ISRO Scientists VRS Rules: ১০০ বিজ্ঞানীর স্বেচ্ছাবসর! ‘গগনযান’ বাঁচাতে ইসরো কর্তাদের ডানা ছেঁটে নয়া নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

source : ভারতের স্বপ্নের মহাকাশ অভিযান ‘গগনযান’ (Gaganyaan Mission) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের মাঝপথেই বিপত্তি। গত কয়েক মাসের মধ্যে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) থেকে প্রায় ১০০ জন বিজ্ঞানী স্বেচ্ছাবসর (VRS) নিয়েছেন। এই গণইস্তফার জেরে মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতেই নড়েচড়ে বসল দিল্লি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসর সংক্রান্ত নিয়মে বদল আনল কেন্দ্র। গত ১৪ জুলাই, ২০২৬-এ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগ (Department of Space)।
. নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগের জারি করা এই নির্দেশিকাটি বিশেষ বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়েছে ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (URSC) এবং বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে (VSSC)। কারণ, এই দুটি কেন্দ্র থেকেই সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞানী কাজ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
নতুন নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে—
- ‘গগনযান’ এবং অন্যান্য ‘গুরুত্বপূর্ণ মিশন’-এর সঙ্গে যুক্ত ‘গ্রুপ-এ’ (Group-A) পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কারিগরি কর্মীদের ঢালাও ইস্তফা বা স্বেচ্ছাবসর আর গ্রহণ করা হবে না।
- এতদিন পর্যন্ত ইসরোর বিভিন্ন আঞ্চলিক সেন্টারের ডিরেক্টররাই বিজ্ঞানীদের ইস্তফা মঞ্জুর করতে পারতেন। নতুন নির্দেশিকায় ডিরেক্টরদের সেই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
- এখন থেকে যেকোনো ‘গ্রুপ-এ’ বিজ্ঞানীর ইস্তফা বা স্বেচ্ছাবসরের আবেদন মঞ্জুর করার একমাত্র সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগ।
জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় কড়া ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল মহাকাশ অভিযানের মাঝপথে বিজ্ঞানীদের এভাবে লাগামছাড়া স্বেচ্ছাবসরের জেরে ব্যাহত হচ্ছে দেশের মহাকাশ কর্মসূচি। এই বিষয়টি সরাসরি ভারতের ‘জাতীয় স্বার্থে’ আঘাত হানছে।
ইতিমধ্যেই এই কড়া নির্দেশিকা সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC), লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার (LPSC), স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার (SAC), ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (NRSC), এবং মাস্টার কন্ট্রোল ফ্যাসিলিটি (MCF)-র মতো ইসরোর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে পাঠিয়ে অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
[ইসরো থেকে পদত্যাগকারী হেভিওয়েট নাম]
* বিজ্ঞানী: ভিক্টর জোসেফ টি (Victor Joseph T)
* পদমর্যাদা: প্রকল্প পরিচালক, GSLV Mk III (LVM3)
* কর্মরত ছিলেন: বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (VSSC)
* বর্তমান স্থিতি: সম্প্রতি ইসরো থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন।
কেন হঠাৎ ইসরো ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা?
ইসরোর মতো দেশের সেরা সংস্থায় কাজ করার গৌরব ছেড়ে কেন হঠাৎ করে গণইস্তফার হিড়িক পড়ল বিজ্ঞানীদের মধ্যে? এই প্রশ্নের উত্তরে মহাকাশ ও বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এর পেছনে রয়েছে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা বেসরকারি স্পেস স্টার্ট-আপগুলি।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রবেশ ঘটেছে। এই স্টার্ট-আপগুলি ইসরোর অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের সরকারি বেতনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টাকা, আকর্ষণীয় উচ্চপদ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বাধীনতা দিতে প্রস্তুত। কর্পোরেট মহাকাশ দুনিয়ার এই বিপুল আর্থিক হাতছানি ও ভালো সুযোগের লোভেই ইসরোর ঝানু বিজ্ঞানীরা সরকারি চাকরি ছেড়ে প্রাইভেট সংস্থায় যোগ দিচ্ছেন। আর এই মেধা পাচার আটকাতেই এবার আইনি পাঁচিল তুলল কেন্দ্র।
এক নজরে ইসরোর নতুন ইস্তফা নীতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও নির্দেশিকা |
| নতুন নিয়ম জারির তারিখ | ১৪ জুলাই, ২০২৬। |
| মূল পরিবর্তন | বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসর (VRS) ও ইস্তফা গ্রহণের নিয়ম কঠোর করা। |
| কারা ক্ষতিগ্রস্ত? | গগনযান ও গুরুত্বপূর্ণ মিশনের ‘গ্রুপ-এ’ স্তরের বিজ্ঞানীরা। |
| পূর্বতন ক্ষমতা | সেন্টারের ডিরেক্টররা ইস্তফা মঞ্জুর করতে পারতেন। |
| বর্তমান ক্ষমতা | ডিরেক্টরদের ক্ষমতা বাতিল; সিদ্ধান্ত নেবে কেবল কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগ। |
মেধা পাচার বা ‘ব্রেন ড্রেন’ (Brain Drain) আটকাতে কেন্দ্রের এই নতুন কঠোর নিয়ম সাময়িকভাবে গগনযান মিশনের অগ্রগতি ধরে রাখতে সাহায্য করলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা বিজ্ঞানীদের কতটা খুশি রাখবে— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। গবেষকদের জোর করে আটকে রাখার চেয়ে সরকারি স্তরে বিজ্ঞানীদের কাজের স্বাধীনতা এবং সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো যায় কি না, কেন্দ্রের তা ভেবে দেখা উচিত বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






