কোচিং শিক্ষকের সঙ্গে বেলুড়মঠ ঘুরতে গিয়ে চরম বিপত্তি! বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের মর্মান্তic মৃত্যু, তদন্তে জিআরপি

কোচিং শিক্ষকের হাত ধরে বন্ধুদের সঙ্গে মনের আনন্দে বেলুড়মঠ ঘুরতে গিয়েছিল একদল ছাত্র। সারাদিন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাটার পর রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে গেল চরম বিপত্তি। চলন্ত ট্রেন থেকে আচমকা পড়ে গিয়ে প্রাণ হারাল এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান স্টেশনের কাছাকাছি গাংপুর বড়কা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। নিহতের নাম পরমব্রত মণ্ডল (১৭)। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার তথা সমগ্র কাঁকসা এলাকায়।
যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পরমব্রত মণ্ডল কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুরের বাসিন্দা। বুধবার সকালে কোচিং শিক্ষকের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে বেলুড়মঠ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সে। সারাদিন বেলুড়মঠে কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বেলুড় স্টেশন থেকে হাওড়া-বর্ধমান লোকাল ট্রেনে ওঠে তারা।
ট্রেনটি বর্ধমান স্টেশনে ঢোকার কিছু আগে গাংপুর বড়কা ব্রিজের কাছে পৌঁছলে আচমকাই চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে পড়ে যায় পরমব্রত। ট্রেন থামার পর সহপাঠী ও স্থানীয়দের তত্পরতায় খবর দেওয়া হয় বর্ধমান আরপিএফ (RPF) ও জিআরপি-কে (GRP)।
[ঘটনার বিবরণী ও আইনি পদক্ষেপ]
* নিহতের পরিচয়: পরমব্রত মণ্ডল (১৭ বছর), দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
* বাসস্থান: ত্রিলোকচন্দ্রপুর, কাঁকসা, পশ্চিম বর্ধমান।
* দুর্ঘটনার স্থান: গাংপুর বড়কা ব্রিজ এলাকা, বর্ধমান।
* ট্রেনের বিবরণ: হাওড়া-বর্ধমান লোকাল ট্রেন।
* পুলিশি উদ্ধারকার্য: বর্ধমান জিআরপি ও আরপিএফ দ্বারা দেহ উদ্ধার ও বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত।
উঠছে নিরাপত্তার প্রশ্ন, খতিয়ে দেখছে জিআরপি
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বর্ধমান আরপিএফ এবং জিআরপি পুলিশ। রক্তসংক্রান্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছাত্রটিকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—
- চলন্ত ট্রেনের গেটের ধারে কীভাবে ওই ছাত্র দাঁড়িয়েছিল?
- সাথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোচিং শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন ছাত্রদের ট্রেনের গেটে দাঁড়াতে নিষেধ করা হলো না?
- এটি কি কেবলই একটি দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়া, নাকি ভিড়ের চাপে পড়ে যাওয়ার মতো অন্য কোনো কারণ রয়েছে?
পরিবারে শোকের ছায়া
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরমব্রতর বাবা-মা ও আত্মীয়স্বকারীরা। দ্বাদশ শ্রেণির এক সম্ভাবনাময় ছাত্রের এভাবে আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা কাঁকসা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সঙ্গে থাকা শিক্ষক ও সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে জিআরপি।
এক নজরে ট্রেন দুর্ঘটনা ও ছাত্রের মৃত্যু:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| মৃতের নাম | পরমব্রত মণ্ডল (১৭) |
| শ্রেণি ও স্কুল এলাকা | দ্বাদশ শ্রেণি, কাঁকসা (ত্রিলোকচন্দ্রপুর) |
| ঘটনাস্থল | গাংপুর বড়কা ব্রিজ, বর্ধমান |
| গন্তব্য | বেলুড়মঠ থেকে বাড়ি ফেরা (হাওড়া-বর্ধমান লোকাল) |
| তদন্তকারী সংস্থা | বর্ধমান জিআরপি ও আরপিএফ |
ট্রেনে যাতায়াতের সময় গেটের কাছে দাঁড়ানো বা ভিড়ের মধ্যে অসাবধানতা যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা ফের একবার প্রমাণ করল এই মর্মান্তিক ঘটনা। একটি সুন্দর ভ্রমণের শেষটা যে এভাবে বিষাদে পরিণত হবে, তা ভাবতেও পারেননি নিহতের পরিবার ও সহপাঠীরা।






