Ayodhya Ram Mandir Donation Scam: রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারিতে তীব্র চাঞ্চল্য! ২০২৫-এর কুম্ভমেলায় হয়েছিল সবচেয়ে বড় চুরি, ট্রাস্টের ৫টি মারাত্মক গাফিলতি ফাঁস

source : সংবাদ প্রতিদিন
অযোধ্যায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান আসছিল, সেখানেই এবার ঘটে গেল এক কলঙ্কজনক ঘটনা। রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারিতে (Ram Mandir Donation Scam) রীতিমতো মুখ পুড়েছে রাম মন্দির ট্রাস্টের। খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে ‘সিট’ (SIT) গঠন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশি তদন্তে এবার জানা গেল, সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল ২০২৫ সালের কুম্ভমেলার সময়।
তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধৃত আটজন অভিযুক্তের মধ্যে কয়েকজন কুম্ভমেলার আগেও মন্দিরে ছোটখাটো চুরির ঘটনায় জড়িত ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের কুম্ভমেলা চলাকালীন অযোধ্যার রাম মন্দিরে পুণ্যার্থী ও ভক্তদের সমাগম অবিশ্বাস্য হারে বেড়ে যায়। ভক্তদের দেওয়া দান ও প্রণামীর পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ার সেই সুযোগকেই কাজে লাগায় এই চক্রটি। পরস্পর যোগসাজশে ট্রাস্টের নজর এড়িয়ে তারা কোটি কোটি টাকা ধাপে ধাপে সরিয়ে ফেলে।
মঙ্গলবার ধৃত ৮ অভিযুক্তকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে এসআইটি। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা চুরির পরিকল্পনা এই আটজন মিলেই ফেঁদেছিল। তবে এদের মধ্যে মূল পাণ্ডা ছিল লাভকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র নামের দুই ভায়রাভাই। এই দুজনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
এই আর্থিক দুর্নীতির খবর সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষের মনে। গত সোমবার অযোধ্যার ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন (Faizabad Bar Association) একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস করিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাম মন্দিরের অর্থ চুরিতে গ্রেপ্তার হওয়া এই আটজনের হয়ে তাদের সংগঠনের কোনও সদস্য আদালতে আইনি লড়াই লড়বেন না। যদি কোনও আইনজীবী এই নির্দেশ অমান্য করে ধৃতদের জামিনের পক্ষে দাঁড়ান, তবে তাঁকে জরিমানা বাবদ অ্যাসোসিয়েশনের তহবিলে ৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাটের পেছনে চোরদের চাতুরীর চেয়েও বড় ছিল রাম মন্দির ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার চরম গাফিলতি। তদন্তে মূলত ৫টি বড় গলদ সামনে এসেছে:
- দানবাক্স স্থানান্তরে গলদ: মন্দিরের প্রায় ৪০টি দানবাক্স থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থ গণনা কক্ষে নিয়ে যাওয়ার যে চেইন বা ধাপে ধাপে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ছিল, তার মধ্যেই বড় গলদ ছিল।
- নগদ ব্যবস্থাপনা বিধি লঙ্ঘন: প্রণামী ও অনুদান বাবদ প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যাশ বা নগদ আসত, তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে কঠোর আইনি নিয়ম থাকা উচিত, তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে।
- সিসিটিভি ফুটেজ উধাও: মন্দিরের সুরক্ষায় থাকা সিসিটিভি-র ফুটেজ মাত্র ৪৫ দিন পর আপনা আপনিই সিস্টেম থেকে মুছে যেত (Auto-delete)! অর্থাৎ তা ব্যাকআপ বা সংরক্ষণের কোনও যথাযথ ব্যবস্থাই রাখেনি ট্রাস্ট। এছাড়া গণনাকৃত অর্থ ও ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হিসেবের মেলানো হত না।
- SBI-এর সতর্কতা উপেক্ষা: ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এসবিআই (State Bank of India) প্রায় তিন মাস আগেই এই আর্থিক অনিয়ম ও গরমিল নিয়ে ট্রাস্টকে লিখিতভাবে সতর্ক করেছিল। কিন্তু ট্রাস্টের আধিকারিকেরা সেই সতর্কবার্তাকে আমল দেননি।
- বহুস্তরীয় নিরাপত্তার অভাব: ভারতের অন্যান্য বড় ও ধনী মন্দিরগুলিতে (যেমন তিরুপতি বা তিরুবনন্তপুরম) যেভাবে সিসিটিভি নজরদারি ও কঠোর বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বিধি বা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়, রাম মন্দিরের ক্ষেত্রে তার সিকিভাগও করা হত না।
রাম মন্দিরের মতো একটি পবিত্র এবং সংবেদনশীল স্থানে এমন কোটি কোটি টাকার অনুদান কেলেঙ্কারি ট্রাস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। স্টেট ব্যাঙ্কের ওয়ার্নিং পাওয়ার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, তা নিয়েও ক্ষুব্ধ যোগী সরকার। বর্তমানে ধৃত আটজন শ্রীঘরে থাকলেও, ট্রাস্টের ভেতরের কোনো বড় মাথা বা আধিকারিক এই চুরিতে মদত দিচ্ছিলেন কি না, তা জানতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে এসআইটি।






