তিনটি শর্তে অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত সোনম ওয়াংচুকের, সোশ্যালে খোলা চিঠি

source : সংবাদ প্রতিদিন
নিট (NEET) পরীক্ষার জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শনিবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করলেও নিজের আন্দোলন থেকে পিছপা হননি তিনি। তবে অনশনের ২৩তম দিনে এসে অবশেষে অনশন প্রত্যাহারে রাজি পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনেই তিনি অনশন ভাঙতে পারেন, তবে তার জন্য কেন্দ্রের দরবারে ৩টি শর্ত পেশ করেছেন তিনি।
সোশ্যালে খোলা চিঠি ও ওয়াংচুকের ৩ শর্ত
হাসপাতালের চার দেওয়ালের বন্দিদশা থেকেই নিজের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি হাতে লেখা চিঠি শেয়ার করেছেন সোনম ওয়াংচুক। চিঠিতে অনুগামী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন—
“আপনারা অনেকেই জানতে চাইছেন আমি অনশন কবে ভাঙব। আমি ২০ জুলাই অনশন ভাঙতে পারি, যদি সরকার শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ও প্রশ্নফাঁসের দায় নেয়। অথবা আমি এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নেতৃত্ব সংসদে যেতে পারলে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দেন। আর যদি শারীরিক পরিস্থিতির কারণে আমি সংসদে যেতে না-পারি, তবে বিভিন্ন দলের সাংসদরা যেন হাসপাতালে এসে আমাকে সেই আশ্বাস প্রদান করেন।”
[সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার ৩টি শর্ত]
১. শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ও নিট কেলেঙ্কারির দায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিতে হবে।
২. আন্দোলনকারীদের সংসদে যেতে দিতে হবে এবং সাংসদদের থেকে আলোচনার আশ্বাস পেতে হবে।
৩. অথবা সাংসদ ও রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে জবাবদিহির নিশ্চয়তা দিতে হবে।
“চিকিৎসকদের চাপে ফেলা সত্ত্বেও অটল সোনম”— দাবি স্ত্রীর
এর আগে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো জানিয়েছিলেন, অনশন ভাঙানোর জন্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা লাগাতার চাপ তৈরি করলেও ওয়াংচুক এখনও পর্যন্ত কোনো শক্ত খাবার বা তরল খাবার গ্রহণ করেননি। এমনকি স্যালাইন নিতেও অস্বীকার করেছেন তিনি।
তবে সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই যদি বিরোধী বা শাসকদলের সাংসদরা এসে শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে সংসদে সরব হওয়ার লিখিত বা মৌখিক নিশ্চয়তা দেন, তবেই এই আন্দোলন নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছে তাঁর পরিবার।
রাজপথে সিজেপি-র ‘সংসদ চলো’ অভিযান
অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুকের এই চিঠির পাশাপাশি দিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) মেগা ‘সংসদ ভবন অভিযান’ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই অভিযানের কোনো আইনি অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সংসদ চত্বর সহ পুরো এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় ওয়াংচুক আমজনকে শান্তিপূর্ণ এই অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সতর্ক করে দিয়েছেন যে— তাঁর শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক লড়াই থামবে না।
এক নজরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ও ৩ শর্ত:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি |
| অনশনের সময়কাল | গত ২৮ জুন থেকে শুরু হয়ে আজ ২৩তম দিনে পদার্পণ। |
| অনশন ভাঙার সময় | ২০ জুলাই (শর্ত পূরণ হওয়া সাপেক্ষে)। |
| বর্তমান অবস্থান | সফদরজং হাসপাতাল, দিল্লি (পুলিশি নজরদারিতে)। |
| প্রধান দাবি | শিক্ষা ব্যবস্থায় দায়বদ্ধতা এবং প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচার। |
| আইনি স্থিতি | দিল্লি হাইকোর্টে চিকিৎসাসংক্রান্ত রিট পিটিশন বিচারাধীন। |
দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনের সলতে সলতে যে আগুন জ্বলেছিল, তা এখন সংসদের দরজায় কড়া নাড়ছে। সোনম ওয়াংচুক তাঁর ৩টি শর্তের মাধ্যমে বল এখন সরকারের কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করেন কি না, নাকি রাজপথে সিজেপি-র আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।






