Guma Extramarital Murder: সকালে বড়মায়ের মন্দিরে পুজো, রাতে ওড়নার ফাঁস দিয়ে প্রেমিকাকে খুন! গুমায় তরুণীর পচাগলা দেহ উদ্ধারের হাড়হিম রহস্যভেদ

source : সংবাদ প্রতিদিন
সকালে যে প্রেমিকাকে বাইকে চাপিয়ে ভক্তিভরে নৈহাটির বড়মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন, রাতেই সেই প্রেমিকাকে ঠান্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে খুন করলেন এক ব্যক্তি! উত্তর ২৪ পরগনার গুমা (Guma) এলাকায় পুকুর থেকে এক তরুণীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই এক হাড়হিম করা অপরাধের রহস্যভেদ করল পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের নির্মম পরিণতিতে প্রাণ হারাতে হলো রিঙ্কু দাস (Rinku Das) নামের এক বিবাহিত তরুণীকে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর প্রেমিক কুতুবউদ্দিন দফাদার ওরফে বাবলুকে।
বড়মায়ের মন্দিরে পুজো এবং রাতের সেই ‘ডেডলি রাইড’
পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, গত ৩ জুলাই সকালে অশোকনগর কল্যাণগড় এলাকার বাসিন্দা রিঙ্কু দাসকে তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকে নিজের বাইকে তুলে নেন গুমার দোগাছিয়ার বাসিন্দা কুতুবউদ্দিন। দু’জনে একসাথে নৈহাটির বিখ্যাত বড়মা-র মন্দিরে (Naihati Boro Maa Temple) পুজো দিতে যান। পুজো দিয়ে দু’জনে নিরাপদে ফিরেও আসেন।
কিন্তু আসল শয়তানি লুকিয়ে ছিল কুতুবউদ্দিনের মাথায়। ৩ জুলাই সন্ধ্যার পর ফের রিঙ্কুকে নিয়ে বাইকে করে বের হন তিনি। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ গুমা ২ পঞ্চায়েতের তাজপুরের একটি নির্জন এলাকায় বাইক থামান কুতুবউদ্দিন। রিঙ্কু কিছু বুঝে ওঠার আগেই, পিছন থেকে তাঁরই ওড়না গলায় পেঁচিয়ে সজোরে টান দেন অভিযুক্ত। ঘটনাস্থলেই শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় রিঙ্কুর। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে চম্পট দেন বাবলু।
৬ বছরের পরকীয়া ও সংসারের অশান্তিই কাল হলো
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে মৃত রিঙ্কু দাস ও কুতুবউদ্দিনের দীর্ঘ ৬ বছরের পরকীয়া সম্পর্কের ইতিহাস। কুতুবউদ্দিন বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও রিঙ্কুর প্রেমে পড়েন। এই সম্পর্কের জেরেই রিঙ্কুর সাথে তাঁর স্বামী সুজন দাসের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। এরপর কল্যাণগড় এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে একা থাকতেন রিঙ্কু।
সম্প্রতি তাঁদের এই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি কুতুবউদ্দিনের নিজের পরিবারের কাছে প্রকাশ্যে চলে আসে। যার ফলে কুতুবউদ্দিনের সংসারে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। রোজকার এই পারিবারিক ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজের পরকীয়া প্রেমিকাকে চিরতরে পথ থেকে সরিয়ে দিতেই এই হাড়হিম করা খুনের ব্লু-প্রিন্ট সাজান কুতুবউদ্দিন।
[রিঙ্কু দাস হত্যা মামলার টাইমলাইন]
* ৩ জুলাই (সকাল): কুতুবউদ্দিনের সাথে নৈহাটি বড়মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে যান রিঙ্কু।
* ৩ জুলাই (রাত ১০:৩০): গুমার তাজপুরের নির্জন এলাকায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে খুন ও পুকুরে দেহ লোপাট।
* ৩ জুলাই (রাত): বাড়ি না ফেরায় রিঙ্কুর পরিবারের তরফে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি।
* ৬ জুলাই (সোমবার): গুমা তাজপুরের পুকুর থেকে রিঙ্কুর পচাগলা দেহ উদ্ধার, প্রাক্তন স্বামী সুজন দাসের মাধ্যমে শনাক্তকরণ।
* ৬ জুলাই (সোমবার রাত): পুলিশি তৎপরতায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিক কুতুবউদ্দিন ওরফে বাবলু গ্রেপ্তার।
নিখোঁজ ডায়েরি থেকে পচাগলা দেহ উদ্ধার
গত ৩ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকেই রিঙ্কুর ফোন বন্ধ ছিল এবং তাঁর কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। স্বভাবতই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর গত সোমবার (৬ জুলাই) গুমার তাজপুরের পুকুরে একটি পচাগলা দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে।
দেহটি এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে চেনা দায় ছিল। পরে রিঙ্কুর প্রাক্তন স্বামী সুজন দাস থানায় গিয়ে কাপড়ের টুকরো ও অন্যান্য চিহ্ন দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। রিঙ্কুর কল ডিটেইলস (CDR) এবং শেষ কার সাথে দেখা গিয়েছিল, তা ট্র্যাক করতেই কুতুবউদ্দিনের নাম সামনে আসে এবং তাকে জালে তোলে পুলিশ।
এক নজরে গুমা পরকীয়া হত্যাকাণ্ড:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | পুলিশি তদন্ত ও অপরাধের খতিয়ান |
| নিহত তরুণী | রিঙ্কু দাস (বাসস্থান: অশোকনগর কল্যাণগড়)। |
| ধৃত অভিযুক্ত | কুতুবউদ্দিন দফাদার ওরফে বাবলু (বাসস্থান: গুমার দোগাছিয়া)। |
| অপরাধের স্থান | তাজপুর, গুমা ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকা (North 24 Parganas)। |
| খুনের পদ্ধতি | ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন (Strangulation)। |
| খুনের মূল মোটিভ | পরকীয়া জানাজানি হওয়ায় সংসারে অশান্তি এড়াতে প্রেমিকাকে পথ থেকে সরানো। |
পুকুর থেকে দেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই অন্ধ পরকীয়া সম্পর্কের জটিল জট খুলে ফেলল পুলিশ। পুজো দেওয়ার নাম করে প্রেমিকাকে ডেকে এনে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গুমা ও অশোকনগর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃত কুতুবউদ্দিনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই খুনের পেছনে অন্য কারো মদত বা সাহায্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ।






