Ronaldo’s Proud Farewell: “আমার আগে পর্তুগাল শূন্য ছিল!” বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও দেশের ৩ ট্রফি মনে করিয়ে সদর্প ঘোষণা রোনাল্ডোর, পদত্যাগ করলেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ

source : সংবাদ প্রতিদিন
ডালাসের মাঠে স্পেনের কাছে হেরে চোখের জলে তাঁর ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) বুঝিয়ে দিলেন, ট্রফি হাতছাড়া হলেও তাঁর দম্ভ আর ফুটবলীয় অহংকার এতটুকু টাল খায়নি। ভাঙা মন ও ভেজা চোখে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়েই পর্তুগিজ যুবরাজ মনে করিয়ে দিলেন তাঁর সোনালি অতীত এবং দেশের ফুটবলে তাঁর ‘ছায়াপথসম’ অবদানের কথা। সদর্পে জানালেন, পর্তুগাল ফুটবলের ইতিহাস আসলে তাঁর হাত ধরেই লেখা শুরু হয়েছে।
“বিবেকের কাছে পরিষ্কার আমি”, ট্রফি খতিয়ান দিলেন রোনাল্ডো
স্পেনের বিরুদ্ধে জানপ্রাণ লড়িয়ে হেরে যাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ৪১ বছরের রোনাল্ডো। তবে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আবার সেই চেনা লড়াকু সিআর৭।
নিজের শেষ ম্যাচ নিয়ে রোনাল্ডো বলেন, “বিশ্বকাপটা এভাবে শেষ হওয়ায় আমি খুবই হতাশ। নিজের সবটুকু দিয়েছিলাম। আমার যতটা সামর্থ্য, ততটা দিয়ে খেলেছি। নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করলাম।”
এর পরেই পর্তুগাল ফুটবলে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রোনাল্ডো যোগ করেন—
“পর্তুগালকে আমি তিনটে ট্রফি দিয়েছি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আগে তো পর্তুগাল কিছুই জিততে পারেনি। ওদের ক্যাবিনেট শূন্য ছিল। আমাদের সবচেয়ে বড় খেতাব এসেছিল ২০১৬-তে, যখন আমরা ইউরোপসেরা (Euro Cup 2016) হয়েছিলাম। আমার কাছে ওই সাফল্য বিশ্বকাপের থেকে কোনো অংশে কম নয়।”
বিদায় নিলেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ
রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ ট্র্যাজেডিতে শেষ হওয়ার পরই বড়সড় ধাক্কা পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনে। স্পেনের কাছে হেরে দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেন রবার্তো মার্টিনেজ (Roberto Martinez)। রোনাল্ডোকে কেন্দ্র করে যে বিশ্বজয়ের ছক তিনি সাজিয়েছিলেন, তা ব্যর্থ হতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড।
[পর্তুগাল ফুটবলে রোনাল্ডোর ট্রফি ক্যাবিনেট]
১. ২০১৬ ইউরো কাপ (UEFA Euro 2016) — পর্তুগালের ইতিহাসের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি।
২. ২০১৯ নেশনস লিগ (UEFA Nations League 2019) — ইউরোপের আরেক মেগা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন।
৩. আরও একটি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক কাপ — দেশের জার্সিতে মোট ৩টি রুপোলি ট্রফি এনে দিয়েছেন সিআর৭।
ইউসেবিও-ফিগোর চেয়েও কেন অনন্য সিআর সেভেন?
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে রোনাল্ডোর আগেও ব্ল্যাক প্যান্থার খ্যাত ইউসেবিও (Eusebio) কিংবা ড্রিবলিং কিং লুইস ফিগোর (Luis Figo) মতো বিশ্বখ্যাত মহাতারকারা এসেছেন। কিন্তু তাঁরা কেউই পর্তুগালকে স্রেফ ‘ইউরোপের এক ফুটবল খেলিয়ে দেশ’ থেকে বিশ্বজয়ের অন্যতম দাবিদার বা ‘পরাশক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
রোনাল্ডো আসার আগে ইউরো বা বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগাল আসত কেবলই ভালো পারফর্ম করার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু সিআর সেভেনের জমানায় পর্তুগাল প্রতিটা বড় টুর্নামেন্টে পা রাখে ট্রফির মূল দাবিদার হয়ে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, রোনাল্ডো পরবর্তী যুগে ব্রুনো ফার্নান্দেজ বা রাফায়েল লিয়াওরা পর্তুগালের এই বৈশ্বিক সম্মান ও রাজকীয় তকমা ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এক নজরে পর্তুগাল ফুটবলে রোনাল্ডোর যুগান্তকারী রূপান্তর:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | রোনাল্ডোর আগের পর্তুগাল | রোনাল্ডো জমানার পর্তুগাল (সিআর৭ যুগ) |
| ট্রফি ক্যাবিনেট | ০ (শূন্য আন্তর্জাতিক ট্রফি)। | ৩টি বড় প্রতিযোগিতামূলক ট্রফি (ইউরো ও নেশনস লিগসহ)। |
| দলের পরিচিতি | ইউরোপের একটি সাধারণ লড়াকু ফুটবল দল। | বিশ্বফুটবলের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি ও ট্রফির দাবিদার। |
| কিংবদন্তিদের সাফল্য | ইউসেবিও বা ফিগো দেশকে ট্রফি এনে দিতে পারেননি। | রোনাল্ডো দেশকে ইউরোপসেরা করে ফুটবল মানচিত্রে অমর করেছেন। |
| বর্তমান স্থিতি | শেষ বিশ্বকাপ খেলে বিদায় রোনাল্ডোর। | বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জেরে কোচ রবার্তো মার্টিনেজের পদত্যাগ। |
বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা হয়তো ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ছোঁয়া পেল না, কিন্তু তাতে তাঁর মহত্ব বা উত্তরাধিকার বিন্দুমাত্র ম্লান হচ্ছে না। শূন্য ট্রফি ক্যাবিনেট নিয়ে যে দেশের ব্যাটন তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন, আজ সেই দেশকে ৩টি আন্তর্জাতিক ট্রফি ও পরাশক্তির তকমা দিয়ে বিদায় নিচ্ছেন সিআর সেভেন। বিশ্বফুটবল বিশ্বকাপজয়ীদের মনে রাখে ঠিকই, কিন্তু পর্তুগাল ফুটবল চিরকাল মনে রাখবে সেই এক ও অদ্বিতীয় মানুষকে— যাঁর নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।






