Bengaluru Mysuru Expressway Road Rage: এক্সপ্রেসওয়েতে উন্মত্ত যুবকদের তাণ্ডব! ১০ মাসের শিশুর সামনেই স্বামীকে বাঁচাতে ‘গয়না নেওয়ার’ আর্তি স্ত্রীর, বেঙ্গালুরুতে ধৃত ৩

source : আনন্দবাজার
আইটি সিটি বেঙ্গালুরুর বুকে ফের এক ভয়ঙ্কর পথ-হিংসা বা ‘রোড রেজ’ (Road Rage) মামলার সাক্ষী থাকল দেশবাসী। এক্সপ্রেসওয়ের উপর একটি গাড়িকে ঘিরে একদল উন্মত্ত যুবক যেভাবে এক দম্পতি ও তাঁদের দুধের শিশুর ওপর চড়াও হলো, তা দেখে শিউরে উঠছেন সকলে। সামান্য গাড়ির ধাক্কাকে কেন্দ্র করে মাঝরাস্তায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যেভাবে এক যুবতীকে তাঁর স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাইতে বাধ্য করা হলো, তা হাইওয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ট্রাফিক জ্যামের মাঝে সামান্য ধাক্কা আর ৯ যুবকের তাণ্ডব
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত গাড়িচালকের নাম সাগর কুমার। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়ে (Bengaluru-Mysuru Expressway) ধরে স্ত্রী ও ১০ মাসের সন্তানকে নিয়ে নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর তীব্র যানজট বা ট্রাফিক জ্যাম ছিল।
ধীরে ধীরে গাড়ি এগোনোর সময় অসাবধানতাবশত সাগরের গাড়ির সামনের অংশটি আগে থাকা একটি গাড়ির পেছনে হালকাভাবে ধাক্কা মারে। ব্যস, এই সামান্য ভুলেই যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। সামনের গাড়িটি থেকে নামেন ৯ জন উন্মত্ত যুবক। তাঁরা নেমেই সাগরের গাড়িটিকে ঘিরে ধরেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে গাড়ির বডিতে ও কাচে সজোরে লাথি মারতে শুরু করেন।
“আমার সোনার গয়না সব নিয়ে নিন, ওনাকে ছেড়ে দিন!”
যুবকদের চিৎকার ও উন্মত্ততা দেখে গাড়ির ভেতরে তখন আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সাগরের স্ত্রী। তাঁর কোলে তখন ১০ মাসের এক চিলতে শিশু। যুবকদের একজন হেঁচকা টানে গাড়ির দরজা খুলে ফেললে সাগর নিজের প্রাণপণে সেই দরজা টেনে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ৯ জনের শক্তির সামনে তিনি বেশিক্ষণ পেরে ওঠেননি।
গাড়ির ভেতর থেকে সাগরের স্ত্রী হামলাকারীদের কাছে জোড়হাত করে স্বামীর প্রাণভিক্ষা চেয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন—
“দোহাই আপনাদের, ওকে (স্বামী) মারবেন না। আমাদের ছেড়ে দিন। আমার শরীরে যে সোনার গয়না আছে, সব আপনারা খুলে নিয়ে নিন, তাও আমাদের বাচ্চার দিকে তাকিয়ে রেহাই দিন।”
কিন্তু সেই আকুতিতেও মন গলেনি ওই পাষণ্ডদের। সাগরকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক টেনে বের করে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে লাঠি ও লাথি-ঘুসি মেরে রক্তাক্ত করা হয়। অভিযোগ, যুবকেরা সাগরের স্ত্রী ও কোলস্থিত ১০ মাসের শিশুটিকেও রেহাই দেয়নি, তাঁদের গায়েও হাত তোলা হয়।
[বেঙ্গালুরু হাইওয়ে রোড রেজ মামলার বিবরণ]
* ঘটনাস্থল: বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়ে।
* আক্রান্ত: সাগর কুমার, তাঁর স্ত্রী এবং ১০ মাসের শিশু সন্তান।
* হামলার কারণ: যানজটের মাঝে আগের গাড়িতে সামান্য স্ক্র্যাচ লাগা।
* অপরাধের ধরন: রাস্তা আটকে মারধর, হুমকি এবং শ্লীলতাহানি।
* বর্তমান অবস্থা: সাগর কুমার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, পুলিশি তদন্তে ধৃত ৩।
এখনও কাটেনি বিভীষিকা, ৩ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ
হামলার পর কোনোমতে রক্তাক্ত অবস্থায় সাগর কুমারকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এনডিটিভি-কে (NDTV) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাগর কুমার আতঙ্কের দিনটির কথা মনে করে বলেন, “ওরা মানুষ ছিল না, পশুর মতো আচরণ করছিল। আমার স্ত্রী নিজের সমস্ত সোনার গয়না ওদের দিয়ে দিতে চেয়েছিল যাতে আমাদের প্রাণ বাঁচে। ওরা আমার স্ত্রী ও ১০ মাসের বাচ্চার ওপরেও হামলা করেছে। আমরা এখনও সেই বিভীষিকার ট্রমা থেকে বেরোতে পারছি না।”
এই নৃশংস ঘটনার পর সাগরের স্ত্রীর বয়ানের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ৯ যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। হাইওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও গাড়ির নম্বর প্লেট ট্র্যাক করে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৩ জন অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে। বাকি ৬ জন পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে কর্ণাটক পুলিশ।
এক নজরে বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসওয়ে হিংসা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | হাইওয়ে রোড রেজের মূল খতিয়ান |
| আক্রান্ত পরিবার | সাগর কুমার (আইটি কর্মী), স্ত্রী ও ১০ মাসের শিশু। |
| হামলাকারীর সংখ্যা | মোট ৯ জন উশৃঙ্খল যুবক। |
| স্ত্রীর চরম পদক্ষেপ | স্বামীকে বাঁচাতে নিজের শরীর থেকে গয়না খুলে দেওয়ার অফার। |
| আঘাতের তীব্রতা | গুরুতর আহত অবস্থায় চালক সাগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। |
| পুলিশি অ্যাকশন | এফআইআর দায়েরের পর ৩ জনকে গ্রেফতার, বাকিদের খোঁজে রেডি টিম। |
বেঙ্গালুরুর মতো প্রগতিশীল শহরের হাইওয়েতে সপরিবার এক নাগরিকের ওপর এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাঝরাস্তায় একদল যুবকের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অবলা নারী ও ১০ মাসের শিশুর সামনে তার স্বামীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো প্রমাণ করে যে ‘রোড রেজ’ ভারতে কতটা বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে। এই সমস্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে হাইওয়েতে কোনো সাধারণ পরিবারকে এইভাবে গয়না দিয়ে নিজের প্রাণ কিনতে না হয়।






