ডোমজুড়ে মশারির দড়ির ফাঁসে ৮ বছরের মেয়েকে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে! জলপাইগুড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদে অন্ধকার রাস্তায় একরত্তিকে ফেলল স্বামী

রাজ্যের দুই প্রান্তে নিজের জন্মদাতা বাবার চরম নিষ্ঠুরতা ও পাশবিকতার দুটি পৃথক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাওড়ার ডোমজুড়ে কন্যাকুল বিদ্বেষের জেরে ৮ বছরের নাবালিকাকে গলায় মশারির দড়ির ফাঁস লাগিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠলো বাবার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে বচসার জেরে স্ত্রীর কোল থেকে কাড়াকাড়ি করে ৭ মাসের একরত্তি সন্তানকে অন্ধকার রাস্তায় জলে ফেলে পালিয়ে গেল মদ্যপ স্বামী।
ডোমজুড়ে ৮ বছরের মেয়েকে মশারির ফাঁসে খুনের অভিযোগ
হাওড়ার ডোমজুড় থানার অন্তর্গত সলপ তেঁতুলতলা এলাকায় ঘটেছে মর্মান্তিক এই খুনের ঘটনা। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁরই ৮ বছরের কন্যাসন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, জন্ম থেকেই মেয়েকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারত না অভিযুক্ত বাবা।
বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক গোলমালের জেরে ওই শিশুর মা মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান। কিন্তু পরবর্তীতে জামাইবাবু আত্মহত্যার হুমকি দিলে বাধ্য হয়ে তিনি নিজের ঘরে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই শিশুটিকে ফাঁসে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
[ডোমজুড় খুনের ঘটনার সারসংক্ষেপ]
* ঘটনাস্থল: সলপ তেঁতুলতলা, ডোমজুড় (হাওড়া)।
* মৃত শিশু: ৮ বছরের কন্যাসন্তান।
* অভিযোগের ধরন: মশারির দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা।
* শ্বশুরবাড়ির দাবি: দুর্ঘটনাবশত মশারির ফাঁসে আটকে মৃত্যু।
* পুলিশি পদক্ষেপ: ডোমজুড় থানায় মামলা রুজু, অভিযুক্ত বাবা গ্রেপ্তার।
শিশুর দিদা ও মায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, এত ছোট বাচ্চার পক্ষে দুর্ঘটনাবশত মশারির ফাঁসে আটকে মারা যাওয়া অসম্ভব। পুরনো আক্রোশ থেকেই তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আটকে রেখে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করে ক্ষুব্ধ জনতা।
জলপাইগুড়িতে রাস্তার ধারে জলে ফেলে দেওয়া হলো ৭ মাসের শিশুকে
অপর ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বোসপাড়া এলাকায়। মদ খাওয়াকে কেন্দ্র করে পাঁচ নম্বর ঘুমটি এলাকার এক দম্পতির মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। নেশাগ্রস্ত স্বামীর হাতে সন্তানকে তুলে দিতে রাজি হননি স্ত্রী।
শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বিবাদের জেরে স্ত্রীর কোল থেকে আচমকাই ৭ মাসের শিশুপুত্রকে ছিনিয়ে নিয়ে পালায় স্বামী। এরপর বোসপাড়ার একটি নির্জন ও অন্ধকার রাস্তায় জলে ওই কচি শিশুকে ফেলে রেখে চম্পট দেয় অভিযুক্ত।
স্থানীয়দের তৎপরতা ও শিশু উদ্ধার
রাস্তার ধারে জলে ফেলে পালানোর দৃশ্য দেখে ফেলেন স্থানীয় এক মহিলা। তিনি ধাওয়া করলেও অন্ধকার এবং গতির সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত লোকটিকে। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়রা ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শুভ্রা দেব উদ্যোগী হয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় খবর দেন।
[জলপাইগুড়ি শিশু উদ্ধারের মূল বিবরণ]
* ঘটনাস্থল: বোসপাড়া, ২০ নম্বর ওয়ার্ড (জলপাইগুড়ি শহর)।
* উদ্ধারকৃত শিশু: ৭ মাসের একরত্তি শিশুপুত্র।
* উদ্ধারকারী: স্থানীয় এলাকাবাসী ও জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
* বর্তমান পরিস্থিতি: মা ও শিশুকে সুরক্ষিতভাবে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ।
খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরই মধ্যে খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে থানায় হাজির হন শিশুর মা। পুলিশ মহিলার জবানবন্দি ও পরিচয় খতিয়ে দেখার পর উদ্ধারকৃত শিশুটিকে সহ তাকে নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে।
এক নজরে জোড়া অপরাধের বিবরণী:
| জেলা | অকুস্থল | ভুক্তভোগী শিশু | অপরাধের রূপ | বর্তমান পুলিশি পদক্ষেপ |
| হাওড়া | ডোমজুড়, সলপ | ৮ বছর (কন্যা) | মশারির দড়ির ফাঁসে খুন | অভিযুক্ত বাবা গ্রেপ্তার, দেহ ময়নাতদন্তে |
| জলপাইগুড়ি | বোসপাড়া, ২০ নং ওয়ার্ড | ৭ মাস (পুত্র) | অন্ধকারের রাস্তায় ফেলে পলায়ন | শিশু উদ্ধার, কোতোয়ালি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ |
স্বীয় সন্তানকে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে তাদের প্রাণহানি ও বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার এই দুই ঘটনা সমাজ ও পারিবারিক অবক্ষয়ের এক অন্ধকার রূপ ফুটিয়ে তুলল। দুই ঘটনাতেই পুলিশ আইনানুগ তদন্ত শুরু করেছে।






