Rath Yatra Subsidy: রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি সাহায্য! পূর্বতন সরকারকে তোপ দেগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

source : আনন্দবাজার
রাজ্যের ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং লোকসংস্কৃতিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি ও উৎসাহ দিতে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সোমবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন যে, রাজ্যের দশকের পর দশক পুরনো ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। একই সাথে, উৎসব-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আটকে না থেকে সনাতনী ঐতিহ্যের অংশীদার হতে চায়।
৬০টি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকার অনুদান ও রথ সংস্কারের বার্তা
সোমবার এক প্রশাসনিক বা দলীয় কর্মসূচী থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের রথযাত্রা উৎসব নিয়ে সরকারের এই নতুন নীতির কথা জানান। তিনি বলেন, রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমন ৬০টি কমিটিকে সরকার চিহ্নিত করেছে, যারা দশকের পর দশক ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রথযাত্রা উৎসব পালন করে আসছে। সোমবারই তাদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এই অনুদান প্রসঙ্গে রথযাত্রা কমিটিগুলির কাছে একটি বিশেষ অনুরোধও রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন—
“সরকারি সহায়তার এই অর্থ যেন রথযাত্রার জাঁকজমক বাড়ানোর চেয়ে পুরনো রথের সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা হয়। বিশেষত যে সমস্ত রথ কাঠের তৈরি এবং দীর্ঘদিনের পুরনো, সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও পুর্ননির্মাণে এই টাকা কাজে লাগালে আমাদের ঐতিহ্য দীর্ঘস্থায়ী হবে।”
পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ ও ‘মহীরূহ’ হওয়ার স্বপ্ন
এই অনুদানকে উৎসবের রাজনীতি নয়, বরং ‘ঐতিহ্যে অংশগ্রহণ’ হিসেবেই দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের সরকারগুলো শুধু কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশকে পাঠিয়ে আর ব্যারিকেড দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব সেরে ফেলত। উৎসবের সাথে সরকারের কোনো আত্মিক টান ছিল না। কিন্তু আমাদের সরকার সরকারিভাবে রাজ্যের এই ঐতিহ্যপূর্ণ উৎসবে অংশ নিচ্ছে।”
প্রথম বছর হওয়ায় কমিটির তালিকা তৈরিতে কিছু খামতি থাকতে পারে—তা স্বীকার করে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর কাছে ‘ক্ষমাসুন্দর’ দৃষ্টির আর্জি জানান। তাঁর কথায়, “আজ যে অনুদানের বৃক্ষ রোপিত হল, আগামী দিনে তা মহীরূহে পরিণত হবে। আগামী বছরগুলিতে আরও নিখুঁত ও বড় তালিকা তৈরি করে এই ব্যবস্থাকে আরও দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।”
[শুভেন্দু সরকারের নয়া উৎসব অনুদান]
* টার্গেট উৎসব: রথযাত্রা ও শ্রাবণী মেলা উৎসব।
* রথযাত্রা কমিটির সংখ্যা: ৬০টি প্রবীণ কমিটি।
* আর্থিক অনুদানের পরিমাণ: প্রতিটি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা।
* প্রধান লক্ষ্য: কাঠের ও পুরনো রথের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ।
শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ উপহার
রথযাত্রার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হতে চলেছে পবিত্র শ্রাবণ মাস। সেই উপলক্ষেও রাজ্যের শিবভক্ত ও পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ চমক রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি সোমবার জানিয়েছেন, শ্রাবণ মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের জল ঢালা এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ সরকারি পরিষেবা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এই পাইলট প্রজেক্ট বা পরিষেবার জন্য প্রাথমিকভাবে রাজ্যের তিনটি বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক শিব মন্দিরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও সেই তিনটি মন্দিরের নাম আজ তিনি নির্দিষ্ট করে খোলসা করেননি, তবে প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, তারকেশ্বর বা ওই জাতীয় প্রধান শৈবতীর্থগুলি এই তালিকায় থাকতে পারে।
এক নজরে রাজ্য সরকারের রথযাত্রা অনুদান ২০২৬:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার মূল বিবরণী |
| ঘোষণাকারী | মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পশ্চিমবঙ্গ। |
| আর্থিক প্যাকেজ | ৬০টি কমিটি $\times$ ৫ লক্ষ টাকা = মোট ৩ কোটি টাকা। |
| আবেদনের শর্ত | কমিটিকে দশকের পর দশক ধরে রথযাত্রা করার ইতিহাস থাকতে হবে। |
| পরবর্তী পরিকল্পনা | শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থীদের জন্য ৩টি মন্দিরে বিশেষ সরকারি সাহায্য। |
| রাজনৈতিক বার্তা | পূর্বতন সরকারের ‘পুলিশি দায়িত্ব’ বনাম বর্তমান সরকারের ‘ঐতিহ্যে অংশ’। |
পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রা বা দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবে ক্লাব বা কমিটিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার চল নতুন নয়, তবে শুভেন্দু অধিকারী সরকার ক্ষমতায় আসার পর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক সাহায্য এবং রথ সংস্কারের ওপর জোর দেওয়াকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিরোধীরা একে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি বলে কটাক্ষ করতে পারলেও, রাজ্যের ছোট-বড় ঐতিহ্যবাহী রথ কমিটিগুলি যে এই ৫ লক্ষ টাকার অনুদানে প্রভূত উপকৃত হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।






