CJP Parliament March Violence: ১৬৩ ধারা ভেঙে এগোতেই লাঠিচার্জ! সিজেপি-র সংসদ অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার দিল্লি, বন্ধ রাজীব চক সহ ৫ মেট্রো স্টেশন

source : সংবাদ প্রতিদিন
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনেই দিল্লিতে ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলনের আঁচ চরম আকার ধারণ করল। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এবং আন্দোলনকারী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে সোমবার মেগা ‘সংসদ অভিযান’-এর ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দিল্লি পুলিশ আগেই এই অভিযানের অনুমতি বাতিল করে এবং পুরো এলাকায় ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা) জারি করে। তবে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ভেঙে হাজার হাজার আন্দোলনকারী রাজপথে নেমে এলে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশের সাথে।
ব্যারিকেড ভেঙে তোলপাড়, রাজপথে লাঠিচার্জ
সোমবার সকালে যন্তর মন্তর থেকে ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে এগোতে চেষ্টা করেন ককরোচ জনতা পার্টির হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। আগে থেকেই তৈরি থাকা দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল কনটিনজেন্ট মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলে শুরু হয় প্রবল ধস্তাধস্তি ও খণ্ডযুদ্ধ।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় পুলিশ। শুরু হয় বেপরোয়া লাঠিচার্জ। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ছাত্র এই লাঠিচার্জে রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অনেককে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
“আজ ককরোচদের কেউ থামাতে পারবে না”— অনড় সিজেপি
দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সাফ জানান, “সংসদ ভবন ও তার আশপাশের এলাকা অত্যন্ত উচ্চনিরাপত্তার অধীনে পড়ে। অনুমতি ছাড়া মিছিল এগোলে তা আটকানোই পুলিশের আইনি দায়িত্ব।”
তবে পুলিশের রক্তচক্ষু ও ভারী বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই ঝাণ্ডা হাতে রাজপথে অবস্থান নেন সিজেপি (CJP) সমর্থকরা। সিজেপি নেতৃত্বের তরফে পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে বলা হয়—
“বৃষ্টি হোক কিংবা আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা, আজ ককরোচদের কেউ থামাতে পারবে না। ছাত্রদের অধিকার ছিনিয়ে না নিয়ে এবং নিট দুর্নীতির বিচার না পেয়ে রাজপথ থেকে এক পা-ও পিছু হঠবে না আন্দোলনকারীরা।”
[দিল্লিতে জরুরি পুলিশি পদক্ষেপ ও মেট্রো নিষেধাজ্ঞা]
* বন্ধ মেট্রো স্টেশন: রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, সেবা তীর্থ।
* মোতায়েন বাহিনী: ৫,০০০ জন পুলিশ ও প্যারা-মিলিটারি জোয়ান।
* আইনি বিধিনিষেধ: যন্তর মন্তর ব্যতীত সমগ্র এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি।
* যাতায়াত ব্যবস্থা: লুটিয়েন্স দিল্লিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
স্তব্ধ ৫ মেট্রো স্টেশন, সফদরজং থেকে সোনমের ৩ শর্ত
সংসদ অভিযানের জেরে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) জরুরি নির্দেশিকা জারি করে সেন্ট্রাল দিল্লির ৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। রাজীব চক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের মতো ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন বন্ধ থাকায় তীব্র বিপাকে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
অন্যদিকে, গত ২১ দিন ধরে অনশন চালানো শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ শনিবার সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করলেও তিনি অনশন বা চিকিৎসা নেননি। সোমবার হাসপাতাল থেকেই সরকার ও পুলিশের উদ্দেশ্যে ৩টি প্রস্তাব বা শর্ত পাঠিয়েছেন ওয়াংচুক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কেন্দ্র যদি তাঁর দেওয়া ৩টি শর্তের যেকোনো একটি মেনে নেয়, তবেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।
এক নজরে দিল্লির সংসদ অভিযান ও বর্তমান স্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক আপডেট |
| আন্দোলনকারী সংগঠন | ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ। |
| মূল দাবি | নিট দুর্নীতির বিচার, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও সোনম ওয়াংচুকের দাবি পূরণ। |
| পুলিশি অ্যাকশন | টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও ব্যাপক লাঠিচার্জ। |
| জনজীবনের ওপর প্রভাব | লুটিয়েন্স দিল্লিতে তীব্র যানজট এবং ৫টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ। |
| সোনম ওয়াংচুকের অবস্থান | ৩টি শর্ত সাপেক্ষে অনশন প্রত্যাহারের বার্তা। |
দিল্লির রাজপথে সিজেপি-র এই সংসদ অভিযান এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনা রাজনৈতিক অলিন্দে চরম উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংসদের ভেতরে বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে রাজপথে জলকামান ও লাঠির সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। সোনম ওয়াংচুকের ৩ শর্তের জবাবে কেন্দ্র সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং দিল্লির বন্ধ মেট্রো ও অবরুদ্ধ রাস্তা কতক্ষণে স্বাভাবিক হয়, এখন সেটাই দেখার।






