Humayun Kabir Proved Notice Case: “স্যাটাভাঙা মারের” হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশি সমন ফাঁকিবাজির ছক হুমায়ুনের! শুভেন্দুর ‘সবক’ শেখানোর বার্তার পর আরও বেপরোয়া তৃণমূল বিধায়ক

source : সংবাদ প্রতিদিন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) তাঁর বিতর্কিত ও চাঁছাছোলা বয়ানের জন্য বরাবরই চর্চায় থাকেন। তবে এবার লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাঁর এক চরম উস্কানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাঁর ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যের জেরে মুর্শিদাবাদের দুটি পৃথক থানা থেকে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাঁকে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কড়া হুঁশিয়ারি এবং পুলিশি সমন—কোনো কিছুকেই যে তিনি পাত্তাই দিচ্ছেন না, তা বুধবার নিজের মন্তব্যে ফের প্রমাণ করলেন এই হেভিওয়েট নেতা।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শুক্রবার। রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার একটি জনসভা থেকে বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছিলেন:
“বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু-একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।”
এরপরই আরও একধাপ এগিয়ে শক্তিপুরের এক সভা থেকে সরাসরি পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন বলেন, “ভোটের আগের দিন আমার ভাইপোকে গ্রেপ্তার করেছেন ওসি। তাঁকে আগে দেখব। ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে থানা থেকে ওকে বের করব। পারলে রুখে দেখান।”
হুমায়ুন কবীরের এই প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও আইন অমান্য করার মন্তব্যের পর সোমবার বিধানসভায় কড়া বিবৃতি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুমায়ুনের নাম না করে তিনি কড়া ভাষায় বলেন:
“এই দুটো ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে এনাফ ইজ এনাফ। এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর সময় এসেছে। মনে রাখবেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে সেসময় যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এখন এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। বিএনএস (BNS)-এর ধারা দিয়ে দুটো কেস রুজু করেছি। আইন শেষ কথা বলবে, কোনো বাপের বেটা না।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালেই হুমায়ুনের বাড়িতে পৌঁছে যায় জোড়া নোটিশ। এমনকি ওই বিতর্কিত সভার তিন আয়োজককে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তারও করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের সাঁড়াশি চাপের মুখেও কিন্তু নতিস্বীকার করতে রাজি নন রেজিনগরের এই দাপুটে নেতা। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সম্পূর্ণ বেপরোয়া মনোভাব দেখান।
- তলব এড়ানো: হুমায়ুন বলেন, “দুটো নোটিশ পেয়েছি। ৩ তারিখ শুক্রবার আমি যাচ্ছি না। পরের দিন দেখি, ভাবছি যাব।”
- গ্রেপ্তারিকে পাত্তা না দেওয়া: “কী করবে, গ্রেপ্তার করবে? ওসবের পরোয়া করি না। আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিতে এলে…। আমাকে জেলে নিয়ে গেলে ‘জেলে চলো, জেলে ভরো’ করব। দেখি কে কী করে।”
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার যে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিচ্ছে, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ সফর’ এবং অন্যদিকে হুমায়ুনের ‘জেলে চলো’ আন্দোলনের পাল্টা চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩ জুলাই শুক্রবার হাজিরা না দিলে পুলিশ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।






