সপ্তম পে কমিশন গঠনে বড় পদক্ষেপ নবান্নের! জারি নতুন বিজ্ঞপ্তি, ৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় হারে ভাতার ইঙ্গিত

রাজ্য সরকারের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক বিশাল খবর! বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে নবান্নের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক রূপরেখা বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের বিপুল প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন। তার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত সপ্তম পে কমিশন গঠনের যে ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এদিনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি তারই এক বড় প্রতিফলন।
৩% থেকে ৫% বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব ও ক্যালোরি মানদণ্ড
মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক প্রস্তাবটি হলো ইনক্রিমেন্ট সংক্রান্ত। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমানে সরকারি কর্মীদের জন্য থাকা ৩ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি, ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে এখন থেকে ৫ জনের পরিবারকে মূল একক ধরে পুষ্টির মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে। পূর্বে যেখানে দৈনিক ২,৭০০ ক্যালোরি ধরে ন্যূনতম বেতন হিসাব করা হতো, এবার তা বাড়িয়ে দৈনিক ৩,৪৯০ ক্যালোরি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
[সপ্তম পে কমিশনের মূল প্রস্তাবনাবলী]
* বার্ষিক বৃদ্ধি (Increment): ৩% থেকে বৃদ্ধি করে ৫% করার প্রস্তাব।
* পুষ্টি মানদণ্ড: ২,৭০০ ক্যালোরি থেকে বৃদ্ধি করে ৩,৪৯০ ক্যালোরি (৫ জনের পরিবার ভিত্তিক)।
* ভাতা সামঞ্জস্য: কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিএ, বাড়ি ভাড়া ও পরিবহণ ভাতা।
* অবসরকালীন সংস্কার: কমিউটেড পেনশন ১১ বছরে পুনরুদ্ধার এবং ৩০ জুন অবসরপ্রাপ্তদের ১টি ইনক্রিমেন্ট।
* রিপোর্টের সময়সীমা: গঠন হওয়ার পর থেকে ৬ মাস।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমান ডিএ ও বাড়ি ভাড়া ভাতার সুযোগ!
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পে কমিশনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বেতনের বৈষম্য মেটাতে তৎপর নবান্ন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচিত হবে।
মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রে একটি ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ রুল তৈরির সুপারিশের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া (HRA), পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা ও হোস্টেল ভর্তুকি নির্ধারণেও কেন্দ্রের নির্দেশিকাকে মডেল হিসেবে ধরা হতে পারে।

অবসরপ্রাপ্তদের জন্য একগুচ্ছ স্বস্তির বিধান
অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের সুবিধার ক্ষেত্রেও কমিশন বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের খসড়া তৈরি করেছে:
- কমিউটেড পেনশন: ১৫ বছরের পরিবর্তে ১১ বছর অতিক্রম করলেই কমিউটেড পেনশন পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
- ছুটির নগদীকরণ: অবসরের সময় জমানো ছুটির সমপরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজতর করা।
- ৩০ জুনের ইনক্রিমেন্ট: যেসব কর্মীরা ৩০ জুন অবসর গ্রহণ করেন, তাঁরা ১ জুলাইয়ের নির্ধারিত বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পান না। নতুন নিয়মে তাঁদের সেই একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের সুবিধা দেওয়ার নীতি পর্যালোচনা করা হবে।
এক নজরে নবান্নের পে কমিশন বিজ্ঞপ্তি:
| প্রস্তাবিত বিষয় | বর্তমান নিয়ম | পে কমিশনের প্রস্তাবিত খসড়া |
| বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট | ৩% | ৫% করার প্রস্তাব |
| দৈনিক ক্যালোরি মানদণ্ড | ২,৭০০ ক্যালোরি | ৩,৪৯০ ক্যালোরি |
| কমিউটেড পেনশন পুনরুদ্ধার | ১৫ বছর | ১১ বছর |
| ডিএ ও অন্যান্য ভাতা | রাজ্যের নিজস্ব স্কেল | কেন্দ্রীয় স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ |
| রিপোর্ট জমার সময়সীমা | – | ৬ মাস |
রাজ্য সরকারি, সরকার পোষিত এবং আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ও পদোন্নতি কাঠামোর খোলস বদলে দেবে এই সপ্তম পে কমিশন। আগামী ৬ মাসের মধ্যে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষায় নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।






