অসমের ভয়াবহ বন্যায় বিপন্নদের পাশে নীতা আম্বানি, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২১ কোটি অনুদান রিল্যায়েন্সের

প্রতি বছরের মতো এবারও বানের জলে ভাসছে অসম। তবে ২০২৬ সালের এই প্রলয়ঙ্করী বন্যা পূর্বের একাধিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। শিবসাগর, চরাইদেও, জোড়হাট ও গোলাঘাট জেলাগুলোতে জলমগ্ন হাজার হাজার পরিবার। এই চরম বিপর্যয়ের সময়ে রাজ্যের পাশে দাঁড়ালেন রিল্যায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারপার্সন নীতা আম্বানি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে ২১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে তাঁর সংস্থা।
মুখ্যমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা বার্তা ও কোভিডের স্মৃতি
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে এই অনুদানের কথা জানিয়ে নীতা আম্বানিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লেখেন— “অসম যখনই কোনো বড় সংকটের মুখে পড়েছে, রিল্যায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রধান নীতা আম্বানি সবসময় অসমের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কোভিড মহামারি চলাকালীন তাঁর বাড়ানো সাহায্যের হাত আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই বিশাল আর্থিক সাহায্য আপার অসমের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম গতিশীল করতে সাহায্য করবে।
[অসম বন্যা ও রিল্যায়েন্সের সহায়তার রূপরেখা]
* অনুদানের পরিমাণ: ২১ কোটি টাকা (Chief Minister's Relief Fund)।
* অতিরিক্ত সহায়তা: জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, অস্থায়ী তাঁবু ও গবাদি পশুর ওষুধ।
* আক্রান্ত জেলার সংখ্যা: শিবসাগর, চরাইদেও, জোড়হাট ও গোলাঘাট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
* গৃহহীনদের ক্ষতিপূরণ: যে সব বাড়ি ভেঙে গেছে, তাদের মালিকদের ৭৫ হাজার টাকা করে সাহায্য দিচ্ছে প্রশাসন।
মাটিতে নেমে উদ্ধারকাজে রিল্যায়েন্স টিম
কেবল আর্থিক সাহায্যেই থেমে থাকেনি রিল্যায়েন্স ফাউন্ডেশন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পেশাদার আধিকারিকদের নিয়ে গড়া বিশেষ দল ইতোমধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর ও চরাইদেও জেলাগুলোতে ত্রাণ বিলি করছে।
বন্যাকবলিত মানুষদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা, অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, ত্রিপল বিতরণ করে জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং প্লাবিত এলাকার গৃহপালিত পশুদের খাদ্য ও ওষুধ নিশ্চিত করার কাজ একযোগে চালিয়ে যাচ্ছে রিল্যায়েন্সের ফিল্ড টিম।
অসমে বানের কামড়: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫
এদিকে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও অসমে বন্যার তাণ্ডব কমেনি। গত রবিবার শিবসাগর জেলাতেই নতুন করে ৩ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। যার জেরে এবারের বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫-তে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যার জল কিছুটা নামলেও এখনও প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, যে সব বাসিন্দার কাঁচা ঘর বানের তোড়ে পুরোপুরি ভেঙে গেছে, তাঁদের পুনর্নির্মাণের জন্য ঘরপিছু ৭৫,০০০ টাকা করে অর্থ সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে।
এক নজরে অসম বন্যা ও রিল্যায়েন্সের ত্রাণ সহায়তা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ত্রাণ প্রদানকারী সংস্থা | রিল্যায়েন্স ফাউন্ডেশন (নীতা আম্বানি) |
| অনুদানের পরিমাণ | ২১ কোটি টাকা |
| অসম বন্যায় মোট মৃত | ৮৫ জন (সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী) |
| সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত জেলা | শিবসাগর, চরাইদেও, জোড়হাট ও গোলাঘাট |
| সরকারি গৃহনির্মাণ ভাতা | ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পিছু ৭৫,০০০ টাকা |
কোভিড মহামারি থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ— প্রতিবারই দেশের সংকটকালে রিল্যায়েন্স ফাউন্ডেশনের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। অসমের এই ভয়াবহ বন্যার ক্ষতে প্রলেপ দিতে নীতা আম্বানির বাড়ানো ২১ কোটি টাকার হাত ও উদ্ধারকর্মীদের নিরলস চেষ্টা লাখো বন্যাকবলিত মানুষের কাছে এক আশার আলো হয়ে ফিরে এসেছে।






