পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে রহস্যময় গোলক! পেন্টাগন প্রকাশ করল ৪১টি গোপন ইউএফও ফাইল, চরম কৌতূহল বিশ্বজুড়ে

আকাশে কি সত্যিই ঘুরঘুর করছে ভিনগ্রহীদের যান? নাকি অন্য কোনো মহাজাগতিক ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির কারসাজি? বহু বছরের গোপনীয়তার পর্দা সরিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ‘পেন্টাগন’ এবার জনসমক্ষে নিয়ে এলো অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও (UFO) সংক্রান্ত একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর নথি। ৪১টি গোপন ফাইল, এক ডজনেরও বেশি ভিডিও ও ছবি সম্বলিত এই নথি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে রহস্য ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ড্রোন ক্যামেরায় বন্দি রহস্যময় ‘মেটালিক অর্ব’
পেন্টাগনের প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমায় দেখা মেলা একটি গোলকাকার বস্তু। সেনার নজরদারি ড্রোন ক্যামেরায় বন্দি হওয়া সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে— বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও লোকালয়ের ওপর দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চক্কর কাটছে একটি ধাতব গোলক।
এর পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর চাকতির মতো একটি বস্তুকে উড়ে বেড়াতে ও হঠাৎ গায়েব হয়ে পুনরায় ফিরে আসতে দেখা গেছে। পেন্টাগনের আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন যে বস্তুগুলির উড্ডয়ন আচরণ ও গতি অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’, তবে তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় সেটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
[পেন্টাগন ইউএফও ফাইলসের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা]
* প্রকাশিত মোট নথি: ৪১টি ফাইল (যার মধ্যে ১ ডজনের বেশি ভিডিও ও ৩টি ছবি)।
* সময়সীমা: ১৯৫৩ সাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।
* সাম্প্রতিক ঘটনা: ২০২৩ সালের অক্টোবরে বস্টন-ডাবলিন রুটে পাইলটদের দেখা রহস্যময় আলো।
* ঐতিহাসিক ঘটনা: ১৯৫০-৫২ সালে মন্টানা ও উটাতে দৃশ্যমান ত্রিভুজাকার প্রকাণ্ড যান।
ট্রাম্পের নির্দেশ ও এফবিআই-এর চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ
দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে অভিযোগ উঠছিল যে আমেরিকা প্রশাসন ভিনগ্রহী ও ইউএফও সংক্রান্ত তথ্য চেপে রাখছে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহাকাশ সুরক্ষা ও রহস্য উন্মোচনে ইউএফও নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন। এরপরই পেন্টাগন ধাপে ধাপে এসব নথি ও PDF ফাইল সর্বসাধারণের জন্য উন্মু্ক্ত করা শুরু করে।
প্রকাশিত নথির মধ্যে এফবিআই (FBI)-এর একটি রিপোর্টে ২০২৩ সালের অক্টোবরের এক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। বস্টন থেকে ডাবলিনগামী বিমানের একাধিক বাণিজ্যিক পাইলট মধ্যরাত থেকে ভোর ৩টের মধ্যে আকাশে অদ্ভুত আলোকবিন্দু দেখতে পান, যা পরবর্তীতে সরলরেখা তৈরি করে দিক পরিবর্তন করছিল। পাইলটদের দাবি, ২০২৩ সালের পর থেকে অন্তত ১০ বার তাঁরা এই আলোর রূপ পরিবর্তন দেখেছেন।
১৯৫৩ সালের আর্কাইভ ও ত্রিভুজাকার যানের রহস্য
পেন্টাগন ফাইলসে স্থান পেয়েছে ১৯৫৩ সালের ইউএস ফটোগাফিক ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার (USPIC)-এর একটি নথিও। এতে ১৯৫০ ও ১৯৫২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা ও উটার আকাশে দেখা যাওয়া রহস্যময় যানের উল্লেখ রয়েছে।
অন্য একটি ২০১১ সালের সামরিক নথিতে কোণে আলো জ্বলতে থাকা একটি ত্রিভুজাকার বস্তুর কথা বলা হয়েছে। ২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেসে প্রথমবার ইউএফও নিয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হলেও, রহস্যের জট যে আজও খোলেনি তা স্পষ্ট করল পেন্টাগনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট।

“আকাশে কি সত্যি ভিনগ্রহীদের আনাগোনা?” পেন্টাগনের প্রকাশিত নথিতে স্থান পাওয়া উড়ন্ত বস্তুর অলঙ্করণ.
এক নজরে পেন্টাগনের ইউএফও রিপোর্ট:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| প্রকাশক সংস্থা | পেন্টাগন ও অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO) |
| মূল আকর্ষণ | পশ্চিম এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের মেটালিক অর্বের ভিডিও |
| সরকারি ব্যাখ্যা | বস্তু চিহ্নিতকরণ হয়নি (Unidentified), তবে এলিয়েন প্রমাণের অভাব |
| ঐতিহাসিক ভিত্তি | ১৯৫৩ সালের ইউএস ফটোগাফিক নথি ও এফবিআই ফাইলস |
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো বস্তুকে সরাসরি ‘এলিয়েন’ বা ভিনগ্রহীর যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর না দেওয়া হলেও, অজানা যানের অদ্ভুত গতিবিধি ও গোপন নথি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনা মহাবিশ্বে মানুষের একাকিত্ব ও ভিনগ্রহী প্রাণ নিয়ে নতুন গবেষণার দরজা খুলে দিল।






