গ্যাংস্টার আতিক আহমেদের ছোট ছেলে আবান আহমেদের মর্মান্তিক মৃত্যু! ঝাঁসিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারল গাড়ি, তদন্তে পুলিশ

উমেশ পাল হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত তথা পুলিশ হেফাজতে গুলিতে নিহত গ্যাংস্টার-রাজনীতিবিদ আতিক আহমেদের পরিবারে ফের প্রয়াণ। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আতিকের ছোট ছেলে আবান আহমেদ। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডিভাইডারে তীব্র গতিতে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। একই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আবানের বন্ধু সোনুরও। এটি কেবলই একটি দুর্ঘটনাজনিত বিপর্যয় নাকি এর পেছনে কোনো গ্যাংওয়ারের ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা
ঝাঁসির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায় পুলিশের কাছে। একটি সাদা রঙের হুন্ডাই ক্রেটা (Hyundai Creta) গাড়ি প্রয়াগরাজ থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঝাঁসির দিকে আসছিল।
ঝাঁসি শহরে ঢোকার মুখে আচমকাই চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়ক ডিভাইডারে প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা মারে। দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়ির সামনের অংশ। গাড়িতে মোট পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবান আহমেদ এবং তাঁর বন্ধু সোনুর। বাকি তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
[আতিক আহমেদের ছোট ছেলে আবানের দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য]
* স্থান: ঝাঁসি শহর সংলগ্ন রাজ্য সড়ক, উত্তরপ্রদেশ।
* সময়: বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০টা।
* ব্যবহৃত গাড়ি: হুন্ডাই ক্রেটা (Hyundai Creta)।
* নিহত ব্যক্তি: আবান আহমেদ (আতিকের ছোট ছেলে) ও বন্ধু সোনু।
* গন্তব্য: ঝাঁসি জেল (দাদা আলি আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ)।
কেন ঝাঁসি যাচ্ছিলেন আবান?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাঁসি জেলে বন্দি রয়েছেন আতিক আহমেদের দ্বিতীয় ছেলে আলি আহমেদ। তাঁর সঙ্গেই দেখা করার উদ্দেশ্যে প্রয়াগরাজ থেকে ঝাঁসির অভিমুখে গাড়ি নিয়ে রওনা হয়েছিলেন ছোট ভাই আবান ও তাঁর সঙ্গীরা। তবে জেলে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে ঘটে যায় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
আতিক আহমেদের পরিবারের বর্তমান অবস্থা
এক সময়ের প্রতাপশালী মাফিয়া আতিক আহমেদের পরিবার গত কয়েক বছরে প্রায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। আতিকের পাঁচ ছেলের বর্তমান পরিস্থিতি—
- উমর আহমেদ (বড় ছেলে): বর্তমানে লখনউ জেলে বন্দি।
- আলি আহমেদ (দ্বিতীয় ছেলে): ঝাঁসি জেলে বন্দি।
- আসাদ আহমেদ (তৃতীয় ছেলে): ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঝাঁসিতেই ইউপি এসটিএফ (UP STF)-এর সাথে এনকাউন্টারে নিহত।
- আহজাম আহমেদ (চতুর্থ ছেলে): জামিনে মুক্ত ও বাইরে চিকিৎসাধীন/অবস্থানরত।
- আবান আহমেদ (পঞ্চম ছেলে): ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট ঝাঁসিতে পথদুর্ঘটনায় মৃত।
এক নজরে ঘটনাটি:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| নিহত | আবান আহমেদ (আতিক আহমেদের ছোট ছেলে) এবং সোনু |
| ঘটনার স্থান | ঝাঁসি, উত্তরপ্রদেশ |
| যানবাহন | হুন্ডাই ক্রেটা (৫ জন আরোহী) |
| কারণ | দ্রুত গতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা |
| তদন্তকারী দল | ঝাঁসি পুলিশ ও এসএসপি দল |
আতিক আহমেদ ও তাঁর ভাই আশরাফের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তাদের পরিবারের ওপর একের পর এক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এবার সড়ক দুর্ঘটনায় ছোট ছেলে আবানের মর্মান্তিক মৃত্যু আতিক পরিবারের ধ্বংসাবশেষকে আরও একবার চর্চায় নিয়ে এল। ঝাঁসি পুলিশ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছ।






