ইউক্রেন উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! ৪ ভারতীয় নাবিকের প্রাণহানি, রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ভারত

source : সংবাদ প্রতিদিন
ইরানের হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার আবহ কাটতে না কাটতেই এবার কৃষ্ণসাগরের বুকেও ঘনিয়ে এল বড়সড় বিপর্যয়। ইউক্রেন উপকূলে শস্যবাহী এক বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হানায় মর্মান্তিক মৃত্যু হলো ৪ জন ভারতীয় নাবিকের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও এক ভারতীয়। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর কৌশলগত বন্ধু মস্কোর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল সাউথ ব্লক।
৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুনে ছারখার ‘গোল্ডেন লিও’
বিদেশমন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই ইউক্রেনের ব্যস্ততম ওডেসা বন্দর থেকে ভুট্টা বোঝাই করে রওনা দিয়েছিল গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘গোল্ডেন লিও’ (Golden Leo) নামের বাণিজ্যিক জাহাজটি। ১৭ জন নাবিক ও ১ জন গাইড পাইলট নিয়ে জাহাজটি বন্দর এলাকা অতিক্রম করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর তিনটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র এসে আছড়ে পড়ে সেটিতে।
মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় জাহাজটিতে এবং ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ৯ জন নাবিক ও ১ জন পাইলটের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ৪ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। ইউক্রেন সরকারের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালিয়েছে রুশ নৌবাহিনী।
বিদেশমন্ত্রকের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও কড়া বার্তা
ঘটনাটি জানাজানি হতেই নয়াদিল্লিতে শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার বিদেশমন্ত্রক একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে এই বর্বরোচিত হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
“বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করা ও নিরীহ নাবিকদের জীবন কেড়ে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও চরম নিন্দনীয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। কিয়েভে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস আহতদের চিকিৎসা ও মৃতদেহ দেশে ফেরানোর কাজে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছে।”
[ওডেসা শিপিং হামলায় নিহত ও আহতদের বিবরণ]
* জাহাজের নাম: ‘গোল্ডেন লিও’ (ভুট্টাবাহী জাহাজ)।
* ফ্ল্যাগ স্টেট: গিনি-বিসাউ (Guinea-Bissau)।
* মোট প্রাণহানি: ১০ জন (৪ জন ভারতীয় নাবিক, ১ জন পাইলট ও অন্যান্য নাবিক)।
* হাসপাতালে চিকিৎসাধীন: ১ জন ভারতীয় নাবিক (আশঙ্কাজনক)।
রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব: জবাবদিহির মুখোমুখি মস্কো
ঘটনার তীব্রতা উপলব্ধি করে শীর্ষস্তরে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মোদি সরকার। সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, ৪ ভারতীয় মৃত্যুর ঘটনায় তলব করা হল রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে।
বিদেশমন্ত্রকের জ্যেষ্ঠ আধিকারিকরা মস্কোর রাষ্ট্রদূতের কাছে এই ধরণের বর্বরোচিত হামলার সপক্ষে জবাবদিহি চাইবেন। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে নিরীহ ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলো, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত রিপোর্ট দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ভারতীয়দের সুরক্ষায় আঘাত না আসে, রাশিয়াকে তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এক নজরে কৃষ্ণসাগরে ভারতীয় নাবিক হত্যা ঘটনা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত ও বর্তমান অবস্থা |
| হামলার সময় ও স্থান | ১৯ জুলাই ২০২৬, ওডেসা বন্দর সংলগ্ন কৃষ্ণসাগর অঞ্চল। |
| আক্রান্ত জাহাজ | ‘গোল্ডেন লিও’ (ভুট্টাবাহী কার্গো জাহাজ)। |
| ক্ষতির পরিমাণ | ১০ জন নিহত (৪ জন ভারতীয়), ১ জন ভারতীয় হাসপাতালে ভর্তি। |
| ভারতের পদক্ষেপ | ঘটনার তীব্র নিন্দা, ইউক্রেনে উদ্ধারকাজে সহায়তার সাথে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব। |
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম মূল জলপথ কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-সুরক্ষা ব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। মস্কো-কিয়েভ যুদ্ধের আবহে ভারতীয়দের জীবনহানি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিল— আন্তর্জাতিক রাজনীতি যাই হোক না কেন, ভারতীয় নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তায় কোনো আপস করা হবে না।






