CJP Parliament March Tuesday: “ওটা স্রেফ ট্রেলার ছিল!” নাড্ডার আরজি খারিজ করে মঙ্গলবার ফের সংসদ অভিযানের হুঁশিয়ারি সিজেপি-র, অনশনে অনড় সোনম ওয়াংচুক

source : সংবাদ প্রতিদিন
নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল দেশের রাজধানী। সোমবার দিনভর রক্তক্ষয়ী সংঘাত, যন্তর মন্তরে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও প্রায় ৫,০০০ নিরাপত্তারক্ষীর ঘেরাটোপের পর বিকেলে সিজেপি (CJP) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। কিন্তু সেই বৈঠকেও কোনো রফা মিলল না। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিদাওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক বার্তা না দেওয়ায় অবস্থান আরও কঠোর করল ককরোচ জনতা পার্টি।
“সোমবার তো স্রেফ ট্রেলার ছিল!”— অনড় সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ
সোমবার বিকেলে জে পি নাড্ডার বাসভবনে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কার বৈঠকের পর নাড্ডাজি আন্দোলন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাত বাড়তেই সেই প্রস্তাব এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ হুঙ্কার দিয়ে জানান—
“জে পি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেও আমাদের মূল দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলনের পথ থেকে এক চুলও সরে আসার প্রশ্নই ওঠে না। সোমবার যা হয়েছে তা তো স্রেফ ট্রেলার ছিল। মঙ্গলবার আমরা আবারও একই শক্তিতে সংসদ অভিযানে নামব। যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিচ্ছেন, আমাদের এই লড়াই চলবে।”
সিজেপি সমর্থকরা ইতিমধ্যেই আবার যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল পুনর্দখল করে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।
“শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বর্বতার জবাব দেব”— হাসপাতাল থেকে সোনম
যন্তর মন্তর থেকে তুলে নিয়ে শনিবার পুলিশ জোরপূর্বক সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করলেও সেখানে চিকিৎসায় অস্বীকৃতি জানিয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ৫৯ বছর বয়সী শিক্ষাবিাদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
সোমবার রাজপথে সিজেপি সমর্থকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা জানার পর হাসপাতাল থেকেই বার্তা পাঠিয়েছেন সোনম। তিনি জানান—
“আন্দোলনরত নিরপরাধ তরুণদের ওপর পুলিশ যে নির্মম আচরণ করেছে, তা দেখেই আমি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যতক্ষণ না তরুণ প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সাংসদদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন বা আমার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে, আমার অনশন থামবে না।”
[মঙ্গলবারের মেগা সংঘাতের আপডেট]
* অভিযানের লক্ষ্য: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ও নিট দুর্নীতির বিচার।
* আন্দোলনকারীদের অবস্থান: মঙ্গলবারেও টানা সংসদ অভিযান।
* প্রশাসনিক প্রস্তুতি: যন্তর মন্তরে ৫,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন।
* আইনি পদক্ষেপ: ৭০ জন বিক্ষোভকারী আটক, এলাকা জুড়ে ১৬৩ ধারা বহাল।
৭০ জন আটক, রাহুল গান্ধীর তোপ ও রণক্ষেত্রের আশঙ্কা
সোমবার পুলিশের লাঠিচার্জ ও ব্যারিকেড ভাঙার ঘটনায় ইতোমধ্যেই ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। পুরো যন্তর মন্তর ও সংসদ ভবন চত্বরকে উচ্চ নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদের ওপর পুলিশি নিগ্রহ নিয়ে চরম সুর চড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়ে পুলিশের এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করেন তিনি। তবে সিজেপি-র রোববারের নতুন ডাকের পর মঙ্গলবার আবারও রাজধানী দিল্লি রণক্ষেত্রের চেহারা নিতে পারে বলে আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ।
এক নজরে মঙ্গলবারের সংসদ অভিযান ও বর্তমান স্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি |
| মূল সংগঠন | ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। |
| মঙ্গলবারের কর্মসূচি | পুনরায় সংসদ ভবনের দিকে মেগা মার্চ/অভিযান। |
| সোনম ওয়াংচুকের সিদ্ধান্ত | অনশন প্রত্যাহার না করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ। |
| সরকারের পদক্ষেপ | জে পি নাড্ডার অনুরোধ ব্যর্থ, পুলিশি সতর্কতা তুঙ্গে। |
| আটক সংখ্যা | দিল্লি পুলিশের হাতে ৭০ জন সিজেপি কর্মী-সমর্থক। |
জে পি নাড্ডার আলোচনার টেবিলে বরফ না গলে উল্টে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার পথে। সিজেপি-র নতুন করে দেওয়া মঙ্গলবারের সংসদ অভিযানের ডাক এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশনে অনড় থাকার সিদ্ধান্তে বাদল অধিবেশনে সংসদ ও রাজপথ— উভয় ক্ষেত্রই চরম উত্তপ্ত থাকতে চলেছে।






