Thalapathy Vijay vs MK Stalin DMK: তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা দখলের মহানাটক! ২ মাসের মাথাতেই বিজয়ের সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র, ১৫ বিধায়ককে ৩৫ কোটি টাকার টোপ ডিএমকে-র?

source : সংবাদ প্রতিদিন
চলচ্চিত্রের পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই ২০২৬ সালে তামিলনাড়ুর মসনদ দখল করেছেন তামিল সুপারস্টার ‘থলপতি’ বিজয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার দু’মাসও কাটেনি, এর মধ্যেই তাঁর সরকারকে উল্টে দেওয়ার এক ভয়াবহ রাজনৈতিক চক্রান্তের তথ্য সামনে এল। তবে এই ঘটনায় সাধারণত কাঠগড়ায় থাকা বিজেপি নয়, বরং অভিযুক্ত রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তথা এম কে স্ট্যালিনের (M K Stalin) দল ডিএমকে (DMK)। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিজয়ের দলের বিধায়ক কিনে বিধানসভায় অনাস্থা আনার এই চাঞ্চল্যকর চক্রান্ত প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি।
ষড়যন্ত্রের সুতোটি আলগা হয় যখন বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK)-এর দুই বিধায়ক—উথানাগারাই এবং এন ইলাইয়ারাজা চেন্নাই পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি ছিল, চেন্নাইয়ের একটি নামী কনসাল্টেন্সি ফার্ম তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দেয়।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় স্বয়ং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুলে জানিয়েছেন:
“তদন্তে নেমে অত্যন্ত বিস্ফোরক তথ্য মিলেছে। ওই কনসাল্টেন্সি ফার্মটি কেবল দুজন নয়, আমাদের মোট ১৫ জন বিধায়কের কাছে পৌঁছেছিল। প্রত্যেককে দলবদল ও অনাস্থার পক্ষে থাকার জন্য ৩৫ কোটি টাকা করে ঘুষ দেওয়ার অফার দেওয়া হয়েছিল।”
টিভিকে-র অভিযোগ, এই গোটা অপারেশনটি চালাচ্ছে ডিএমকে-র কুখ্যাত ‘কারুর গ্যাং’। চেন্নাই পুলিশ তদন্তে নেমে ওই কনসাল্টেন্সি ফার্মের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যায়, এই ফার্মটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে ডিএমকে বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন বিতর্কিত মন্ত্রী সেন্থিল বালাজির (Senthil Balaji)।
এরপরই পুলিশি তৎপরতায় সেন্থিল বালাজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারির পর বিজয়ের দাবি আরও জোরালো হয়েছে যে, স্ট্যালিনের নেতৃত্বেই ডিএমকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পেছনের দরজা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ছক কষছিল।
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে বিজয় নতুন যুগের সূচনা করলেও, তাঁর সরকার কিন্তু একক সংখ্যা গরিষ্ঠতার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। জোটের ওপর নির্ভরশীলতাই এই সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, যা কাজে লাগাতে চাইছে ডিএমকে।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় বর্তমান সমীকরণ
| শাসক জোট (TVK + Allies) | বিরোধী শিবির (DMK + Others) | স্থায়িত্বের চাবিকাঠি |
| থলপতি বিজয়ের দল TVK | এম কে স্ট্যালিনের DMK | জোটের শরিকদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। |
| সমর্থনকারী দল: কংগ্রেস, আইইউএমএল (IUML), সিপিআই (CPI), সিপিএম (CPM) | এককভাবে বৃহত্তম দল হওয়ার চেষ্টা। | ১৫ জন বিধায়ক দল ছাড়লেই সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। |
স্বভাবতই এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ডিএমকে শিবির। স্ট্যালিনের দলের পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। নিজেদের সরকার চালাতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকতেই স্রেফ রাজনৈতিক বাজার গরম করতে এবং জনগণের সহানুভূতি কুড়োতে ডিএমকে-র নামে এই মিথ্যা গল্প ছড়ানো হচ্ছে।”
থালাপ্যাথি বিজয়ের ফিল্মি কায়দায় রাজনীতিতে এন্ট্রি তামিলনাড়ুর মানুষ মেনে নিলেও, জোট সরকারের স্থায়িত্ব যে প্রতি মুহূর্তে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকে—তা এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল। আপাতত পুলিশি তদন্তে সেন্থিল বালাজির নাম জড়ানোয় আইনি ও নৈতিক দিক থেকে বিজয়ের পাল্লা ভারী হলেও, আগামী দিনে কংগ্রেস বা বামপন্থীরা বিজয়ের পাশে কতটা শক্ত হয়ে দাঁড়ায়, তার ওপরেই নির্ভর করছে তামিলনাড়ুর এই নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ।






