“আমাদের সময় নষ্ট করবেন না!” সিজেপি-র বিক্ষোভে লাঠিচার্জ নিয়ে জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ শীর্ষ আদালতের, না বলল হাইকোর্টও

source : Sangbad Pratidin
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সংসদ অভিযান ও তার জেরে যন্তর মন্তরে দিল্লি পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল আন্দোলনকারী পক্ষ। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু মামলাকারীর সেই আর্জিতে একেবারেই কান না দিয়ে মামলাটি তড়িঘড়ি খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
“ভিডিও দেখার সময় নেই, সময় নষ্ট করবেন না”— প্রধান বিচারপতি
শীর্ষ আদালতে মামলাকারী আইনজীবী সওয়াল করেন যে, ১৬৩ ধারা অমান্য করে মিছিল এগোলেও পুলিশ যে বর্বরতা চালিয়েছে তা অসংবিধানিক। পুলিশি নিগ্রহের প্রমাণ দিতে কিছু ভিডিও আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে সেই আবেদনের উত্তরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়—
“আমরা আদালতের মূল্যবান সময় এভাবে নষ্ট করতে পারি না। কোনো ভিডিও দেখতে আমরা একেবারেই আগ্রহী নই এবং সেগুলি দেখার মতো অতিরিক্ত সময় আমাদের কাছে নেই। দয়া করে আদালতের এবং নিজেরও সময় নষ্ট করবেন না।”
আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর মামলাকারীর জরুরি শুনানির আর্জি পুরোপুরি খারিজ হয়ে যায়।
মৌলিক অধিকার ও সোনম ওয়াংচুক প্রসঙ্গ
মামলাকারী তাঁর লিখিত আবেদনে জানিয়েছিলেন, পুলিশের এহেন আগ্রাসী আচরণ নাগরিকদের সংবিধানসম্মত স্বাধীন মতামত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর এক ভীতিকর প্রভাব তৈরি করেছে।
আবেদনকারীর যুক্তি ছিল—
“এই মামলার মূল উদ্দেশ্য সোনম ওয়াংচুক বা কোনো বিশেষ আন্দোলনকারীর ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করা নয়। বরং দেশের প্রত্যেক সাধারণ নাগরিকের প্রাপ্য সাংবিধানিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাই দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।”
তবে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটির মধ্যে ঢোকার যৌক্তিকতা খুঁজে পায়নি।
[আইনি লড়াইয়ে জোড়া ধাক্কা: হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ]
* দিল্লি হাইকোর্ট: "আদালতকে এই রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে জড়াবেন না।"
* সুপ্রিম কোর্ট: "ভিডিও দেখার সময় আদালতের নেই, জরুরি সময় নষ্ট না করে আবেদন খারিজ করা হলো।"
হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঠিক আগের দিন মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টেও এই একই ইস্যুতে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে উচ্চ আদালতও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, আদালতের সময় অত্যন্ত মূল্যবান এবং এই ধরণের বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।
দুই আদালতেরই পর পর এই কঠোর অবস্থানে সিজেপি ও বিরোধী শিবিরের আইনি পদক্ষেপের বড় পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
এক নজরে আইনি আবেদনের বিষয় ও আদালতের রায়:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মামলাকারীর দাবি | সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায় |
| মূল অভিযোগ | পুলিশি লাঠিচার্জে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ। | জরুরি শুনানির আবেদন পুরোপুরি খারিজ। |
| প্রমাণের সওয়াল | লাঠিচার্জের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার আবেদন। | প্রধান বিচারপতির বার্তা: “ভিডিও দেখার সময় নেই।” |
| তদন্তের দাবি | বিশেষ কমিটি গঠন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর পদক্ষেপ। | হস্তক্ষেপ করতে নারাজ দুই আদালতই। |
দিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ও পুলিশের দমনপীড়ন নিয়ে দেশ জুড়ে রাজনৈতিক শোরগোল চললেও, আইনি ময়দানে ধাক্কা খেল আন্দোলনকারীরা। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট উভয়েই প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা জনিত এই বিতর্ক থেকে আদালতকে দূরে রেখে স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে অহেতুক মামলা দায়ের করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা চলবে না।






