Anubrata Mondal Joins Rito-TMC: “দায়ী একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!” ঋত-তৃণমূলের বৈঠকে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত মণ্ডল

source : সংবাদ প্রতিদিন
রাজ্য রাজনীতিতে এবার সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটালেন বীরভূমের একদা ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। গরুপাচার মামলায় আড়াই বছর শ্রীঘরে কাটানো এবং তিহাড়ের হাওয়া খাওয়ার পেছনে কার হাত ছিল, তা নিয়ে এতদিন জল্পনা থাকলেও এবার সরাসরি নাম নিলেন তিনি। বুধবার গোলপার্কে ঋত-তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে বীরভূমের এই দাপুটে নেতা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর এই পরিণতির জন্য দায়ী একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
“দিনে দিতে হতো ৪০ লক্ষ টাকা”, কয়লা-গরু নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত
রাজনীতিতে ফেরার পর থেকেই অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋত-তৃণমূল’ (Rito-TMC) শিবিরের গোলপার্কের বৈঠকে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন তিনি। বীরভূমে কয়লা ও অন্যান্য খাতের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন—
“বীরভূম থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত সরকার। পরে কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ টাকা দিতে হত।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কারও হাত নেই, স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ষড়যন্ত্র রয়েছে।
কেন দল ছাড়লেন মমতার প্রিয় ‘কেষ্ট’?
বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে বরাবরই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর তৈরি করা নিশ্ছিদ্র সাংগঠনিক জোরেই বীরভূমে বরাবরই থাবা বসাতে ব্যর্থ হয়েছিল গেরুয়া শিবির। এমনকি গরুপাচার মামলায় আড়াই বছর জেল খাটার পরেও দল তাঁর বীরভূম জেলা সভাপতির পদ কেড়ে নেয়নি।
কিন্তু জেল থেকে ফেরার পর দেখা যায় সমীকরণ বদলে গিয়েছে। দলের অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দল সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমে দল পরিচালনার জন্য একটি ‘কোর কমিটি’ গঠন করে দেন। যেখানে একদা একচ্ছত্র অধিপতি অনুব্রতকে রাখা হয় সাধারণ একজন সদস্য হিসেবে। এই সিদ্ধান্তেই ক্ষোভের বারুদ জমছিল কেষ্টর মনে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরই তিনি ঋতব্রত শিবিরের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেন এবং গত ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋত-তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
[অনুব্রতর রাজনৈতিক খেরোখাতা ও বর্তমান অবস্থান]
* বীরভূমের পূর্বতন পদ: একচ্ছত্র জেলা তৃণমূল সভাপতি।
* জেলে থাকার মেয়াদ: প্রায় আড়াই বছর (তিহাড় জেল সহ)।
* ক্ষোভের কারণ: ক্ষমতা খর্ব করে বীরভূমে 'কোর কমিটি' গঠন।
* বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান: ঋত-তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি (১১ জুলাই, ২০২৬ থেকে)।
“তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না”, ভাঙনের ভবিষ্যদ্বাণী
দীর্ঘদিন তৃণমূলের অন্দরমহল শাসন করা এই অভিজ্ঞ নেতার দাবি, তৃণমূলের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। দলবদল নিয়ে এর আগে সাধারণ মন্তব্য করলেও, বুধবার নতুন দলে যোগ দিয়ে রীতিমতো সুর চড়ান তিনি। তিনি সাফ বলেন, “নতুন-পুরনো জানি না, আমি তৃণমূলকে ভালোবেসে দলটা করতাম। কিন্তু আজ পরিস্থিতি আলাদা। আগামী দিনে তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না। দলটা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।”
অনুব্রতর এই মন্তব্য এবং ঋত-তৃণমূলের হাত ধরা শাসক দল তৃণমূলের জন্য যে বীরভূম তথা গোটা দক্ষিণবঙ্গে বড়সড় ধাক্কা হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে রাঙামাটির জেলা বীরভূমে অনুব্রতর নিজস্ব যে অনুগামী বাহিনী রয়েছে, তারা এবার কোন দিকে পা বাড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
এক নজরে অনুব্রতর শিবির বদল ও অভিযোগের খতিয়ান:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব |
| অভিযুক্ত ব্যক্তিত্ব | অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক)। |
| নতুন রাজনৈতিক দল | ঋত-তৃণমূল (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন মঞ্চ)। |
| অনুব্রতর নতুন পদ | বীরভূম জেলা সভাপতি (ঋত-তৃণমূল শিবির)। |
| আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ | সরকারের ৩.৫ কোটি টাকা রেভিনিউ এবং কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ টাকার দাবি। |
| ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস | তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে এবং দলে ভাঙন ধরবে। |
Conclusion
বীরভূমের কেষ্টর দলবদল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল নাটকীয় মোড়। এতদিন যারা ভাবছিলেন অনুব্রত হয়তো জেলেই রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের ভুল প্রমাণ করে আবারও স্বমহিমায় ফিরলেন তিনি। তবে এবার আর ঘাসফুল চিহ্নে নয়, ঋত-তৃণমূলের হাত ধরে তৃণমূলকে উপড়ে ফেলার সংকল্প নিয়ে নতুন ইনিংস শুরু করলেন অনুব্রত মণ্ডল।






