সুন্দরী পাক তরুণীর লাস্যে মজে দেশদ্রোহিতা! বায়ুসেনার আধিকারিককে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ, ম্যালওয়্যার দিয়ে তথ্য চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

সমাজমাধ্যমে লাস্যময়ী তরুণীর রূপ ও শরীরী হাতছানি— আর তাতেই বুঁদ হয়ে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলেন দিল্লির এক উচ্চপদস্থ বায়ুসেনা আধিকারিক। ভিডিও কল ও ভার্চুয়াল ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে পাক গোয়েন্দা সংস্থার পাচা ফাঁদে পা দেন ওই কমান্ডার। একের পর এক সেনার অতি সংবেদনশীল নথি ও তথ্য শত্রুপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে শনিবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই দেশের সেনাবল ও প্রশাসনিক অলিন্দে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কীভাবে পাতা হয়েছিল হানিট্র্যাপের ছক?
তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অনিন্দ্যসুন্দরী পরিচয় গোপন করে ওই বায়ুসেনা আধিকারিকের সঙ্গে চ্যাটিং শুরু করে। বন্ধুত্ব দ্রুত গাঢ় হয়ে ভিডিও কল, ফোন সেক্স ও উদ্দাম শারীরিক ঘনিষ্ঠতার দিকে মোড় নেয়।
আধিকারিকের বিশ্বাস অর্জন করার পরেই আসল ‘খেলা’ শুরু করে পাক গোয়েন্দা সংস্থার ওই এজেন্ট। রূপের মোহে অন্ধ হয়ে যাওয়া সেনা আধিকারিককে প্ররোচিত করে একের পর এক প্রতিরক্ষা ও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোপন নথি ও তথ্য চাওয়া শুরু হয়।
[হানিট্র্যাপ ও স্পাইওয়্যার কাণ্ডের বিবরণী]
* অভিযুক্তের পরিচয়: দিল্লি বায়ুসেনার কমান্ডার পদমর্যাদার আধিকারিক।
* তদন্তকারী সংস্থা: দিল্লি পুলিশ ও ভারতীয় বায়ুসেনা গোয়েন্দা শাখা।
* মূল অপরাধ: পাক এজেন্টের ফাঁদে পড়ে সামরিক তথ্য পাচার ও সহকর্মীর ফোনে ম্যালওয়্যার ইনস্টল।
* প্রযোজ্য আইন: অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (Official Secrets Act)।
সহকর্মীর ফোনে ম্যালওয়্যার স্পাইওয়্যার ইনস্টল
কেবল নিজের জানা গোপন তথ্য পাচার করেই ক্ষান্ত হননি ওই আধিকারিক। পাক তরুণীর নির্দেশে ও প্ররোচনায় পা দিয়ে নিজেরই এক সহকর্মী বায়ুপ্লবীদের অলক্ষে তাঁর মোবাইল ফোনে একটি বিপজ্জনক ডেটা চুরির সফ্টওয়্যার (Malware/Spyware) ইনস্টল করে দেন তিনি। এর ফলে বাহিনীর আরও একাধিক শীর্ষ আধিকারিকদের বার্তা ও নথিপত্র সরাসরি শত্রু রাষ্ট্রের হাতে পৌঁছে যাওয়ার মতো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের কড়া পদক্ষেপ
বায়ুসেনার গোয়েন্দা শাখার নজরে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ওই কমান্ডারকে গোপন নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পর গত ৩১ মে তাঁকে প্রথম হেফাজতে নেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল উইং ও সাইবার সেল যৌথ তদন্ত চালিয়ে জানতে পেরেছে, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য হাতাতে আন্তর্জাতিক স্তরে এক বিশাল চক্র কাজ করছে। শনিবার তাঁকে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’-এর ধারায় গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। কী কী গোপন নথি পাচার করা হয়েছে এবং সাইবার ম্যালওয়্যারটি কতটা সংবেদনশীল তথ্য বের করেছে, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক নজরে স্পাইওয়্যার ও হানিট্র্যাপ কাণ্ড:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| অভিযুক্ত | ভারতীয় বায়ুসেনার কমান্ডিং আধিকারিক |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | দিল্লি পুলিশ (বিশেষ শাখা) |
| আটক ও গ্রেপ্তারের তারিখ | ৩১ মে হেফাজতে নেওয়া হয়, ৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার |
| আইনি ধারা | অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (Official Secrets Act) |
জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে সেনাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিয়মাবলী নিয়ে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের সাইবার হানিট্র্যাপের পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ধৃত আধিকারিককে জেরার মাধ্যমে চক্রের মূল নকশা উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন গোয়েন্দারা।






