স্বামী-সন্তানকে হারানোর পর গ্রাস করেছিল একাকিত্ব! ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার প্রৌঢ়ার এক বছরের পুরনো কঙ্কাল, থমথমে বেঙ্গালুরু

কংক্রিটের মহাজাগতিক আধুনিক শহরে মানুষ আজ কতটা একা, তারই এক শিউরে ওঠা ও মর্মান্তিক বাস্তব প্রমাণ মিলল বেঙ্গালুরুতে। একটি বন্ধ ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হলো ৫২ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়া মহিলার উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ও কঙ্কাল। প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, অন্তত এক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সুদীর্ঘ ৩৬৫ দিন ধরে স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়— কেউই ওই প্রৌঢ়ার দরজায় কড়া নাড়েননি বা ফোনে যোগাযোগ করেননি।
কীভাবে সামনে এলো এই মর্মান্তিক ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর বাগালাগুন্টে আবাসিক অঞ্চলে। মৃত মহিলার নাম দাক্ষায়ণী (৫২)। গত বেশ কিছুদিন ধরে ঘরটি বন্ধ থাকায় ও সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।
পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় গোয়েন্দাদের। ঘরের মেঝেই পড়ে রয়েছে এক বছরেরও বেশি পুরনো একটি মানব কঙ্কাল। পুলিশ দেহাবশেষ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
[ঘটনা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্যপঞ্জি]
* মৃত ব্যক্তি: দাক্ষায়ণী (বয়স ৫২ বছর)।
* স্থান: বাগালাগুন্টে এলাকা, বেঙ্গালুরু (কর্ণাটক)।
* আনুমানিক মৃত্যুর সময়: অন্তত ১ বছর পূর্বে।
* পারিবারিক ট্র্যাজেডি: স্বামী মৃত (১০ বছর আগে), একমাত্র ছেলে ক্যানসারে মৃত।
* বর্তমান পদক্ষেপ: অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু ও ফরেনসিক পরীক্ষা।
স্বজন হারানোর যন্ত্রণা ও একাকিত্বের গ্রাস
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রৌঢ়ার অতীত জীবন ছিল ট্র্যাজেডিতে ভরা। বছর দশেক আগে হৃদরোগ বা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর স্বামী। সেই শোক সামলে ওঠার আগেই ক্যানসার কেড়ে নেয় তাঁর একমাত্র তরুণ ছেলেকে।
পরপর দুটি মর্মান্তিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছিলেন দাক্ষায়ণী। একাকী ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে মানসিক বিষাদ ও তীব্র ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন তিনি। যদিও তাঁর এক বিবাহিত মেয়ে ও জামাই রয়েছেন, তবুও তাঁরা বা অন্যান্য আত্মীয়রা বছরের পর বছর ধরে ওই প্রৌঢ়ার জীবনের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি।
প্রশ্নচিহ্নের মুখে বহুতল কেন্দ্রিক নাগরিক জীবন
এক বছরের মধ্যে কোনো এক দিনও প্রৌঢ়া মা কেমন আছেন তা জানতে মেয়ে বা জামাই চেষ্টা কেন করলেন না, তা ভেবে স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। একই সাথে আশেপাশের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও কীভাবে এক বছর ধরে একটি মানুষের অনুপস্থিতি টের পেলেন না, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
সামাজিক মাধ্যমে মানুষ হাজার মানুষের সঙ্গে যুক্ত হলেও, বাস্তব জীবনে ফ্ল্যাটকেন্দ্রিক আত্মকেন্দ্রিকতা ও চারপাশের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা কীভাবে একাকিত্বকে মহামারীর রূপ দিচ্ছে, বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা সেই রূঢ় সত্যকেই নতুন করে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

এক নজরে বেঙ্গালুরুর ঘটনা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ঘটনাস্থল | বাগালাগুন্টে, বেঙ্গালুরু |
| মৃত প্রৌঢ়া | দাক্ষায়ণী (৫২) |
| মৃত্যুর ধরন | সন্দেহজনক অস্বাভাবিক মৃত্যু (তদন্তাধীন) |
| তদন্তকারী সংস্থা | বাগালাগুন্টে থানা পুলিশ |
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অসুস্থতা না আত্মহত্যা— তা স্পষ্ট হবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের পরই। তবে এই ঘটনা শহরের আলোকোজ্জ্বল জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার ও সামাজিক নিঃসঙ্গতার এক করুণ ছবি ফুটিয়ে তুলল।






