৩৭০ ধারা বাতিলের ৭ম বর্ষপূর্তিতে অশান্তির আশঙ্কা! জম্মু-কাশ্মীরে হাই অ্যালার্ট, সাময়িক স্থগিত অমরনাথ যাত্রা

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করেছিল এবং সাবেক রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ— এই দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করেছিল। বুধবার সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সপ্তম বছর (7th Anniversary) পূর্ণ হলো। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুরো জম্মু ও কাশ্মীর জুড়েই কড়া নিরাপত্তা ও উচ্চ সতর্কতা (High Alert) জারি করা হয়েছে।
স্থগিত অমরনাথ যাত্রা ও জাতীয় মহাসড়কে কড়াকড়ি
নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ হিসেবে বুধবার ঐতিহ্যবাহী শ্রী অমরনাথ যাত্রার নতুন কনভয় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে পাহালগাম বা বালতাল বেস ক্যাম্পের দিকে কোনো যাত্রীবাহী নতুন কনভয়কে রওনা হতে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে বালতাল থেকে জম্মু অভিমুখী ফিরতি যাত্রীদের যানবাহন চলাচলেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তবে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, যে সকল পুণ্যার্থী ইতোমধ্যে বালতাল বেস ক্যাম্পে পৌঁছে গিয়েছেন, তাঁদের পবিত্র গুহামন্দিরের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের যাত্রা সুশৃঙ্খলভাবে অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে (NH-44) নিরাপত্তাবাহিনীর কনভয় চলাচলও কমিয়ে আনা হয়েছে।
[৩৭০ ধারা বাতিলের ৭ম বর্ষপূর্তি ও নিরাপত্তা আপডেট]
* ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৫ আগস্ট, ২০১৯ (বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার ও দ্বিখণ্ডায়ন)।
* প্রশাসনিক পদক্ষেপ: পুরো উপত্যকায় হাই অ্যালার্ট ও চেকপোস্টে চেকিং জোরদার।
* যাত্রার ওপর প্রভাব: জম্মু থেকে অমরনাথ যাত্রীদের নতুন কনভয় স্থগিত।
* রাজনৈতিক অবস্থান: পিডিপি, এনসি ও কংগ্রেসের আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচি।
* ট্রাফিক ও সড়ক ব্যবস্থা: জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে বাড়তি নজরদারি ও পুলিশি পাহারা।
রাজনৈতিক কর্মসূচি ও উপত্যকা জুড়ে রাজনৈতিক পারদ
বিশেষ এই দিনটিকে ‘কালো দিন’ (Black Day) হিসেবে পালন করার ডাক দিয়েছে কাশ্মীরের একাধিক রাজনৈতিক দল। মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বাধীন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDP) ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা পুনর্বহাল ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে জেলাভিত্তিক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি ১৫ মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC) ও কংগ্রেস পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে শ্রীনগর ও জম্মুর দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভার পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে কারণে পিডিপি ও এনসি সদর দপ্তরের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কগুলি ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উপত্যকায় কড়া প্রহরা ও বাহিনীর অতিরিক্তি মোতায়েন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থল লালচকসহ উপত্যকার প্রতিটি সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতেও টহলদারি বাড়িয়ে এলাকা দখলের (Area Domination) মহড়া চলছে।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক নজরে জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ঘটনার প্রেক্ষাপট | ৩৭০ ধারা বাতিলের সপ্তম বর্ষপূর্তি (৫ আগস্ট) |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | কাশ্মীরজুড়ে উচ্চ সতর্কতা ও কড়া পুলিশি তল্লাশি |
| অমরনাথ যাত্রা | জম্মু বেস ক্যাম্প থেকে কনভয় স্থগিত, বালতাল থেকে অনিয়মিত চলাচল |
| প্রধান আন্দোলনকারী দল | পিডিপি (PDP), ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC) ও কংগ্রেস |
| মূল দাবি | ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল, পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি |
৩৭০ ধারা বাতিলের পর সাত বছর অতিক্রান্ত হলেও জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক আবেগ যে এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল, বুধবারের এই পরিস্থিতি তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ নাগরিক ও অমরনাথ পূর্ণ্যার্থীদের নিরাপত্তাই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান লক্ষ্য।






