Srijan Kundu India Book of Records: আধো-আধো কথায় হনুমান চল্লিশা ও ৩৭ দেশের পতাকা মুখস্থ! ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ নাম তুলল পশ্চিম বর্ধমানের ২ বছরের সৃজন

source : সংবাদ প্রতিদিন
যে বয়সে শিশুরা ঠিকমতো কথা বলতে বা নিজের নামটুকু স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে পারে না, সেই বয়সে সে অনর্গল আবৃত্তি করছে হনুমান চল্লিশা! পশুপাখি, ফলমূল বা সবজির নাম তো নস্যি, ছবি দেখামাত্রই বলে দিতে পারে বিশ্বের ৩৭টি দেশের জাতীয় পতাকা আর ভারতের কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম। পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুর গ্রামের খুদে সৃজন কুণ্ডুর (Srijan Kundu) এই অসামান্য মেধা দেখে আজ তাজ্জব আপামর রাজ্যবাসী। আর তার এই ঈশ্বরপ্রদত্ত ‘বিস্ময় প্রতিভা’কে খুঁজে বের করে সম্মান জানাল ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’। ২০২৬ সালের রেকর্ডে স্বর্ণাক্ষরে নাম উঠেছে এই খুদে বাঙালির।
৩ বছর পেরনোর আগেই জ্ঞানের ভাণ্ডার, ছবি দেখলেই চটজলদি উত্তর
সৃজনের বয়স এখন মাত্র ২ বছর ৮ মাস। কিন্তু তার সাধারণ জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তির পরিধি যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বা সাধারণ বুদ্ধির নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বয়সেই সৃজন সহজে চিহ্নিত করতে পারে ৬টি পোকামাকড়, ৬টি সরীসৃপ, ১৫টি বন্য ও গৃহপালিত প্রাণী এবং ১৫টি সবজি।
এখানেই শেষ নয়, তার মগজাস্ত্রের দৌড় কতখানি তা বোঝা যায় যখন সে ছবি দেখামাত্রই দেশের ১৪ জন স্বাধীনতা সংগ্রামী, ১৮ জন দেবদেবীর বাহন এবং মানবদেহের ২০টি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাম বলে দেয়। এছাড়াও বিশ্বের ৩৭টি দেশের জাতীয় পতাকা মুখস্থ তার। বাংলা ও ইংরেজিতে সপ্তাহের সাত দিনের নাম, বছরের ১২টি মাসের নাম, ১২টি কঠিন বৈদিক মন্ত্র এবং ভারতের ৮টি জাতীয় প্রতীকের নামও সে অনর্গল বলে যেতে পারে।
খেলার ছলেই হনুমান চল্লিশা মুখস্থ! অবাক মা রিম্পা
সৃজনের বাবা সুখেন কুণ্ডু পেশায় একজন সাধারণ সিভিক ভলান্টিয়ার এবং মা রিম্পা কুণ্ডু গৃহবধূ। তাঁরা জানান, সৃজন যখন খুব ছোট, তখন থেকেই তাঁরা লক্ষ্য করেছিলেন যে ছেলের স্মরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর। বাড়িতে বা বাইরে কোনো জিনিস একবার দেখলে সে খুব সহজে তা মাথায় গেঁথে নিত।
সৃজনের মা রিম্পা কুণ্ডু জানান—
“আমি একদিন পুজো করার সময় ওকে খেলার ছলে হনুমান চল্লিশা শেখাতে শুরু করেছিলাম। ভাবিনি ও এতটা মনে রাখতে পারবে। কিন্তু অবাক করার মতো ঘটনা হলো, মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো হনুমান চল্লিশা দ্রুত মুখস্থ করে ফেলে সৃজন। এখন যখনই ওকে বলা হয়, ও আধো-আধো কথায় অনর্গল সবার সামনে হনুমান চল্লিশা আবৃত্তি করে শোনায়।”
[খুদে সৃজন কুণ্ডুর বিস্ময়কর মেধার খতিয়ান]
* বয়স: ২ বছর ৮ মাস।
* মুখস্থ যা যা: ৩৭ দেশের পতাকা, ১৪ স্বাধীনতা সংগ্রামী, ১৮ দেবদেবীর বাহন।
* আধ্যাত্মিক জ্ঞান: হনুমান চল্লিশা ও ১২টি বৈদিক মন্ত্র।
* জীবজগৎ ও বিজ্ঞান: ১৫টি প্রাণী, ১৫টি সবজি, ২০টি মানব অঙ্গ।
* স্বীকৃতি: ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-২০২৬।
যেভাবে এলো ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এর স্বীকৃতি
ছেলের এই অসাধারণ ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা দেখে ঘরে বসে থাকতে চাননি সিভিক ভলান্টিয়ার বাবা সুখেন কুণ্ডু। তিনি অনলাইনের মাধ্যমে ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ (India Book of Records) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর ইমেলের মাধ্যমে সৃজনের হনুমান চল্লিশা আবৃত্তি, মন্ত্রোচ্চারণ এবং পতাকা চেনার বিভিন্ন দক্ষতার ভিডিও ক্লিপ পাঠানো হয়।
রেকর্ড বুক কর্তৃপক্ষ সৃজনের এই ভিডিওগুলি পর্যালোচনা করে রীতিমতো মুগ্ধ হন। সমস্ত বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৬ সালের সংস্করণে সৃজনকে ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয় এবং তাঁর শংসাপত্র ও মেডেল বাড়িতে পাঠানো হয়। ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত সুখেন ও রিম্পা কুণ্ডু বলেন, “আমাদের ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। আমরা চাই ও বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হোক এবং সমাজের জন্য কাজ করুক। সকলের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা যেন ওর সঙ্গে থাকে।”
এক নজরে পাণ্ডবেশ্বরের বিস্ময় বালক:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | সৃজন কুণ্ডুর রেকর্ডের বিবরণ |
| নাম ও বয়স | সৃজন কুণ্ডু (২ বছর ৮ মাস)। |
| বাসস্থান | হরিপুর গ্রাম, পাণ্ডবেশ্বর, পশ্চিম বর্ধমান। |
| বাবার পেশা | সুখেন কুণ্ডু (সিভিক ভলান্টিয়ার)। |
| সেরা দক্ষতা | নিখুঁত স্মরণশক্তি, হনুমান চল্লিশা ও ফ্ল্যাগ মেমোরি। |
| অর্জন | ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস ২০২৬-এর সার্টিফিকেট ও মেডেল। |
বাঙালির মেধার জয়জয়কার বিশ্বজুড়ে, আর পাণ্ডবেশ্বরের এই ছোট্ট সৃজন যেন প্রমাণ করে দিল যে মেধা কোনো বড় শহর বা ধনকুবের পরিবারের একচেটিয়া অধিকার নয়। এক সাধারণ সিভিক ভলান্টিয়ারের ঘরে জন্ম নিয়েও নিজের প্রখর মেধার জোরে আজ সে খবরের শিরোনামে। সৃজনের এই সাফল্যে আনন্দের হাওয়া পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুর গ্রামে। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনরা এখন ভিড় করছেন কুণ্ডু বাড়িতে, এই পুঁচকে জাদুকরের মুখ থেকে হনুমান চল্লিশা শোনার জন্য।






