অনার কিলিংয়ের নৃশংসতা! অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে চম্বল নদীতে ডুবিয়ে খুন বাবার, দিল্লি পুলিশের হাতে ধৃত অভিযুক্তরা

সামাজিক মর্যাদা, লোকলজ্জা আর কুসংস্কারের বলি হতে হলো আরও এক তরুণীকে। অবিবাহিত অবস্থায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় ১৮ বছরের মেয়েকে নির্মমভাবে চম্বল নদীতে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার চম্বল নদী তীরবর্তী এলাকায় শিউরে ওঠার মতো এই ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনায় যুক্ত থাকার অপরাধে দক্ষিণ দিল্লির বাসিন্দা অভিযুক্ত বাবা লখপত সিং (৫২) ও তাঁর এক জামাইকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।
চিকিৎসার অজুহাতে আগ্রায় নিয়ে গিয়ে চরম নৃশংসতা
পুলিশ সূত্রের খবর, দক্ষিণ দিল্লির বাসিন্দা ওই তরুণী অবিবাহিত অবস্থায় প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে সমাজে মুখ দেখানো যাবে না— এই আশঙ্কায় মেয়েকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন লখপত সিং।
গত ২৮ জুলাই শারীরিক চিকিৎসার অজুহাত দেখিয়ে মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে আগ্রায় নিয়ে যান তিনি ও তাঁর জামাই। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে এক রাত কাটানোর পর ২৯ জুলাই সকালে তরুণীকে আগ্রার বাসোনির কাছে চম্বল নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়।
[ঘটনা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্যপঞ্জি]
* ভুক্তভোগী: ১৮ বছর বয়সী তরুণী (দক্ষিণ দিল্লির বাসিন্দা, ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা)।
* অকুস্থল: চম্বল নদী তীর, বাসোনি, আগ্রা (উত্তরপ্রদেশ)।
* মূল অভিযুক্তগণ: লখপত সিং (বাবা, বয়স ৫২) এবং তাঁর জামাই।
* তদন্তকারী সংস্থা: দিল্লি পুলিশ (দক্ষিণ জেলা)।
* উদ্ধারকার্য: চম্বল নদীতে ডুবুরি নামিয়ে তরুণীর দেহ তল্লাশি চলছে।
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম, তারপর নদীতে ডুবিয়ে খুন
পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত বাবা যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তা শুনে স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়ার পর বাবা প্রথমে মেয়েকে নদীতে ঝাঁপ দিতে বলেন। কিন্তু তরুণী রাজি না হওয়ায়, অভিযুক্ত লখপত সিং হঠাৎই মেয়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন।
তার পরপরই তিনি জোর করে মেয়েকে টেনে চম্বল নদীর জলের গভীরে নিয়ে যান এবং জলের নিচে মাথা চেপে ধরে রাখেন। মেয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর দু-হাত জোড় করে মৃত মেয়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। গোটা ঘটনার সময় অভিযুক্তের জামাই পাড়ে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছিল।
প্রতিবেশীর সন্দেহ ও ডিজিটাল প্রমাণে জট খুলল
৩১ জুলাই দিল্লিতে ফিরে লখপত সিং দাবি করেন, মানসিক অবসাদের কারণে চিকিৎসার জন্য মেয়েকে আগ্রায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাবার বানানো গল্পে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় এক প্রতিবেশী সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে বিষয়টি জানান।
দক্ষিণ দিল্লির পুলিশ সুপার (ডিসিext/ডিসিপি) অনন্ত মিতাল জানান, লখপত সিংকে আটক করে জেরা করতেই সে অপরাধ স্বীকার করে। অভিযুক্ত জামাইয়ের মোবাইল ফোন থেকে ঘটনাস্থলের বেশ কিছু ছবি এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এক নজরে আগ্রা চম্বল নদী অনার কিলিং:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ঘটনাস্থল | চম্বল নদী, বাসোনি (আগ্রা) |
| গ্রেফতার অভিযুক্তরা | লখপত সিং (বাবা) ও তাঁর জামাই |
| অভিযোগের ধরণ | অনার কিলিং ও প্রমাণ লোপাট |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | ধারাবাহিক পুলিশি হেফাজত ও দেহাংশের তল্লাশি |
সামাজিক কুসংস্কারের জাঁতাকলে পিষে একটি তরতাজা প্রাণের এই মর্মান্তিক পরিণতি আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিল আমাদের সমাজের মানসিকতার ওপর। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত এগোচ্ছে পুলিশ।






