Abhishek Banerjee Voice Sample Case: কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার দিনেও স্বস্তি নেই! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি ফেরালেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ, মামলা গেল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে

source : আনন্দবাজার
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উস্কানিমূলক বা বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ফের আইনি জট পাকাল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। নিম্ন আদালত কর্তৃক তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) সংগ্রহের নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে স্থগিতাদেশের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ সেই আবেদন ফিরিয়ে দেওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়লেন কালীঘাটের মেজো খোকা।
ঘটনার সূত্রপাত বিগত বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময়। নির্বাচনী জনসভা থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়, যার তদন্তভার যায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র (CID) হাতে। এই এফআইআর খারিজের দাবিতে আগেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। সেই মূল মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেককে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার শর্তে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়ে রেখেছেন।
তবে সম্প্রতি সিআইডি তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের সত্যতা যাচাই করতে বিধাননগর আদালতের দ্বারস্থ হয়। নিম্ন আদালত নির্দেশ দেয় যে, আগামী ৩০ জুন একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। সিআইডি এই সংক্রান্ত নোটিস অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়েও দিয়ে আসে।
নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার হাইকোর্টে পৃথক মামলা করেন অভিষেক। বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এটি তালিকাভুক্ত থাকলেও, তাঁর অনুপস্থিতির কারণে মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।
শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেল রাজনৈতিক সভা থেকে ওই মন্তব্য করার কথা নিজেই স্বীকার করছেন। সুতরাং, নতুন করে তদন্তে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের কোনও যৌক্তিকতা বা প্রয়োজনীয়তা নেই। এই যুক্তি খারিজ করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানান:
“তদন্তের স্বার্থে ঠিক কোন জিনিসটি প্রয়োজন এবং কোনটি অপ্রয়োজনীয়, তা কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে আদালত আগাম বলে দিতে পারে না। ফলে তদন্তে কণ্ঠস্বর প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করার এক্তিয়ার আদালতের নয়।”
অভিষেকের আইনজীবীর তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, আজ নমুনা না দিলে নিম্ন আদালতের নির্দেশ অবমাননার দায়ে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে সিআইডি, তাই অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হোক। কিন্তু বিচারপতি ঘোষ সেই আবেদনও নাকচ করে দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, মূল মামলায় ইতিমধ্যেই আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ রয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে সেই বেঞ্চই উপযুক্ত নির্দেশ দেবে।
এরপরই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর (Recusal) কথা ঘোষণা করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি সমগ্র আবেদনটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন। এখন প্রধান বিচারপতিই সিদ্ধান্ত নেবেন যে, অভিষেকের এই আবেদনটি কোন বিচারপতির এজলাসে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবারই ছিল সিআইডি-র সিডিউল অনুযায়ী অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের চূড়ান্ত দিন। হাইকোর্ট থেকে তাৎক্ষণিক কোনও রক্ষাকবচ বা স্থগিতাদেশ না পাওয়ায় আইনি দিক থেকে তৃণমূল সাংসদের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়ল। এখন দেখার, এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সিআইডি আজই পরবর্তী কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, নাকি প্রধান বিচারপতির এজলাসের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করে।






