স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকাকে নৃশংস কোপ! একতরফা প্রেমের প্রত্যাখ্যান সহ্য না হয়ে ২ মাসের ছকে খুন, চাঞ্চল্য ফরিদাবাদে

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এবং অতীতে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় এক শিক্ষিকাকে স্কুলেই নৃশংসভাবে হত্যা করল এক তরুণের বিকৃত মানসিকতা। হরিয়ানার ফরিদাবাদে দিনে-দুপুরে বেসরকারি স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকা সন্ধ্যা শর্মাকে কুপিয়ে খুন করার ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, আকস্মিক কোনো উত্তেজনায় নয়, বরং দীর্ঘ দুই মাস ধরে ছক কষে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ২১ বছরের যুবক অমিত। ঘটনার সমস্ত দৃশ্য বন্দী হয়েছে স্কুলের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায়।
ছক কষে স্কুলে হানা ও হাড়হিম হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন সকাল ৯:৩০টা নাগাদ নিজের বাইকে চেপে সিক্রোনা গ্রামের ওই বেসরকারি স্কুলে পৌঁছায় ফরিদাবাদের কোট গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত অমিত। এরপর শিক্ষিকা সন্ধ্যার স্বামীর নাম করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ক্লাসরুম থেকে ডেকে বাইরে আনা হয় তাঁকে।
সন্ধ্যা শর্মা গেটের কাছে আসামাত্রই তাঁর ওপর হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে অমিত। সন্ধ্যার চুল চেপে ধরে বেপরোয়াভাবে গলায় ও বুকে ক্রমাগত ছুরি দিয়ে কোপাতে থাকে সে। কোপানোর তীব্রতায় ছুরিটি বাঁকা হয়ে গেলেও ক্ষান্ত হয়নি আততায়ী। রক্তে ভেসে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই শিক্ষিকা। স্কুলের এক কর্মী বাঁচাতে এলে তাঁকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্ত।
[ফরিদাবাদ শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের মূল বিবরণী]
* নিহতের নাম: সন্ধ্যা শর্মা (বয়স ৩০-এর কোঠায়, বিবাহিত, দুই সন্তান)।
* অভিযুক্ত: অমিত (২১ বছর), পেশা: দুগ্ধ ব্যবসায়ী।
* ঘটনাস্থল: সিক্রোনা গ্রাম, ফরিদাবাদ, হরিয়ানা।
* কারণ: একতরফা প্রেমে প্রত্যাখ্যান ও পুরোনো শত্রুতার প্রতিশোধ।
* ব্যবহৃত অস্ত্র: বিশেষ বাঁকানো ছুরি (পুলিশ দ্বারা উদ্ধার)।
* পুলিশের পদক্ষেপ: ঘটনার ২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, ৩ দিনের পুলিশি রিমান্ড।
একতরফা প্রেম, পুরোনো অভিযোগ ও প্রতিশোধের আগুন
পুলিশি জেরায় ধৃত অমিত স্বীকার করেছে যে, সে সন্ধ্যার প্রতি একতরফা অনুরাগে অন্ধ ছিল। তবে সন্ধ্যা তাঁর সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। কেবল তা-ই নয়, পূর্বে অমিতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছিলেন সন্ধ্যা। সেই সময় লিখিত ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যায় অমিত।
এর পর সন্ধ্যা নিজের বাসস্থান ও কর্মস্থল পরিবর্তন করলেও মনে চরম ক্ষোভ পুষে রেখেছিল অমিত। তাঁকে রাস্তাঘাটে আক্রমণ করার কথা ভাবলেও ধরা পড়ার ভয়ে পিছিয়ে এসে অবশেষে স্কুলেই আক্রমণ করার চূড়ান্ত ছক কষে সে। এজন্যই বিশেষ একটি ছুরি কিনে অপেক্ষা করছিল সুযোগের।
গ্রেপ্তার ও পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্বামী
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অমিতকে গ্রেপ্তার করে ফরিদাবাদ থানার পুলিশ। গত মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। খুনে ব্যবহৃত বাঁকানো ছুরিটি ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নিহত সন্ধ্যা শর্মার স্বামী ভিকি গুর্জর ও তাঁর পরিবারের কান্না থামছে না। তাঁদের সাত ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে নিহতের স্বামী জানান, পূর্বে যৌন হয়রানির অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ যদি সেসময়েই কঠোর ব্যবস্থা নিত, তবে আজ তাঁর স্ত্রীকে এভাবে প্রাণ হারাতে হতো না।
এক নজরে ঘটনাটি:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| নিহত শিক্ষিকা | সন্ধ্যা শর্মা |
| অভিযুক্তের পরিচয় | অমিত (২১), কোট গ্রাম, ফরিদাবাদ |
| ঘটনার স্থান | সিক্রোনা গ্রামের বেসরকারি স্কুল |
| হত্যার ধরণ | ধারালো অস্ত্র দিয়ে ক্রমাগত কোপানো |
| তদন্তের আপডেট | ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে অভিযুক্ত |
একতরফা ভালোবাসার চরম মানসিক বিকার যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, ফরিদাবাদের এই ঘটনাটি তা আরও একবার প্রমাণ করল। একটি প্রতিশ্রুতিমান প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার পাশাপাশি দুটো ছোট শিশু হারাল তাদের মাকে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন ফুঁসছে গোটা ফরিদাবাদ।






