“ছাত্রীর মৃত্যুর দাবি গুজব!” যন্তর মন্তরের সংঘাত নিয়ে বিভ্রান্তি উড়িয়ে দিল পিআইবি, রাম মনোহর লোহিয়ার ভেন্টিলেশনে ২ আন্দোলনকারী

source : সংবাদ প্রতিদিন
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সংসদ অভিযান ঘিরে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগোতেই ছাত্রছাত্রীদের ওপর জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি ও ভিডিও দাবানলের মতো ছড়াতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, পুলিশের নির্মম মারে এক আন্দোলনকারী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। অবশেষে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই বিবৃতি দিল মোদি সরকার।
মৃত্যুর খবর ও সোশাল মিডিয়ার ভুয়ো পোস্ট উড়িয়ে দিল পিআইবি
সোমবারের সংঘর্ষের পর সোশাল মিডিয়ার বহু প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছিল যে, পুলিশি নির্যাতনে এক প্রতিবাদী ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।
বিতর্ক থামাতে পিআইবি ফ্যাক্ট চেক (PIB Fact Check) তাদের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এক প্রেস বার্তা প্রকাশ করে জানায়—
“রাজধানীতে আন্দোলন চলাকালীন লাঠিচার্জে এক মহিলার মৃত্যুর বিষয়ে যে দাবিগুলি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। দিল্লিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন এমন কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।”
সরকারের তরফে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের পোস্ট দেখে যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হন। একই সঙ্গে কোনও স্পর্শকাতর তথ্য সত্যতা যাচাই না করে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুর খবর রটনা হলেও হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে ২ আশঙ্কাজনক ছাত্রী
পিআইবি মৃত্যুর খবর অস্বীকার করলেও বাস্তবে পুলিশের নির্মম মারধরের প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। সোমবার যন্তর মন্তরের সংঘাতের পর আহতদের মধ্যে দু’জন তরুণীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
[আরএমএল (RML) হাসপাতালের বর্তমান হালহকিকত]
* রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আইসিইউ/ভেন্টিলেশনে ভর্তি: ২ জন যুবতী।
* আঘাতের ধরন: লাঠির আঘাতে মারাত্মক মাথার চোট ও শারীরিক ট্রমা।
* মোট আহত (পুলিশ সূত্রানুযায়ী): ১১৮ জন পুলিশকর্মী ও ৬০ জন সিজেপি আন্দোলনকারী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাথায় ও শরীরে গুরতর চোট পাওয়ায় ওই দুই যুবতীকে তড়িঘড়ি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
রণক্ষেত্র যন্তর মন্তর ও অতিরিক্ত বাহিনীর দাপট
সোমবার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে রওনা দেয় সিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৫,০০০ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হতেই টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটিয়ে এবং লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করা হয়।
যদিও পুলিশ দাবি করেছে যে বহু পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন, তবুও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে পুলিশের আগ্রাসী মনোভাব নিয়েই দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে।
এক নজরে যন্তর মন্তর কাণ্ড ও পিআইবি সত্যতা যাচাই:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | দাবিকৃত তথ্য / বাস্তব পরিস্থিতি |
| গুজব/দাবি | পুলিশের লাঠিচার্জে এক প্রতিবাদী ছাত্রীর মৃত্যু। |
| পিআইবি ফ্যাক্ট চেক | সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন দাবি। |
| বাস্তব পরিস্থিতি | রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে ভর্তি ২ আশঙ্কাজনক ছাত্রী। |
| আহতের মোট সংখ্যা | পুলিশকর্মী: ১১৮ জন+, বিক্ষোভকারী: ৬০ জন। |
পিআইবি সামাজিক মাধ্যমে মৃত্যুর খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেও, রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা তরুণীদের ছবি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। ভুয়ো তথ্য রোখা সরকারের দায়িত্ব হলেও, রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সমানভাবে জরুরি।






