Norway vs Ivory Coast World Cup 2026: হালান্ডের শেষ মুহূর্তের ম্যাজিক! আইভোরি কোস্টকে হারিয়ে ১৯৯৮-এর পর প্রথমবার বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে নরওয়ে, সামনে এবার ব্রাজিল

source : আনন্দবাজার
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর (FIFA World Cup 2026) নকআউট পর্বের শুরুতেই রোমাঞ্চকর থ্রিলার দেখল ফুটবল বিশ্ব। একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের চোখ ধাঁধানো ফুটবল এবং শেষ মুহূর্তের নাটकीयতার পর আইভোরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল নরওয়ে। আর এই জয়ের হাত ধরেই দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে নকআউটের প্রথম বাধা টপকাল ইউরোপের এই দেশ। ডালাসের পরবর্তী মেগা ম্যাচে এবার তাদের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
গ্রুপ পর্বের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সরিয়ে রেখে আইভোরি কোস্টের বিরুদ্ধে অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার ছক কষেছিলেন নরওয়ের কোচ। আর্লিং হালান্ড (Erling Haaland) এবং মার্টিন ওদেগার্ডকে (Martin Odegaard) শুরু থেকেই খেলানোয় ম্যাচের রাশ প্রথমার্ধেই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় নরওয়ে।
- ৩৯ মিনিট: বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক বুলেট গতির শটে নরওয়েকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তরুণ তুর্কি আন্তনিও নুসা (Antonio Nusa)।
- ৭৪ মিনিট: ম্যাচের বয়স যখন প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা, তখনই ফুটবলপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করেন আইভোরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো (Amad Diallo)। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফুটবলার প্রায় একক প্রচেষ্টায় নরওয়ের ডিফেন্সকে ছিটকে দেন। এক সতীর্থের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান পাস খেলে ৪-৫ জন ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
দিয়ালোর গোলের পর যখন ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। পুরো ম্যাচে অন্তত ৩টি সহজ সুযোগ নষ্ট করার খেসারত তিনি সুদে-আসলে উশুল করেন ৮৬ মিনিটে। প্যাট্রিক বার্গের ডিফেন্স চেরা পাস বক্সে পেয়ে আলতো পায়ের ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দেন হালান্ড। এটি চলতি বিশ্বকাপে তাঁর পঞ্চম গোল।
তবে শুধু হালান্ড নন, নরওয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অরজান নিলান্ড (Ørjan Nyland)। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে আইভোরি কোস্ট যখন সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছিল, তখন নিলান্ড গোলপোস্টের নিচে অপ্রতিরোধ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও লড়াকু ফুটবল খেলে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে আইভোরি কোস্ট। তবে নরওয়ে শিবিরের জন্য আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে চিন্তার ভাঁজ। যেভাবে তারা গোল করার সহজ সুযোগগুলো হাতছাড়া করেছে, ব্রাজিলের মতো মহাশক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সেই ভুল করলে চড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে।
ডালাসের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, নেইমারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে হলে হালান্ড ও ওদেগার্ড জুটিকে আরও বেশি ক্লিনিকাল বা নিখুঁত হতে হবে।
২৮ বছর পর নরওয়ের নকআউটের এই জয় তাদের দেশের ফুটবলের জন্য এক নতুন রূপকথার জন্ম দিল। একদিকে নেইমার-ভিনিসিয়ুসের সাম্বা ফুটবল, অন্যদিকে হালান্ড-ওদেগার্ডের ভাইকিং শক্তি—ডালাসের মাটিতে ব্রাজিল বনাম নরওয়ের এই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল যে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ব্লকবাস্টার ম্যাচ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।






