আয়ের ভিত্তিতে এসসি-এসটি সংরক্ষণে ‘সাব কোটা’ নয়! সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলার কড়া বিরোধিতা মোদি সরকারের

তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC-ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) জন্য বরাদ্দ সংরক্ষণের মধ্যেই কি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকাদের জন্য আলাদা করে ‘সাব কোটা’ (Sub Quota) তৈরি করা সম্ভব? এই প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছিল একটি জনস্বার্থ মামলা। তবে শুক্রবার মোদি সরকার শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে এই আর্জি পুরোপুরি খারিজ করার আবেদন জানিয়েছে। কেন্দ্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হলো সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, নিছক আর্থিক অবস্থা নয়।
কী আবেদন জানানো হয়েছিল শীর্ষ আদালতে?
একাধিক আবেদনকারী যৌথভাবে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে আর্জি জানান যে, এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের জন্য যে কোটা রয়েছে, তার মধ্যেই আয়ের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট অংশ আর্থিকভাবে দুর্বলদের জন্য বরাদ্দ করা হোক।
বর্তমানে ওবিসি সংরক্ষণে যেমন আর্থিকভাবে সচ্ছলদের সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বাদ দিতে ‘ক্রিমি লেয়ার’ (Creamy Layer) নীতি কার্যকর রয়েছে, আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এসসি এবং এসটি কোটার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রবর্তন করা হোক।
[সংরক্ষণ মামলায় কেন্দ্রের মূল বক্তব্য]
* পিআইএল-এর দাবি: আয়ের ভিত্তিতে কোটার ভেতর সাব-কোটা এবং এসসি-এসটিতে ক্রিমি লেয়ার চালু।
* কেন্দ্রের জবাব: সামাজিক বঞ্চনা সংরক্ষণের ভিত্তি, আয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষণ হয় না।
* সাংবিধানিক অধিকার: সংরক্ষণ নীতিতে বদল আনার ক্ষমতা একমাত্র সংসদের, আদালতের নয়।
সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের পাল্টা হলফনামা
এই আবেদনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে কাউন্টার এফিডেভিট বা হলফনামা জমা দেয় কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। কেন্দ্র যুক্তি দেয়, যুগ যুগ ধরে সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হওয়া প্রান্তিক মানুষদের শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ বাড়াতেই সংবিধানে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
এই বৈষম্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। সংবিধানেও কেবল আয়ের নিরিখে সংরক্ষণের কোনো কথা বলা নেই। তাই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়েই এই পিআইএল দায়ের করা হয়েছে।

এসসি-এসটিতে ‘ক্রিমি লেয়ার’ নয়, দাবি কেন্দ্রের
এসসি এবং এসটিদের মধ্যে ‘ক্রিমি লেয়ার’ ব্যবস্থা চালুর দাবির জবাবে কেন্দ্র ঐতিহাসিক ১৯৯২ সালের ইন্দ্রা সাহানি মামলার রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সাংবিধানিক বেঞ্চের সেই রায়ে স্পষ্ট বলা ছিল, ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি শুধুমাত্র অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি (OBC) সংরক্ষণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, আগামী দিনে সংরক্ষণের নিয়মে কোনো বদল আনতে হলে তা একমাত্র সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমেই সম্ভব। আর সংবিধান সংশোধনের সেই একচেটিয়া ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র দেশের পার্লামেন্ট বা সংসদের হাতে। আদালত এক্ষেত্রে কোনো নির্দেশিকা জারি করতে পারে না।
এক নজরে সংরক্ষণ সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| আদালত | ভারতের সুপ্রিম কোর্ট |
| মামলার মূল বিষয় | এসসি, এসটি ও ওবিসি কোটায় আয়ের ভিত্তিতে সাব কোটা |
| সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক | কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক |
| কেন্দ্রের অবস্থান | সম্পূর্ণ বিরোধিতা |
| ক্রিমি লেয়ার নীতি | এসসি/এসটিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে কেন্দ্রের দাবি |
সুপ্রিম কোর্টে মোদি সরকারের এই হলফনামা সংরক্ষণ নীতি নিয়ে কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থানকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে সংবিধানের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রাখতে সংসদীয় এক্তিয়ারকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।






