Mexico vs Ecuador World Cup 2026: মাঠের বাইরে মেক্সিকানদের বাজি-হর্ন, মাঠে কুইনোনেসের গোল-অ্যাসিস্ট! ইকুয়েডরকে উড়িয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

source : সংবাদ প্রতিদিন
মাঠের বাইরে মেক্সিকোর সমর্থকদের হর্ন আর বাজির আওয়াজে সারা রাত চোখের পাতা এক করতে পারেনি ইকুয়েডর দল। আর মাঠের ভেতরে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে তাদের ঘুম উড়িয়ে দিলেন জুলিয়ান কুইনোনেস (Julian Quinones)। বছর দুয়েক আগে মেক্সিকোর গুয়াদালজারা স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন যে ফুটবলারকে গায়ের রঙের জন্য প্রবল বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণ সহ্য করতে হয়েছিল, আজ তিনিই মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা রূপকথার রূপকার। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় টিকিট কাটল মেক্সিকো।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ও নিটোল ডিফেন্স লাইন ছিল ইকুয়েডরের। পিএসজি-র উইলিয়াম পাচো এবং আর্সেনালের পিয়েরো হিনক্যাপির মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে পর্যন্ত আটকে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেক্সিকোর অল-আউট আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল সেই রক্ষণ।
- ২২ মিনিট: বক্সের বাইরে থেকে জুলিয়ান কুইনোনেসের নেওয়া এক আগুনে গোলার মতো শট বুঝতেই পারেননি ইকুয়েডরের গোলকিপার। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো।
- ৩১ মিনিট: কুইনোনেসের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ব্যবধান ২-০ করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল গিমেনেজ (Raul Jimenez)। এই গোলের সম্পূর্ণ কৃতিত্বই ছিল কুইনোনেসের অ্যাসিস্টের।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে হতাশা থেকে মেক্সিকোর ফুটবলারদের সাথে মুখ চেপে তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড (Red Card) দেখে মাঠ ছাড়েন ইকুয়েডরের তারকা ডিফেন্ডার হিনক্যাপি।
জুলিয়ান কুইনোনেসের এই ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। তাঁর জন্ম মেক্সিকোয় নয়, বরং দক্ষিণ কলম্বিয়ার এক চরম অশান্ত অঞ্চলে। ছোটবেলা থেকেই বন্দুকের লড়াই আর গোলাবারুদের শব্দ শুনে বড় হয়েছেন তিনি। সেই হিংস্র পরিবেশ থেকে বাঁচতে আঁকড়ে ধরেছিলেন ফুটবলকে। ‘ফুটবল পিস’ (Football Peace) নামক একটি অলাভজনক প্রজেক্টের সাহায্যে ১৫ বছর বয়সে কলম্বিয়া থেকে পালিয়ে মেক্সিকোতে আশ্রয় নেন তিনি।
২০২৩ সালে মেক্সিকোর নাগরিকত্ব পেয়ে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। মাঝে মেক্সিকোর লিগে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল কাদসিয়ায় যোগ দেন, যেখানে ৩৩টি গোল করে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও টেক্কা দিয়েছিলেন। আর আজ সেই মেক্সিকোর জার্সিতেই তিনি দেশের ফুটবল ঈশ্বর।
মেক্সিকোর এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ছবিটা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক নকআউটের মহাদ্বৈরথগুলি:
| দল ১ | বনাম | দল ২ | মূল আকর্ষণ |
| মেক্সিকো | বনাম | ইংল্যান্ড / ডিআর কঙ্গো | ইংল্যান্ড বনাম কঙ্গো ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে মেক্সিকো। |
| ব্রাজিল | বনাম | নরওয়ে | ভিনিসিয়াস জুনিয়র বনাম আর্লিং হালান্ডের মেগা দ্বৈরথ। |
| ফ্রান্স | বনাম | প্যারাগুয়ে | কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সের সামনে জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ে। |
| কানাডা | বনাম | মরক্কো | উত্তর আমেরিকার জায়ান্টদের সামনে আফ্রিকার চমক মরক্কো। |
ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ অভিযান রাউন্ড অফ ৩২-এই থমকে গেল। তবে মেক্সিকোর জন্য এই জয় এক ঐতিহাসিক পুনর্জন্মের সমান। এখন দেখার বিষয়, সমর্থকদের এই তুমুল উন্মাদনা এবং কুইনোনেসের এই স্বপ্নের ফর্মকে সঙ্গী করে কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে ইংল্যান্ড বা কঙ্গোর বিরুদ্ধে মেক্সিকো কতটা দূর এগোতে পারে।






