৭.১ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান! তড়িঘড়ি জারি সুনামি সতর্কতা, ফুকুশিমার স্মৃতি উসকে সতর্ক পরমাণু কেন্দ্রগুলি

প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ জাপানে ফের এক বড়সড় ভূকম্পনের আঘাত। মঙ্গলবার বিকেলে কেঁপে উঠল সূর্যোদয়ের দেশ। রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার এই কম্পনের সাথে সাথে উপকূলজুড়ে তৈরি হয়েছে সুনামির আতঙ্ক। তৎক্ষণাৎ উপকূলীয় লোকালয়গুলি খালি করার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন।
কিউশু দ্বীপে ৭.১ মাত্রার ধাক্কা, সমুদ্রের গভীরে উৎসস্থল
জাপানের আবহাওয়া দপ্তরের (JMA) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে জাপানের দক্ষিণে অবস্থিত কিউশু (Kyushu) দ্বীপের কু মামোতো অঞ্চলের কাছে এই জোরালো ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর ফলে উপকূলজুড়ে কম্পনের মাত্রা ছিল অত্যন্ত তীব্র। কম্পন থামার পরেই সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে উত্তাল হতে শুরু করায় তড়িঘড়ি পুরো অঞ্চলে সুনামি সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
[জাপান ভূমিকম্পের মূল বিবরণ]
* কম্পনের মাত্রা: ৭.১ (রিখটার স্কেল)।
* উৎসস্থল: প্রশান্ত মহাসাগর (১০ কিমি গভীরে)।
* সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল: কিউশু দ্বীপের কু মামোতো।
* জারি করা সতর্কতা: উপকূলে সুনামি অ্যালার্ট এবং পরমাণু চুল্লিতে বিশেষ নজরদারি।
উপকূলীয় অঞ্চল ফাঁকা করার নির্দেশ, আতঙ্কে একাধিক প্রদেশ
সুনামির আশঙ্কায় জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী নিচু এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে।
বিশেষ সতর্কতা জারি করা এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে:
- নাগাসাকি (Nagasaki)
- কাগোশিমা (Kagoshima)
- ফুকুওকা (Fukuoka)
- সাগা (Saga)
- ওইতা (Oita) এবং
- মিয়াজাকি (Miyazaki)
সুনামির বিশাল ঢেউ যে কোনো মুহূর্তে আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফুকুশিমার ভয়াল স্মৃতির পুনঃসংগঠন ও পরমাণু কেন্দ্রে অ্যালার্ট
এই ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর পুরো জাপানেই ২০১১ সালের ১১ মার্চের সেই অভিশপ্ত ফুকুশিমা পরমাণু বিপর্যয়ের (Fukushima Daiichi Disaster) আতঙ্ক ফিরে এসেছে। সেবার তোহোকু অঞ্চলের কাছে হওয়া ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পের জেরে সমুদ্র থেকে দৈত্যাকার সুনামি আছড়ে পড়ে তিনটি পরমাণু চুল্লি ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং এলাকায় বিপুল পরিমাণে রেডিওঅ্যাক্টিভ বা তেজস্ক্রিয় কণা ছড়িয়ে পড়েছিল।
চের্নোবিল কাণ্ডের পর পৃথিবীর ইতিহাসে সেটিই সবচেয়ে বড় পরমাণু বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হয়। যার পর তৎকালীন জাপান সরকার তাদের সবক’টি (৫৪টি) পরমাণু চুল্লিই বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে কিছু চুল্লি ফের চালু করা হয়। সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মঙ্গলবার ভূমিকম্পের পরেই দেশের সমস্ত পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | সর্বশেষ আপডেট |
| ভূমিকম্পের সময় | মঙ্গলবার বিকেল (২৮ জুলাই, ২০২৬)। |
| সুনামির ঝুঁকি | ১ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার সমুদ্র তরঙ্গ আসার সম্ভাবনা। |
| নিরাপত্তা পদক্ষেপ | উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরানোর কাজ শুরু। |
| পরমাণু সুরক্ষাব্যবস্থা | বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং সিস্টেম ও রিয়্যাক্টরে জরুরি মনিটরিং শুরু। |
ভূমিকম্পের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের জীবনহানি বা ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত রিপোর্ট না মিললেও, আগামী কয়েক ঘণ্টা সুনামি ও পরাঘাতের (Aftershocks) আশঙ্কায় চরম সতর্কতায় রয়েছে জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর।






