Iran-Israel Conflict: প্রয়াত আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে উপচে পড়া জনপ্লাবন, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ডাক!

source : সংবাদ প্রতিদিন
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এবার চরম যুদ্ধ ও প্রতিশোধের আবহ। প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ali Khamenei) রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানের রাজপথে আছড়ে পড়ল লাখ লাখ মানুষের ক্ষোভের জনপ্লাবন। শোক প্রকাশ তো দূরস্ত, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স’ (Imam Khomeini Grand Mosalla Complex) থেকে এবার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) হত্যার ডাক দিল ইরানবাসী।
‘ট্রাম্প কেন এখনও বেঁচে আছেন?’— তেহরানের মোসাল্লা কাঁপাল হুঙ্কার
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইজরায়েলের এক অভূতপূর্ব যৌথ ও বিধ্বংসী হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তাঁর মৃত্যুর দীর্ঘ ১২৬ দিন পর শেষপর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টির আয়োজন করেছে ইরান প্রশাসন। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল শোকযাত্রা ইরাকের পবিত্র শিয়া শহর নাজাফ ও কারবালা পেরিয়ে শেষ হবে ইরানের মাশহাদে, যেখানে খামেনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে শোকানুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত জনতা আমেরিকার বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দেয়। জানাজা নামাজের ঠিক আগে ইরানের খ্যাতনামা কবি মহম্মদ রসৌলি (Mohammad Rasouli) প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বলেন—
“এখন থেকে কফিনই আমাদের পোশাক। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করা আমাদের জাতীয় শপথ। ট্রাম্প কেন এখনও বেঁচে আছেন? খামেনেইয়ের মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের যদি আমরা হত্যা করতে না পারি, তবে তা হবে সমগ্র ইরানি জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক।”
রসৌলির এই চরম মন্তব্যে উপস্থিত হাজার হাজার শোকাতুর মানুষ উচ্চস্বরে হাততালি ও স্লোগান দিয়ে সম্মতি জানান। পুরো চত্বর কেঁপে ওঠে— ‘আমেরিকা ও ইজরায়েলের মৃত্যু হোক’, ‘ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে হত্যা করা হোক’, ‘কোনো আপস নয়, শুধুই প্রতিশোধ’ স্লোগানে।
কফিনের পাশে তিন সন্তান ও রাষ্ট্রপ্রধানরা, অনুপস্থিত সুপ্রিম লিডার মোজতবা!
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়া লাইভ ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রয়াত সুপ্রিম লিডারের তিন পুত্র— মোস্তফা খামেনেই, মেসাম খামেনেই এবং মাসুদ খামেনেই বাবার কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে প্রার্থনা করছেন।
বাবার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian), পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবফ এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ আহমেদ ভাহিদি (Ahmed Vahidi)। তবে এই বিশাল ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রহস্যজনকভাবে দেখা যায়নি আলি খামেনেইয়ের আরেক ক্ষমতাশালী পুত্র তথা ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei)। তাঁর এই অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
[আলি খামেনেইয়ের শেষযাত্রার রুটম্যাপ]
১. তেহরান (শুরু): ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে জানাজা ও ট্রাম্প-বিরোধী গণবিক্ষোভ।
২. ইরাক (নাজাফ ও কারবালা): শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্রতম দুই শহরে পৌঁছাবে শোকযাত্রা।
৩. মাশহাদ (ইরান - শেষ): খামেনেইয়ের জন্মভিটে মাশহাদ শহরেই সম্পন্ন হবে চূড়ান্ত দাফনকার্য।
এক নজরে আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও খতিয়ান |
| মৃত্যুর তারিখ ও কারণ | ২৮ ফেব্রুয়ারি; ইরান-ইজরায়েলের বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত ও হামলা। |
| অন্ত্যেষ্টির সময়কাল | মৃত্যুর ঠিক ১২৬ দিন পর (জুলাই, ২০২৬)। |
| প্রধান স্লোগান ও দাবি | ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবিলম্ব হত্যা এবং চরম প্রতিশোধ। |
| উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা | প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্পিকার গালিবফ এবং আইআরজিসি প্রধান আহমেদ ভাহিদি। |
| রহস্যজনক অনুপস্থিতি | প্রয়াত নেতার ছেলে তথা বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। |
আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের এই অন্ত্যেষ্টি সমাবেশকে যেভাবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করল ইরান, তা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলতে পারে। সরাসরি আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার এই খোলাখুলি হুমকি হোয়াইট হাউস কীভাবে নেয় এবং এর জবাবে ওয়াশিংটন বা তেল আভিভ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।






