বাগদান হয়ে গিয়েছিল, দু’মাস পরেই ছিল বিয়ে! ইউক্রেনে শস্যবাহী জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হানায় মৃত কেরলের ২৬ বছরের অখিল

source : সংবাদ প্রতিদিন
একটি সাধারণ পরিবারের বড় সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ২৬ বছরের অখিল জয়ান। ১৯ বছর বয়সে মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দেওয়া এই তরুণ অফিসারের উপার্জনেই চলত তাঁদের চারজনের সংসার। কিন্তু এক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিমেষেই চুরমার করে দিল এক সাজানো পরিবার ও নবদম্পতির স্বপ্ন। ইউক্রেনের ওডেসা উপকূলে শস্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে যুদ্ধের আগুনে নিভে গেল অখিলের তাজা প্রাণ।
মাত্র দু’মাস বাদেই ছিল বিয়ে, অধরাই রয়ে গেল জীবনসঙ্গীর হাত ধরা
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছে, কেরলের কাসারগড় জেলার বাসিন্দা অখিল জয়ান পেশায় একজন দক্ষ মার্চেন্ট নেভি অফিসার ছিলেন। ক’দিন আগেই কয়েক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে নিজের ভিটেয় ফিরেছিলেন তিনি। সেই সময়েই ঘটা করে তাঁর বাগদান (Engagement) অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
আর ঠিক দু’মাস বাদেই বিয়ের দিন ধার্য ছিল অখিলের। বিয়ের পর যাতে নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে পরিবারের কাছাকাছি থাকা যায়, সে কারণে এই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার চাকরি ছেড়ে দিয়ে স্থলে অন্য কোনো পেশায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই কৃষ্ণসাগরের রক্তক্ষয়ী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারালেন অখিল।
[অখিল জয়ান ফাইল: জীবনপঞ্জি ও ট্র্যাজেডি]
* নাম: অখিল জয়ান (Akhil Jayan)
* বয়স: ২৬ বছর | বাসস্থান: কাসারগড়, কেরল
* পেশা: মার্চেন্ট নেভি অফিসার (চেন্নাই থেকে নটিক্যাল সায়েন্স পাস)
* পারিবারিক স্থিতি: পরিবারের একমাত্র সন্তান ও মূল উপার্জনক্ষম সদস্য
* পরিণতি: ১৯ জুলাই ২০২৬, ওডেসা উপকূলে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু
বাবা-মায়ের একমাত্র সম্বল ও উপার্জনের কাণ্ডারী
অখিলের বাবা কাসারগড়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের এক অতি সাধারণ দোকান চালান এবং মা কাজ করেন বিমা সংস্থায়। এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে চেন্নাইয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট থেকে নটিক্যাল সায়েন্সে ডিগ্রি অর্জনের পর মাত্র ১৯ বছর বয়সেই মার্চেন্ট নেভি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি।
পরিবারের একমাত্র সন্তান অখিলের অকালমৃত্যুতে কাসারগড়ের বাড়িসহ গোটা এলাকায় এখন স্বজন হারানোর কান্না ও হাহাকার।
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?
ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছেড়ে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ভুট্টা বোঝাই ‘গোল্ডেন লিও’ (Golden Leo) জাহাজটি কৃষ্ণসাগরে নামতেই হামলা চালানো হয়। বন্দর থেকে সামান্য দূরত্বে আচমকাই পরপর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে জাহাজটিতে। ১ জন গাইড পাইলট ও ৯ জন জাহাজকর্মীসহ মোট ১০ জন প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে অখিল ছাড়াও আরও ৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক ভারতীয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ভারত সরকার এবং সোমবারই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া চিঠি ও ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিদেশমন্ত্রক।
এক নজরে কেরল নাবিক অখিল জয়ানের মর্মান্তিক সমাপ্তি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও সাম্প্রতিক তথ্য |
| নিহত নাবিকের পরিচয় | অখিল জয়ান (২৬), কাসারগড় (কেরল)। |
| ঘটনার স্থান ও তারিখ | ওডেসা উপকূল, ইউক্রেন (১৯ জুলাই ২০২৬)। |
| কাজের পদবি | মার্চেন্ট নেভি অফিসার (গোল্ডেন লিও জাহাজ)। |
| পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড | বাগদান সম্পন্ন, দু’মাস পর বিয়ের কথা ছিল। |
| ভারতের পদক্ষেপ | ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব। |
ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের মাশুল বারবার গুনতে হচ্ছে নিরিহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের। অখিল জয়ানের এই অসময়ে চলে যাওয়া কেবল কেরলের একটি পরিবারকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল না, বরং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিকে আরও একবার কঠোরভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরল।






