Bangladesh Domestic Violence Cases: ধূপের ছেঁকা ও অত্যাচারের চরম বদলা! ফরিদপুরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অন্যদিকে কুমিল্লায় ধর্ষকের গলা কেটে সাবাড় করলেন বধূ

source : সংবাদ প্রতিদিন
প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে পর পর দুটি পৃথক ঘটনায় চরম হিংসা ও পারিবারিক হিংসার (Domestic Violence) এক মারাত্মক রূপ সামনে এল। একদিকে ফরিদপুরে স্বামীর পরকীয়া ও নৃশংস অত্যাচারের বদলা নিতে তাঁর গোপন অঙ্গ কেটে নেওয়ার মতো হাড়হিম করা অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলায় সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে এক প্রতিবেশী যুবকের গলা কেটে খুনের চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এক গৃহবধূ। দুটি ভিন্ন সামাজিক অপরাধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে ওপার বাংলার প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরিদপুরের হোগলাডাঙ্গী সদরদি গ্রামের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী যুবক হানিফ শেখের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। সুমাইয়ার দাবি, হানিফের একাধিক মহিলার সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এই পরকীয়া নিয়ে প্রতিবাদ করলেই হানিফ তাঁর ওপর চড়াও হতেন। এমনকি মারধরের পাশাপাশি সুমাইয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশে জ্বলন্ত মশার ধূপের ছেঁকা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ।
গত রবিবার রাতে হানিফ বাড়িতে এসে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার ভোরের দিকে সুমাইয়া আক্তার তীব্র আক্রোশ ও যন্ত্রণার বশে একটি ধারাল ব্লেড দিয়ে ঘুমন্ত হানিফের পুরুষাঙ্গ কেটে নেন। হানিফের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Faridpur Medical College Hospital) স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে গ্রেফতার করেছে।
অন্য একটি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায়। সেখানে মহম্মদ বাহার নামের এক স্থানীয় যুবককে গলা কেটে নৃসংশভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক বধূর বিরুদ্ধে। পুলিশ ইতিপূর্বেই অভিযুক্ত ওই গৃহবধূ ঝুমুরকে আটক করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ঝুমুর পুলিশের কাছে দাবি করেছেন যে, প্রতিবেশী ওই যুবক বাহার দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর ওপর কুদৃষ্টি রাখছিল। ঘটনার দিন বাহার জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করার (Attempt to Rape) চেষ্টা করে। সেই সময় নিজের সম্ভ্রম ও জীবন বাঁচাতে আত্মরক্ষার্থেই (Self Defense) ঘরের ধারাল অস্ত্র দিয়ে বাহারের গলা কেটে দেন তিনি। এই বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে কুমিল্লার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
এই দুটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশে নতুন করে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা ও গার্হস্থ্য নির্যাতন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, ফরিদপুরের ঘটনাটি যেখানে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার উদাহরণ, সেখানে কুমিল্লার ঘটনাটি ভারতীয় ও বাংলাদেশী দণ্ডবিধিতে আইনসম্মত ‘আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার’ (Right of Private Defense)-এর সীমানার মধ্যে পড়ে কি না, তা আদালত খতিয়ে দেখবে।
পারিবারিক নির্যাতন হোক বা নারীর ওপর যৌন হেনস্তা—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনই কাম্য নয়। ফরিদপুরের সুমাইয়া এবং কুমিল্লার ঝুমুর—দুই নারীই বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনারই গভীরে গিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালতের পরবর্তী আইনি বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।






