে হরমুজ প্রণালী ও উদ্ধার কার্যাক্রম:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| সংকটের কেন্দ্রবিন্দু | আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী অবরোধ |
| উদ্ধার হওয়া নাবিক | ৩,৯৭২ জন |
| নিরাপদে পৌঁছানো জাহাজ | ৬০টি পণ্যবাহী জাহাজ |
| নিহত ভারতীয় | ১৬ জন (১০ জন নাবিক) |
| আর্থিক সাহায্য | ১০ লক্ষ টাকা (প্রতিটি মৃত নাবিকের পরিবারকে) |
বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধের আবহেও ভারতের এই কৌশলগত উদ্ধারকাজের সাফল্য প্রশংসনীয়। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ে আসা এবং হাজার হাজার নাবিককে জীবন বাঁচিয়ে দেশে ফেরানো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও ভৌগোলিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের শক্তিকেই ফের একবার প্রমাণ করল।






