ভিক্টোরিয়া হাউস শুনশান, ডেকোর্স লেনে নেই অতিরিক্ত প্লেটের চাপ! ২০২৬-এর ২১ জুলাইয়ে ভিন্ন ছবি কলকাতায়, তিন ভাগে বিভক্ত কর্মসূচি

source : আনন্দবাজার
প্রতি বছর ২১ জুলাই মানেই তিলোত্তমার বুকে ঘাসফুল পতাকার দাপট, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে লক্ষ মানুষের সমাবেশ আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা সমর্থকদের জয়ধ্বনি। তবে ২০২৬ সালের ২১ জুলাই, মঙ্গলবার কলকাতার হৃদপিণ্ডে এক সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি ধরা দিল। ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বর এবার একেবারেই খালি। নিরাপত্তা বেষ্টনী কিংবা বাঁশের ব্যারিকেডের ঝক্কি না থাকায় অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক ছন্দে চলছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলা চত্বর।
ভিক্টোরিয়া হাউসে নেই চেনা কোলাহল, খোলা দোকানপাট
অন্য বছর ২১ জুলাইয়ের সকাল থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলা জুড়ে পুলিশি কড়াকড়ি এবং ভিড়ের চাপে ছোট দোকানপাট বন্ধ রাখতে হতো। তবে এবার সেই ছবি উধাও। আয়কর ভবনের পাশে কিংবা ধর্মতলার ফুটপাতে ছোট মোবাইল কভারের দোকান চালানো সাবির আহমেদের মতো ব্যবসায়ীরা এবার নিশ্চিন্তে দোকান খুলেছেন।
সাবির জানান—
“অন্যবার এই তারিখে ব্যবসা বন্ধ রাখতে হতো। এবার সেই অসুবিধা নেই, দোকান খোলা রেখেছি। তবে আমি দিদির সমর্থক, তাই দুপুরে ভাই দোকান সামলাবে আর আমি হেঁটে বিড়লা তারামণ্ডলের দিকে যাব মিটিং শুনতে।”
চায়ের ব্যবসায়ী বিশ্বম্ভর সাউয়ের মন্তব্য—
“সরকার বদলাতেই বুঝেছিলাম এবার ভিড় কিছুটা কমবে। তবে দিদির মিটিংয়ের জায়গাটাই যে বদলে যাবে ভাবিনি! বিক্রিবাটা অন্যান্য দিনের মতোই, বাড়তি খরিদ্দার নেই।”
ডেকোর্স লেনে নেই ‘অতিরিক্ত’ রান্নার হাঁড়ি
কলকাতা শহরের রসনাবিলাসের প্রধান কেন্দ্র ডেকোর্স লেনেও এবার ভিন্ন চিত্র। ২১ জুলাই মানেই যেখানে ভাতের হোটেল বা ডিম-পাউরুটির দোকানে তিল ধারণের জায়গা থাকত না, সেখানে এবার সুলভ ভিড়।
হোটেল কর্মী সজল হালদার জানান—
“২১ জুলাই মানেই অতিরিক্ত ১,০০০ প্লেট খাবারের ব্যবস্থা রাখতে হতো। এবার সেরকম কোনো বাড়তি চাপ নেই। সকাল থেকেই বোঝা গিয়েছে মিটিংয়ের ভেন্যু দূরে হওয়ায় চেনা ভিড়টা অন্য জায়গায় চলে গিয়েছে।”
[২০২৬ সালের ২১ জুলাই: ৩টি ভিন্ন মঞ্চের ঠিকানা]
১. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল: বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে।
২. ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল: মেয়ো রোড, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে।
৩. প্রদেশ কংগ্রেস: শহিদ মিনার ময়দানে।
বিভক্ত রাজপথ, ভিড়ের নিরিখে কে এগিয়ে?
২০২৬ সালে এসে ২১ জুলাইয়ের ‘শহীদ স্মরণ’ কর্মসূচি মূল তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার পর মূল তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কদের সিংহভাগ দল ছাড়লেও সাধারণ সমর্থকদের উপস্থিতি বিচারে এখনও এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিড়লা তারামণ্ডলের সমাবেশই।
ধর্মতলার ব্যবসায়ীদের মুখেও এখন একটাই কৌতূহল— তারামণ্ডল নাকি মেয়ো রোড, শেষ পর্যন্ত ভিড়ের বাজিমাত কে করল?
এক নজরে ২০২৬-এর ২১ জুলাইয়ের পরিস্থিতি:
| ক্ষেত্র | অন্যান্য বছরের চিত্র | ২০২৬ সালের চিত্র |
| ভিক্টোরিয়া হাউস | জনসমুদ্র, মূল সভামঞ্চ | সম্পূর্ণ শুনশান, যান চলাচল স্বাভাবিক |
| দোকানপাট | বন্ধ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত | খোলা, সাধারণ দিনের মতো ব্যবসা |
| ডেকোর্স লেন | চরম ব্যস্ততা ও বাড়তি খাবার প্রস্তুত | স্বাভাবিক খরিদ্দার, বিশেষ কোনো চাপ নেই |
| রাজনৈতিক অবস্থান | একক মূল মঞ্চ (তৃণমূল) | ত্রিমুখী সমাবেশ (তারামণ্ডল, মেয়ো রোড, শহিদ মিনার) |
কলকাতার রাজনীতিতে ২১ জুলাই এক আবেগঘন ঐতিহাসিক দিন। তবে ভেন্যু বদল ও রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়ায় ২০২৬-এর ২১ জুলাই এক নতুন অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল কলকাতা। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের চেনা ভিড় না থাকলেও, শহরের ভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তিনটি পৃথক সভামঞ্চকে কেন্দ্র করেই আজ আবর্তিত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতির নজর।






